কুড়িগ্রামে নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় বন্যার আশঙ্কা-বেড়েছে নদী ভাঙ্গন

0
41

খালিদ আহমেদ রাজা:

কুড়িগ্রামে কয়েকদিনের টানা বর্ষন ও উজানের ঢলে ধরলা, তিস্তা, ব্রহ্মপুত্র, দুধকুমারসহ সবগুলো নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিত্সীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এতে করে বিঘ্নিত হয়ে পড়েছে অনেক এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা। নদ-নদী অববাহিকায় তলিয়ে গেছে এসব এলাকার সবজি ক্ষেত।

ছবি: প্রথম আলো-চর রসূলপুর, ঘোগাদহ।

এদিকে পানি বৃদ্ধির সাথে সাথে তিস্তা নদীর দুই পাড় জুড়ে শুরু হয়েছে প্রবল ভাঙ্গন। অন্যান্য নদ-নদীর ভাঙ্গন রোধে বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ চলমান থাকলেও তিস্তা নদীর স্থায়ী ভাঙ্গনরোধে সরকারের মহা পরিকল্পনার কারনে এখানে কোন চলমান প্রকল্প নেই। ফলে পানি বৃদ্ধির সাথে সাথে তিস্তার দুইপাড়ে বিভিন্ন স্পটে ভাঙ্গন শুরু হয়েছে। পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে আগামী দু-একদিনের মধ্যে নীচু এলাকার ঘর-বাড়িতে পানি ঢুকে পড়বে।

কুড়িগ্রামের দুধকুমার নদীর ভাঙ্গনে বিলীনের পথে কুড়িগ্রাম সদর ঘোগাদহ ইউনিয়নের খামার রসুলপুর গ্রাম। ইতোমধ্যে ভাঙ্গনের শিকার হয়েছে ঐ গ্রামের কয়েকশত হেক্টর আবাদি জমি ও শতাধিক বসতবাড়ি। ভাঙ্গনের তীব্রতায় এবং রাস্তা তলিয়ে যাওয়ার কারণে বর্তমানে হুমকির মুখে পরেছে ১৫ থেকে ২০টি গ্রামের রাস্তা। সংস্কার হয়নী এখনো রাস্তা ঘাট গুলো, যাতায়াত ব্যবস্থায় দূরভোগে এলাকাবাসীরা। বন্যার পানি নেমে যাওয়ার সাথে সাথে দুধকুমোরের ভাঙ্গন তীব্র আকার ধারন করেছে। এ অবস্থায় দিশেহারা হয়ে পড়েছে ভাঙ্গন কবলিত এলাকার নদী তীরবর্তী পরিবারগুলো। ভাঙ্গনের হুমকীতে থাকা অনেক পরিবার ঘরবাড়ি অন্যত্র সরিয়ে নিচ্ছে তারা।

স্থানীয়রা জানায়, দুধকুমারের ভাঙ্গন অব্যাহত থাকায় বদলে যাচ্ছে এলাকার মানচিত্র। তীব্র ভাঙ্গনে আতংকিত হয়ে পরেছে এলাকার মানুষজন। বসতভিটা, বাঁশঝার, বাগান ও আবাদী জমি চলে যাচ্ছে নদীগর্ভে। বসতভিটা হারিয়ে দিশেহারা মানুষ উদভ্রান্তের মত নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে এদিক সেদিক ছোটাছুটি করছে।

কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আরিফুল ইসলাম মুঠোফোনে জানান, টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলে জেলার সবগুলো নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলেও এখনও বিপদসীমার নীচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়াও তিস্তা নদীর ভাঙ্গন প্রবন এলাকা পরিদর্শন করে জরুরী ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেয়ার চেষ্টা চলছে।