
ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি : ‘সাম্প্রতিককালে হেফাজতে ইসলাম দেশের বিভিন্ন স্থানের পাশাপাশি ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পুলিশের স্থাপনায় হামলা চালায়। এর প্রেক্ষিতে পুলিশের স্থাপনাগুলোর নিয়মিত নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।’
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নয়টি থানা, পুলিশ লাইনস, তদন্ত কেন্দ্র এবং ১২টি পুলিশ ক্যাম্প ও ফাঁড়িতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে ভারি অস্ত্রে সজ্জিত এলএমজি পোস্ট স্থাপন করা হয়েছে। একই সঙ্গে সবগুলো স্টেশনে পুলিশের সংখ্যা বাড়ানোর পাশাপাশি অস্ত্র ও গোলাবারুদ সরবরাহ করা হয়েছে।
এবার ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলাতেও পুলিশের স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা জোরদারে বিশেষ নিরাপত্তা বা এলএমজি পোস্ট বসানো হয়েছে। শুক্রবার (৯ এপ্রিল) দুপুর থেকে পুলিশ সুপারের কার্যালয়সহ জেলার সকল থানা ভবন, ফাড়ি ও ক্যাম্পে এলএমজি পোস্ট বসানো হয়।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অপরাধ) মো. রইস উদ্দিন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
দুপুর আড়াইটার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানায় গিয়ে পুলিশের একটি এলএমজি পোস্ট দেখা গেছে। থানা ভবনের পুলিশ ক্লাবের ছাদের ওপর করা ওই এলএমজি পোস্টে দুইজন পুলিশ সদস্য এলএমজি নিয়ে অবস্থান করছেন।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রইস উদ্দিন বলেন, ‘সাম্প্রতিককালে হেফাজতে ইসলাম দেশের বিভিন্ন স্থানের পাশাপাশি ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পুলিশের স্থাপনায় হামলা চালায়। এর প্রেক্ষিতে পুলিশের স্থাপনাগুলোর নিয়মিত নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। এর পাশাপাশি অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা হিসেবে অত্যাধুনিক ও ভারী অস্ত্র দিয়ে বিশেষ নিরাপত্তা পোস্ট বসানো হয়েছে। এগুলো পরিচালনার জন্য দক্ষ ও পুলিশ সদস্যদের নিয়োগ করা হয়েছে।’
এর আগে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরের বিরোধীতা করে গত ২৬ থেকে ২৮ মার্চ পর্যন্ত হেফাজতে ইসলামের কর্মী-সমর্থকরা ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বেশ কয়েকটি সরকারি-বেসরকারি স্থাপনায় হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। তারা পুলিশ সুপারের কার্যালয়, সদর মডেল থানার ২নং পুলিশ ফাঁড়ি ও খাঁটিহাতা হাইওয়ে থানা ভবনেও আগুন দেয়।
তিনদিনের ওই তাণ্ডবের ঘটনায় শতাধিক পুলিশ সদস্য আহত হন। প্রসঙ্গত, তাণ্ডবের ঘটনায় এ পর্যন্ত মোট ৪৮টি মামলা হয়েছে। এসব মামলায় এজাহারভুক্ত ২৮৮ জনসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৩৫ হাজার লোককে আসামি করা হয়েছে। এর মধ্যে গত দুই সপ্তায় ৫৫ জনকে গ্রেপ্তার করে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।





