

রাজীবপ্রধান,গাজীপুর, প্রতিনিধিঃ-
গাজীপুরের শ্রীপুরে রাতের আঁধারে রাহিলা খাতুন নামে শতবর্ষী এক বৃদ্ধার জমি দখল চেষ্টার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় শ্রীপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন রাহিলার ছেলে ইলিয়াছ।
অভিযুক্তরা হলেন, ১। উপজেলার তেলিহাটি ইউনিয়নের টেপিরবাড়ি গ্রামের মৃত আঃ আজিজের ছেলে ফারুক (৪০), ২। একই এলাকার মোঃ আইনুল ইসলামের ছেলে মোঃ বিল্লাল হোসেন (৩৮) ৩। মৃত সাহেদ আলীর ছেলে মোঃ আইনুল ইসলাম (৬৫), ৪। মৃত আঃ আজিজের ছেলে মোঃ আবুল কাশেম (৩৫) ও ৫। আঃ আউয়ালের ছেলে মোঃ শহিদ ওরফে কেটু শহিদ (৫০)।
ভুক্তভোগী ও থানায় দেয়া অভিযোগ সুত্রে জানা যায়, গত ৩৯ বছর আগে ২২৭৫ নং দলিল মূলে ৪৭.২৫ শতাংশ জমি টেপিরবাড়ি গ্রামের রাহিলা খাতুনের নামে ক্রয় করে ভোগদখল করে আসছেন। যার এস,এ খতিয়ান নং ৩০৩, দাগ ৯৪ এবং আর এস খতিয়ান নং ১০৩ ও দাগ নং ৩৪৪৪। যে জমি তেলিহাটি ভুমি অফিসে ৩৮৭২ নং জোত মূলে হাল সনের ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ করে নিয়মিতই চাষাবাদ করছেন ওই পরিবার। বর্তমানে ওই জমি জনৈক সাইফুলের কাছে মৌসুমে ভাগের অর্ধেক ফসলে বর্গা দেওয়া হয়। কিন্তু অভিযুক্তরা ধান রোপণের পূর্ব মুহুর্তে অন্যায় ভাবে রাতের আঁধারে ওই জমিতে মাটি ফেলে ভরাটের অপচেষ্টা চালায়। একই সাথে বর্গাচাষী সাইফুলকে বিভিন্ন ধরণের ভয় ভীতি ও হুমকি দেয় তারা। তাদের অত্যাচার ও জমি জোরপূর্বক দখল ঠেকাতে ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষে মোঃ আঃ হাই বাদী হয়ে বিজ্ঞ অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ক অঞ্চল গাজীপুরে পিটিশন ১৮৬/২০২২ ফৌঃকাঃবি ১৪৫ জারি করেন।
স্থানীয় হাবিজ উদ্দিন বলেন, প্রায় ৪০ বছর ধরে আব্দুল হাই ও তার ভাইয়েরা ভোগদখল করে আসছিল এ জমি । কদিন আগেও সে জমিতে তাদের ধান চাষ ছিল। হঠাৎ করেই একদিন সকালে দেখি সেখানে মাটি ফেলানো এবং এ জমির দাবি করছে ফারুকরা। এভাবে রাতের আঁধারে জমি দখলের কথা শুনে সাধারণ কৃষকরা এখন ভয় পাচ্ছে।
মাটি ফেলার অভিযোগ অস্বীকার করে মোঃ ফারুক মুঠোফোনে জানান, এ জমি এতোদিন তারা ভুল করে দখলে রেখেছে। এটা আমাদের জমি।
এ বিষয়ে শ্রীপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মনিরুজ্জামান জানান, অভিযোগ পেয়ে উর্ধতন কর্মকর্তার নির্দেশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। যেহেতু মহামান্য আদালতে মামলা চলমান সেহেতু উভয় পক্ষকে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে বলা হয়েছে।
শ্রীপুর থানার ওসি তদন্ত মাহফুজ ইমতিয়াজ ভুঁইয়া বলেন, মামলা চলাবস্থায় কোনো প্রকার বিশৃঙ্খলা তৈরি করা হলে অবশ্যই কঠোর হাতে দমন করা হবে।





