বরকলে মুজিবশতবর্ষে গৃহহীনরা ঘর পেয়ে সন্তুষ্টি ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ, আরও ঘরের জোর দাবি উপজেলাবাসীর।

0
11

মো: আরিফুল ইসলাম,রাঙামাটি জেলা ,মুজিবশতবর্ষ উপলক্ষে ভূমিহীন ও গৃহহীন হিসেবে ঘর পেয়েছে বরকল উপজেলার মাত্র ১৯টি ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবার।বিগত কিছুদিন আগে রাঙামাটিতে ২য় পর্যায়ে বরাদ্দকৃত ৬২৩ টি ঘড়ের একটিও পায় নি বরকল উপজেলাবাসী।

বরকলে মুজিবশতবর্ষে গৃহহীনরা ঘর পেয়ে সন্তুষ্টি ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ, আরও ঘরের জোর দাবি উপজেলাবাসীর।
বরকলে মুজিবশতবর্ষে গৃহহীনরা ঘর পেয়ে সন্তুষ্টি ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ, আরও ঘরের জোর দাবি উপজেলাবাসীর।

দুর্গম ও প্রাচীনতম এই উপজেলার অধিকাংশ মানুুষই দারিদ্রসীমার নিচে বসবাস করছেন।তবুও সর্বাত্মক বঞ্চিত হয়েছে উক্ত উপজেলার মানুষই।

প্রথম ধাপে নির্মিত ১৯ টি ঘড় পরিদর্শন করে দেখা যায়,বাজেটের সঙ্কুলতা এবং যোগাযোগের সুব্যাবস্থা না থাকা সত্বেও নির্মিত ঘড়গুলো যথেস্ট মানসম্মত করেই করা হয়েছে। দুর্গম পাহাড়ি বরকল উপজেলায় মুজিবশতবর্ষ উপলক্ষে ঘর পেয়ে ভীষণ খুশি উপকারভোগী ও এলাকাবাসীরাও।

কুরকুটিছড়ির বাসিন্দা হাজেরা বেগম বলেন, ‍“ভাঙ্গা ঘরে বৃষ্টি পড়ে, কোন রকম কষ্ট করে দিনযাপন করতাম। ছেলের ঘরে ০৬ জন, নাতি বউও আছে, এখন এক ঘরে তো জায়গাও হয় না। নতুন ঘড় পাওয়ার পর ভাঙা ঘর থেকে এই ঘরে এসে উঠেছি। প্রধানমন্ত্রীর জন্য আমি সবসময় নামাজ পড়ে দোয়া করি।”

বিলছড়া গ্রামের নিহার বালা চাকমা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেছেন, স্বামীর মৃত্যুর পর ভাঙ্গা ঘরে থাকতেন তারা। প্রধানমন্ত্রী তাকে ঘর করে দেওয়ায় তিন ছেলে মেয়ে নিয়ে এখন সেই ঘরে আছেন।

ভূষণছড়ার লালমন বেগম আবেগে আপ্লুত মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ঘর পেয়ে। তিনি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দীর্ঘায়ু কামনা করেন।

কলাবুনিয়ার রবিন্দ্র চন্দ্রের স্ত্রী মিলন রানীও ভীষণ খুশি ঘর পেয়ে। তিনি বলেন অন্যের বাড়িতে থাকতেন তারা। অনেক কষ্ট করে থাকতে হতো। প্রধানমন্ত্রী তাদের ঘর করে দেওয়ায় এখন সেই কষ্ট আর নেই। এজন্য তিনি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে।

কুরকুটিছড়ির বাসিন্দা মোঃ সেলিম মিয়া বলেন, ‍“‍আমার ভাঙাচূড়া ঘর। বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী আমাকে ঘরটা দেযাতে এখন অনেকটা সুখ শান্তিতে আছি। আমার ঘর করার মত সাধ্য ছিলনা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উছিলায় আমাকে একটা ঘর দিয়েছেন, এজন্য আল্লাহ যেন তারে মঙ্গল করে।”এছাড়া অন্যান্য উপকারভোগী ও এলাকাবাসীরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নিকট কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে ভুষনছড়া ইউপি চেয়ারম্যান মো মামুনর রশিদ মামুন জানান,”মুজিববর্ষে বাংলাদেশের একজন মানুুষও গৃহহীন থাকবে না”প্রধানমন্ত্রীর এ ঘোষনা বাস্তাবায়নে বৃহৎ ভুষনছড়াতে নির্মিত কয়েকটি ঘড় যথেষ্ট মানসম্মত হয়েছেন।সাবেক বরকল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম মন্জুরুল হক স্যার ও উপজেলা ইঞ্জিনিয়ারের তত্বাবাধনে নির্মিত ঘড়গুলো নিয়ে এখন পর্যন্ত কোন অভিযোগ শোনা যায় নাই। বর্তমানে উপজেলা নির্বাহী পদে দায়িত্বরত মো জুয়েল রানা স্যার বরকলের কাঠামোগত উন্নয়নে আপ্রান চেষ্টা করে যাচ্ছেন।আমরা তারই মাধ্যমে অত্র উপজেলার দরিদ্র ও গৃহহীনদের জন্য আরো কিছু ঘড় পাবো বলে আশা রাখছি।

 

এবিষয়ে বরকল উপজেলার উপজেলা নির্বাহী অফিসার এবং বর্তমানের করোনাকালীন সময়ের ফ্রণ্টলাইনের অন্যতম একজন জনাব জুয়েল রানা , সংশ্লিষ্ট জনপ্রতিনিধিসহ ঘরসমূহ সরেজমিনে পরিদর্শন এবং উপকারভোগীদের সাথে মতবিনিময় করেন।

তিনি জানান, নির্মিত ঘরসমূহে উল্লেখযোগ্য কোন সমস্যা পরিলক্ষিত হয়নি। তিনি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর এ উদ্যোগকে একটি মহতী উদ্যোগ যা এবাদতের সামীল বলে আখ্যায়িত করেছেন।

তবে বরকল উপজেলায় এখনো আরও ভূমিহীন ও গৃহহীন বিদ্যমান রয়েছে। তাই উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে এলাকাবাসী আরও ঘর পাবার প্রত্যাশা করছে।