
ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি : নিখোঁজের ১৩ বছর পর এক বোন ও ৮ বছর পর এক ভাইকে ফিরে পেলো তাদের নিজ পরিবার। শুক্রবার (১২ মার্চ) দুপুরে আখাউড়া সীমান্ত দিয়ে ভারতের ত্রিপুরাস্থ আগরতলায় বাংলাদেশ সহকারী হাই কমিশনার ও আখাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নিজ নিজ পরিবারের কাছে তাদের হস্তান্তর করেন।
২০০৮ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার বিটঘর ইউনিয়নের গুড়ি গ্রাম থেকে হারিয়ে যান মানসিক ভারসাম্যহীন শায়েস্তারা বেগম আর ২০১৩ সালে ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার ঝুমাইলকান্দা গ্রাম থেকে হারিয়ে যান ভারসাম্যহীন সমীর মজুমদার। ২০১৯ সালে মানবাধিকার কর্মী খায়রুল কবীরের বদৌলতে পরিবারের মানুষ খোঁজ পান দুজনেই ভারতের ত্রিপুরার মডার্ন সাইকিয়াটিক হাসপাতাল নামে একটি মানসিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এরপর দু দেশের উচ্চমহলে চিঠি চালাচালি ও ব্যাপক দৌড়ঝাঁপের মাধ্যমে সুদীর্ঘ সময় পর তারা ফিরে আসেন পরিবারের কাছে। এসময় তাদের কাছে পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন তাদের স্বজনেরা। আখাউড়া ইমিগ্রেশন পোষ্টের নো ম্যানস ল্যাণ্ডে দুপুর প্রায় দেড়টার দিকে তাদের গ্রহণ করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নূরে আলম ও তাদের স্বজনেরা।
এসময় তাদের সাথে করে সেখানে নিয়ে আসেন সহকারী হাই কমিশনার জুনায়েদ হাসান। শায়েস্তারা বেগমের ভাই ফজলুল হক ও সমীর মজুমদারের ছোট ভাই অমিয় মজুমদার অসীম বলেন, অনেক খোঁজাখুঁজি করেও হারিয়ে যাবার পর আমরা তাদের খোঁজ পাই নি। আমরা কৃতজ্ঞ।
ডেপুটি হাই কমিশনার জুনায়েদ হোসেন এসময় জানান ২০১৩ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর সমীরকে এবং ২০০৮ সালের ১৯ জানুয়ারি শায়েস্তারাকে আটক করে এবং মানসিক ভারসাম্য না থাকায় আদালতের নির্দেশনায় তাদের ত্রিপুরার মডার্ন সাইকিয়াটিক হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করে এবং সেখানেই তাদের চিকিৎসা চলছিলো।
এসময় স্বজনেরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে তাদের উদ্যোগের জন্য কৃতজ্ঞতা জানান।





