দৃষ্টিনন্দন নিজ ঘরে শান্তিতে থাকি

0
52

তপন কুমার সরকার, আত্রাই(নওগাঁ) প্রতিনিধি: পঙ্গু স্বামী সন্তানসহ ভাড়া বাসায় থাকতাম। কেজি স্কুলে আয়ার চাকুরী করে জীবিকা নির্বাহ করি। দু’বছর আগে স্বামী মারা গেলে অসহায় হয়ে পরি।

দৃষ্টিনন্দন নিজ ঘরে শান্তিতে থাকি
দৃষ্টিনন্দন নিজ ঘরে শান্তিতে থাকি

সরকার আমাকে ঘর দিবে বা আমি পাকা ঘরে থাকবো কোনদিন স্বপ্নেও ভাবিনি। আমি ঘর পেয়ে খুব খুশি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্য আশীর্বাদ করি। খুশিতে আশ্রæশিক্ত চোখের জল মুছতে মুছতে বলছিলেন মধুগুড়নই আশ্রয়ন প্রকল্পে আশ্রয় নেয়া মকু বেওয়া। আত্রাই উপজেলায় ১৮৫ পরিবারের অদেখা স্বপ্নের বাস্তবায়ন হয়েছে ।

দিগন্ত জুরে সবুজ প্রকৃতির মাঝে উঁকি দিচ্ছে সারি সারি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু কন্যার উপহারের দৃষ্টিনন্দন সবুজ বাড়ী। গৃহ ও ভূমিহীনরা পেয়েছেন তাদের স্বপ্নের ঘর ও জমির দলিল।

ইউএনও অফিস সুত্রে জানা যায়, সারাদেশের ন্যায় প্রথম পর্যায়ে ১৭৫ এবং দ্বিতীয় পর্যায়ে ১০ ঘর নির্মাণ করা হয়। ঘড়গুলো ইউএনও’র তত্তাবধানে নির্মাণ করে জনপ্রতিনিধি, ভূমি ও পিআইও অফিসের মাধ্যমে যাচাই-বাছাই পূর্বক প্রকৃত ভূমি ও গৃহহীনদের দেয়া হয়।এতে প্রথম পর্যায়ে এক লাখ একাত্তর এবং দ্বিতীয় পর্যায়ে এক লাখ নব্বই হাজার টাকা ব্যায় ধরা হয়।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার মদনডাঙ্গা, মধুগুড়নই, তিলাবদুরী, হাট-মোজাহারগঞ্জ এবং রসুলপুর আশ্রয়ণ প্রকল্পের মাধ্যমে ১৮৫ পরিবারকে দেয়া হয়েছে স্বপ্নের বাড়ী। প্রতি পরিবারে দুই শতক যাইগার উপর দুটি চৌচালা বিশিষ্ট্য রঙ্গিন ঢেউ টিনের ঘড় তাতে দুটি করে জানালা ও দরজা, ইটের দেয়াল এবং পাকা মেঝে। এছাড়া বারান্দা এবং আলাদা স্থানে রান্না ঘড়ে বসানো হয়েছে বন্ধু চুলা ও পাশে টয়লেট। সেইসাথে বিদ্যুত সংযোগ ও পানির সুব্যবস্থা রয়েছে। বাড়ীর সামনে ফলজ এবং বনজ গাছের চারা লাগানো রয়েছে।

মধুগুড়নই আশ্রয়ন প্রকল্পে থাকা সেলিনা রহমান জানান, আগে বিহারীপুর ভাড়া বাসায় থাকতাম। আমি মানুষের বাড়ীতে কাজ করে সংসার চালাই। সরকার আমাকে ঘর দেওয়াতে খুব খুশি।

রসুলপুর আশ্রয়ন প্রকল্পে থাকা সিরাজুল জানান, আমি অটো চালাই। কখনো ভাবিনি সরকার আমাকে ঘর করে দিবে। এখন আমার নিজ জমি ও দৃষ্টিনন্দন ঘরে থাকি।শাহানাজ বেগম জানান, স্বামী-স্ত্রী মিলে শুকটিগাছা হাটে কুঁড়ে ঘরে থাকতাম। সরকারী বাড়ী পেয়ে আমরা খুব খুশি। ইউএনও বাচ্চারে খেলার যাগা করা দেওয়ায় খুব ভালো লাগিচ্চে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইকতেখারুল ইসলাম বলেন, ভূমি ও গৃহহীন জনগোষ্ঠীর আবাসন নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রী আশ্রয়ণ কেন্দ্র গুলো তৈরি করেছেন। এখানে থাকা প্রতিটি পরিবারকে ঋণ প্রদান ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহে সক্ষম করা এবং আয়বর্ধক কার্যক্রম সৃষ্টির মাধ্যমে দারিদ্র দূরীকরণই আশ্রয়ণ প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য।