
বুক রিভিউ প্রাক প্রাথমিক | পুস্তক পর্যালোচনা প্রাক প্রাথমিক | ডিপিএড পুস্তক পর্যালোচনা প্রাক প্রাথমিক | ডিপিএড প্রাক প্রাথমিক বুক রিভিউ
সূচিপত্র পরিচিতি
|
অধ্যায় |
বিষয় বস্তু |
পৃষ্ঠা |
| ০১ | জাতীয় সংগীত | ০১ |
| ০২ | আমার ছবি | ০২ |
| ০৩ | চারু ও কারু | ০৩ |
| ০৪ | ছবি ও পড়া | ১৫ |
| ০৫ | মিল-অমিলের খেলা | ২৫ |
| ০৬ | বর্ণমালা পরিচতি: স্বরবর্ণ | ২৯ |
| ০৭ | বর্ণমালা পরিচিত : ব্যাঞ্জনবর্ন | ৪০ |
| ০৮ | পরিবেশ | ৮২ |
| 09 | প্রযুক্তি স্বাস্থ্য নিরাপত্তা | ৯১ |
| 10 | প্রাক-গাণিতিক ধারণা | ৯৬ |
| ১১ | সংখ্যার ধারণা | ১০৫ |
“ প্রাক প্রাথমিক ”
পুস্তক পর্যালোচনা (২৫০ শব্দ )
বইয়ের নাম- আমার বই
চিত্রাঙ্কন – রেজাউন নবী, প্রহলাদ কর্মকার, আব্দুল মোমেন মিল্টন
শিল্প নির্দেশনা- মুস্তাফা মনোয়ার
প্রথম সংস্করণ- নভেম্বর, ২০১৩
পরিমার্জিত সংস্করণ- আগষ্ট, ২০১৬
পুনর্মুদ্রণ- ২০২০
আকার- ৯৮ পৃষ্ঠা
অধ্যায়- ১৫৮টি
প্রাপ্তিস্থান- জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড, বাংলদেশ
অধ্যায় ভিত্তিক পর্যালোচনাঃ
নিম্নে বইটির মোড়ক সহ অধ্যায় ভিত্তিক পর্যালোচনা করা হলো-
মোড়কঃ একটু মোটা কাগজে বইটির কভার পেজ করা হয়েছে। উভয় পৃষ্ঠায় রঙ্গিন পেজ ব্যবহার করা হয়েছে। প্রথম পৃষ্ঠায় শিশুদের বই পড়ার দৃশ্য রয়েছে। পৃষ্টার উপরে বইয়ের নাম এবং নিচে বোর্ডের নাম লগুমহ ব্যবহার করা হয়েছে। শেষের পৃষ্টায় উপরে শিক্ষাবর্ষ তার নিচে নীতি বাক্য সহ একটি লগু ব্যবহার করা হয়েছে। মাঝখানে বই বিতরনের মামনীয় প্রধানমন্ত্রী শেষ হাসিনা সহ কয়েকজন শিক্ষার্থীর ছবি ব্যবহার করা হয়েছে। বইয়ের এক পাশে একটি স্কেল দেওয়া হয়েছে এবং সবশেষ নিচে বোর্ডের নাম ব্যবহার করা হয়েছে।
ভূমিকা: প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম যা শিশুর ব্যক্তিত্বের পূর্ণ বিকাশ ও আজীবন শিখনের ভিত্তি তৈরি এবং আনুষ্ঠানিক শিক্ষার প্রথম সোপান ও প্রস্তুতি হিসেবে কাজ করে। প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষার একটি বিস্তৃত পরিসরের সূচনার অংশ হলো প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা। যদিও আনুষ্ঠানিক প্রাথমিক শিক্ষা শুরুর পূর্ববর্তী এক বছর প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষার জন্য নির্ধারিত কিন্তু এর ব্যাপ্তি ও পরিধি শুধু এই সময়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়।
