
শ্রীপুর প্রতিনিধি, গাজীপুর: গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলাধীন গোসিংগা ইউনিয়নের খোজেখানি ৮ নং ওয়ার্ডের মেম্বার ইসমাইল হোসেন।
যাকে মানুষ এক বাক্যেই চিনে উচিত কথার মেম্বার। সে সব সময়ই স্পষ্ট ভাষী মেজাজের মানুষ। হয়তো ভাবছেন এই কড়া মেজাজের মানুষটি কি মানুষের মাঝে আতঙ্কের নাম না ভালোবাসার মানুষ? আসলে সে হলো একজন উন্নয়ন বান্ধব মেম্বার।
তার নির্বাচনি এলাকাতে প্রায় প্রতিটা রাস্তা পাকা করন বা ইটের সলিং করা হয়েছে, যাতেকরে এলাকার ছোট থেকে শুরু করে বৃদ্ধ পর্যন্ত সব শ্রেণি পেশার লোকেরা বর্ষার দিনগুলোতে, চলাফেরা, যাতায়াত করতে পারে সুন্দর ভাবে। এবং তাদের কাজকর্ম ব্যবসা-বাণিজ্য নির্বিঘ্নে চালিয়ে যেতে পারে। আর তাই তিনি এই উদ্যোগ নিয়ে তার জনসেবা মুলক কাজ পরিচালনা করে যাচ্ছেন দিনের পর দিন একজন দ্বায়িত্বশীল জনপ্রতিনিধি হয়ে।
তার নির্বাচনী এলাকার এক মধ্যম বয়সী স্কুল মাষ্টার নাঈমের সাথে কথা বললে , তিনি বলেন, ওআমরা সাধারন জনগন, আমরা উন্নয়ন ভালোবাসি,উন্নয়নে বিশ্বাসী। আর তাই মেম্বার হিসেবে আমরা ইসমাইল মেম্বারকেই সব সময়ই চাই উন্নয়ন ধরে রাখার জন্য। সম্প্রতি ইসমাইল হোসেন মেম্বার একটি রাস্তা নির্মাণের কাজ সম্পন্ন করেছেন।
রাস্তাটি গোসিংগা শীতলক্ষ্যা নদীর ঘাট থেকে উপরে উঠে এসে বড় রাস্তায় মিলিত হয়েছে। রাস্তাটি অতি প্রাচীনকাল থেকে মানুষ ব্যবহার করে আসছে নদীর খেয়া পাড়া -পাড়ের মাধ্যম হিসেবে ।বর্ষা এলে, বৃষ্টির দিন গুলোতে ঠিকমতো হেঁটে যেতে পারত না পথচারীরা।
এ বিষয়ে ইসমাইল হোসেন মেম্বার তার একান্ত সাক্ষাৎকারে সময়ের পাতা কে জানান,৯০ দশকের আগের দিকে বা তার মাঝা-মাঝি সময়ে এই রাস্তাটি নদীপথের পন্য উঠানামার ঘাট হিসেবে ব্যবহার করতো। তখন হাটু পানি গর্ত হয়ে যেত এই রাস্তাটিতে।
মানুষের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হতো। বিশেষ করে যারা মোটর সাইকেল আরোহি বা ভারি যানবাহন ও কুলিরা ভারি কাজ করতো এই ঘাটে।দীর্ঘদিনের মানুষের স্বপ্ন আশা ও প্রত্যাশা কে বাস্তবায়ন করার লক্ষ্যে আমি এই উদ্যোগটি হাতে নিয়ে সম্পন্ন করেছি , একসময় এই শীতলক্ষ্যা নদী পথ দিয়ে হাজার হাজার মানুষের যাতায়াত ছিলো।
কারণ নৌপথে ব্যবসা-বাণিজ্যের সুযোগ-সুবিধা টা তখন সবচেয়ে লাভজনক ও বেশি হতো।তাই দীর্ঘ দিনের এই কাঁচা রাস্তাটিকে পাকা করণ করতে পেরে আমি খুবই আনন্দীত। মায়াবতী নদী শীতলক্ষ্যার বিস্তীর্ণতার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন তার নামকরনের ইতিহাস ও আয়তন পরিধির বিষয়ে।
লাখপুর থেকেই তার নাম হয়েছে শীতলক্ষ্যা। স্বচ্ছ সলিলা এই স্রোতস্বিনীর পানি অতি নির্মল ও সুস্বাদু হওয়ায় শীতলক্ষ্যা নামে অভিহিত বলেও মনে করেন অনেকেই । আর স্থানীয় জনশ্রুতিতে, যে নদীর পানি শীতল ও লক্ষ্মী, তারই নাম শীতলক্ষ্যা। এই লক্ষ্মী নদীর বিশুদ্ধ পানির খ্যাতি একদা ছড়িয়ে পড়েছিল জগৎজুড়ে, শীতলক্ষ্যা পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদের শাখা নদী। পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদ ও বানার নদী যেখানে মিলিত হয়েছে সেখান থেকে নদীটি বের হয়ে শ্রীপুর উপজেলার সাত আট কিলোমিটার পূর্বপাশ দিয়ে দক্ষিণমুখী হয়ে কাপাসিয়া উপজেলা শহরের মধ্য দিয়ে কালীগঞ্জ, রূপগঞ্জ, সিদ্ধিরগঞ্জ হয়ে নারায়ণগঞ্জ সদরে ধলেশ্বরী নদীতে মিলেছে।
এই নদীর তীরে গড়ে উঠেছিল সেই ভুবন বিখ্যাত প্রাচীন মসলিন শিল্প। পুরাতন ব্রহ্মপুত্র, বানার ও শীতলক্ষ্যা এই তিন নদীর মিলিত স্রোতধারা চর লাখপুরের নিচে শীতলক্ষ্যা নামে কাপাসিয়া, কালীগঞ্জ ও নারায়ণগঞ্জের উপর দিয়ে মদনগঞ্জের দক্ষিণে ধলেশ্বরীতে পড়েছে।
সুতি নদী বর্মী বাজারের উত্তরে মিলিত হয়ে বহমান ধারাটি চর লাখপুরের উপর বানার নদীতে মিলিত হয়ে শীতলক্ষা নদীর সৃষ্টি করেছে।