শিশু জন্মের পর প্রতিনিয়ত যে অভিজ্ঞতা, অনানুষ্ঠানিক শিখন ও পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে বড় হতে থাকে তা তার বৃদ্ধি ও বিকাশের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। পরিবর্তনের প্রতিটি ধাপের অর্জিত জ্ঞান ও দক্ষতার উপর ভিত্তি করেই শিশু পরবর্তি ধাপে পৌঁছায়। প্রারম্ভিক শৈশবকালে শিশুর এ পরিবর্তনের হার অন্য সময়ের তুলনায় দ্রæত ও ব্যাপক বিধায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তির পূর্ব পর্যন্ত সময়ে শিশু অনেকগুলো গুরুত্বপূর্ণ ধাপ অতিক্রম করে। প্রতিটি ধাপে শিশুর যথাযথভাবে বেড়ে উঠা ও শিখনই হচ্ছে তার প্রাথমিক শিক্ষা শুরু করার ভিত্তি।
অধ্যায় ভিত্তিক পর্যালোচনা
অধ্যায় ১:
এই অধ্যায়ে শিক্ষার্থীরা জাতীয় সংগীত গাইতে পারবে। বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত কি তা জানতে পারবে।
অধ্যায় ২ : এ পাঠে শিক্ষার্থীরা নিজে ইচ্ছামতো ছবি আকবে। শিক্ষক এতে সহযোগিতা করবে।
অধ্যায় – ৩: এ অধ্যায়ে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন সংকেত/প্রতীক চিনতে/পড়তে পারবে। ইচ্ছেমত আঁকিবুকি করতে পারবে। ইচ্ছেমত ছবি আঁকতে ও রং করতে পারবে। ছবি/চিত্র/বস্তু/দৃশ্য দেখে আঁকতে পারবে।
অধ্যায় ৪: নিজের নাম দেখে লিখতে পারবে। ধ্বনির প্রতীক (বর্ণ) লিখতে পারবে। দুই বা তিন বর্ণের পরিচিত সরল শব্দ লিখতে পারবে।
অধ্যায় ৫: এ অধ্যায়ে কয়েকটি ছবি ও বর্ণমালা দেওয়া আছে এলামেলো করে। সেখান থেকে শিক্ষার্থীরা শিক্ষকের সহায়তায় একই রকম বস্তু ও বর্ণ আলাদা করতে পারবে। আর যেটি মিলবে না সেটি চিহ্নিত করতে পারবে।
অধ্যায় ৬: এ অধ্যায়ে ১১টি স্বরবর্ণ এবং এই স্বরবর্ণ গুলো দ্বারা তৈরি শব্দ সমূহ ছবি সহকারে দেওয়া আছে। যাতে শিক্ষার্থীরা সঠিক শ্বদটি বলতে ও চিনতে পারে। শিক্ষার্থীদের অনুশীলনের জন্য দাগ টেনে মিলাই, খালি ঘরে সঠিক বর্ণ লিখি হারিয়ে যাওয়া বর্ণগুলো লিকি এবং স্বরবর্ণগুলো পড়ি দেওয় আছে।
অধ্যায় ৭: এ অধ্যায়ে প্রতিটি ব্যঞ্জনবর্ণ এবং ব্যঞ্জনবর্ণের দ্বারা তৈরি শ্বদ ছবি সহকারে দেওয়া আছে। শিক্ষার্থীদের অনুশীলনের জন্য দাগ টেনে মিলাই, খালি ঘরে সঠিক বর্ণ লিখি হারিয়ে যাওয়া বর্ণগুলো লিখি।
অধ্যায় ৮: এ অধ্যায়ে চারপাশের পরিবেশের বিভিন্ন উপাদান (যেমন: ফুল, ফল, মাছ, পাখি, পশু, সূর্য,
চাঁদ, গাছ, যানবাহন, মাটি, পানি ইত্যাদি) চিনতে ও নাম বলতে পারবে। ফসলের ক্ষেত, নদী, পাহাড়, বন,
সমুদ্র চিনতে পারবে। নিজের, বাড়ির এবং বিদ্যালয়ের জিনিসপত্র চিনবে এবং এগুলোর প্রতি যতœশীল হবে।
অধ্যায় ৯: পর্যবেক্ষণ ও কথোপকথনের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করতে পারবে। বিভিন্ন বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে সংগৃহীত
তথ্যসমূহের শ্রেণিকরণ, তুলনা ও উপস্থাপন করতে পারবে। দেশের সর্বত্র প্রচলিত ও পরিচিত প্রযুক্তির (ঘড়ি, ইঞ্জিনচালিত নৌকা, ধান মাড়াইয়ের কল, সেচ যন্ত্র, ট্রাক্টর) নাম ও কাজ বলতে পারবে।
অধ্যায় ১০: এ পাঠে শিক্ষার্থীরা ডান-বাম, ছোট-বড়, কম-বেশি, লম্বা খাটো, মোটা-চিকন, ভারী-হাল্কা চিহ্নিত
করতে পারবে। বাহির-ভিতর, উপর-নিচ, সামনে পিছনে, উঁচু-নিচু, কাছে-দূরে চিহ্নিত করতে পারবে। বিভিন্ন আকার-আকৃতি (বড়, ছোট, মাঝারি) ছোট থেকে বড় বা বড় থেকে ছোট সাজাতে পারবে। রং, আকার-আকৃতি (গোল,
তিনকোনা, চারকোনা) অনুযায়ী বিভিন্ন বস্তু শ্রেণিকরণ করতে পারবে।
অধ্যায় ১১: এ পাঠে ‘১ – ২০’ পর্যন্ত বাস্তব ও অর্ধবাস্তব উপকরণ গণনা করে কম-বেশি নির্ণয় করতে পারবে। ‘১ – ২০’ পর্যন্ত দুইটি সংখ্যার মধ্যে তুলনা করতে পারবে। ‘১ – ২০’ পর্যন্ত যেকোনো ৫টি সংখ্যা ছোট থেকে বড়, বড় থেকে ছোট সাজাতে পারবে।
শিক্ষক হিসেবে লব্দ জ্ঞান
বইটিতে ভাষাগত প্রাঞ্জলতাগুণ বিদ্যমান রয়েছে এছাড়াও যথেষ্ট পরিমার্জিত এবং পরিচ্ছন্নভাবে বইটির অধ্যায়গুলো সাজানো হয়েছে। যা একজন শিক্ষক হিসেবে আমাকে মুগ্ধ করেছে এবং পাঠদানের ক্ষেত্রে এটা আমাকে সহযোগিতা করবে।
মন্তব্য
বইটিতে বানান ভ’লের তেমন কোন তারতম্যতা চোখে পড়েনি যা উক্ত বইটির পরিমার্জিত সংস্কারণের একটি সফলতা বলা যায়। তবে অধ্যায় গুলো আরো স্বল্প পরিসরে তুলে ধরা গেলে শিক্ষার্থীরা অধ্যায় গুলো অধ্যায়নের ক্ষেত্রে মনোযোগ হারাবেনা।
উপসংহারঃ
পরিশেষে উপরের আলোচানা হতে এটা স্পষ্ট প্রতিয়মান হয় যে, প্রাক প্রাথমিক আমার বাংলা বইটি শিক্ষার্থীদের শতভাগ শিখন ফল অর্জনের জন্য খুবই গুরুত্ব পূর্ণ তাৎপর্য বহন করে। লেখন গণ বইটিতে পাতায় পাতায় শিখন ফল অর্জনের জন্য অক্লান্ত পরিশ্রম করে বইটি রচনা ও সম্পাদনা করেছেন। প্রতিটি অধ্যায়ে শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক চিন্তার বিকাশে ঘটিয়েছেন।
বইটি সম্পূর্ণ ভাবে আয়ত্ব করলে প্রত্যেকটি শিখনফল অর্জিত হবে বলে আমি বিশ্বাস করি। প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের সময়োপো যোগী পরিবেশ ও শিখনের ধরনের প্রতি বিশেষ দৃষ্টি রেখেই বইটি রচনা করা হয়েছে। আমরা শিক্ষকগণ যদি শিখন মেখানো কার্যাবলী ঠিকমত পরিচালিত করি তাহলে শিক্ষার্থীদের শত ভাগ শিখন ফল অর্জন করানো সম্ভব হবে বলে আমি মনে করি।





