প্রতিবেশীর উপর সন্ত্রাসী হামলার ভিডিও ধারন করাতে, একই পরিবারের ৬ জনকে হাত-পা ভেঙে দিল সন্ত্রাসীরা |

0
21

গাজীপুর প্রতিনিধি, ঃ-গাছ কাটা নিয়ে প্রতিবেশীর উপর, সন্ত্রাসী হামলা ও মার-পিটের ঘটনার ভিডিও ধারণ করায় , একই পরিবারের ৬ জন সদস্যকে রড দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত করেছে সন্ত্রাসীরা। তাদের মধ্যে দুজনের অবস্থা আশঙ্কা জনক।

প্রতিবেশীর উপর সন্ত্রাসী হামলার ভিডিও ধারন করাতে, একই পরিবারের ৬ জনকে হাত-পা ভেঙে দিল সন্ত্রাসীরা |
প্রতিবেশীর উপর সন্ত্রাসী হামলার ভিডিও ধারন করাতে, একই পরিবারের ৬ জনকে হাত-পা ভেঙে দিল সন্ত্রাসীরা |

বাবা- মায়ের সামনে ছেলেদের নির্মমভাবে রড দিয়ে পিটিয়ে হাত-পা, মাথা ও নাকসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জগম করে হামলাকারীরা। বাদ যায়নি বৃদ্ধ বাবা- মা ।

এমনই এক মধ্যযোগীয় বর্বরচিত হামলার স্বীকার হয়েছেন , গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার গোসিংগা ইউনিয়নের কাদিম গাজিয়ারনের আব্দুল আজিজ মিয়ার বাড়িতে ।শুক্রবার দুপুর সাড়ে ১২ টার দিকে এ ঘটনাটি ঘটে।

এবিষয়ে আঃ আজিজ মিয়ার ছেলে মো শহিদুল্লাহ বাদী হয়ে ঐদিনই শ্রীপুর মডেল থানায় ৬ জনকে অভিযোক্ত করে একটি অভিযোগ দায়ের করেন।অভিযোক্তরা সবাই একই গ্রামের বাসিন্দা।

ঘটনার বিষয়ে বাদী মোঃ শহিদুল্লাহ জানান, বিবাদীগন একদলীয় ভূমিদস্যু, দাঙ্গাবাজ, সন্ত্রাসী প্রকৃতির লোক। এরা প্রায় সময়ই এলাকার নিরীহ মানুষকে বিভিন্নভাবে অত্যাচার নির্যাতন ও হয়রানি করে থাকে।আমরা সাধারন অসহায় ও গরিব হওয়াতে আমাদের উপর তার জুলুম দিন দিন বেড়েই চলেছে। এলাকার অনেক ভুক্তভোগী রয়েছে যারা তার নির্যাতনের সিকার।তার বিরুদ্ধে সরকারী বনের জায়গা দখলেরও অভিযোগ রয়েছে।

বাদীর দায়ের করা অভিযোগমতে জানায়,ঘটনার দিন শুক্রবার দুপুর সাড়ে বারোটার দিকে বিবাদী মনির, রাকিব,কামরুজ্জামান, সজিব খা,শ্যামল, কাজল সহ ৮/৯ জন মিলে আমার প্রতিবেশী মিলনকে জমিসংক্রান্ত বিষয় ও গাছ কাটা নিয়ে তর্কাতর্কির এক পর্যায়ে ব্যাপক মারপিট করে।

এই ঘটনাটি আমার ছোট ভাই আবু সাঈদ মোবাইলে ভিডিও ধারন করলে, বিবাদীগন দেখতে পেয়ে তাকে তারা করে হত্যার উদ্দেশ্যে। অবস্থা খারাপ দেখে ছোট ভাই দৌড়ে বাড়িতে আসামাত্রই পিছন থেকে মনির ও তার দলবল সহ আমাদের পরিবারের সবাইকে লোহার রোড দিয়ে পিটিয়ে মাথা,হাত ও নাকের হাড় ভেঙে দেয়।

আমি নিজেও বেশ আহত হয়েছি। আমার নাকের হার ভেঙেও গেছে। আমার মা আর বাবা এ অবস্থা দেখে আমাদের রক্ষা করতে এসে মা সহ আমার বাবা গুরুতর আহত হয়। এসময় আমার বাবার মাথায় আঘাত করলে তিনি মাটিতে পরে যায়, তার পর তার গলার উপর উঠে পা দিয়ে চাপদেয়াতে কান ও গলা দিয়ে রক্ত বেড় হতে থাকে।

এ অবস্থায় আমার চিৎকার চেচামেচি শুনে আসেপাশের মানুষ আসতে থাকলে তারা দূত দৌড়ে পালিয়ে যায়। এসময় ঘরে থাকা গরু বিক্রির ১ লাখ ২০ হাজার টাকা সহ একটি স্মার্ট ফোন নিয়ে যায়,। যাতে ঘটনার ভিডিওটি ধারন করা ছিলো।

আমাদের অবস্থা খারাপ হওয়ায়, স্থানীয় লোকজনের সহায়তায়, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সপরিবারে চিকিৎসার জন্য নিয়ে আসাহয়। হাসপাতালের জরুরি বিভাগে আসলে কর্তব্যরত ডাক্তার আমার বড় ভাই হাবিবুল্লাহ ও পিতা আজিজুলের অবস্থা আসংখ্যা জনক দেখে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। বাকি, মা-সহ সন্তানেরা শ্রীপুর উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি আছে।

এদিকে বাদীর বড় ভাই ও পিতা আজিজের অবস্থা খুবই ঝুঁকি পূর্ণ হয়ে উঠেছে। হাসপাতালের বিছানায় মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছেন তারা ।এ অবস্থায় বাদী শহিদুল্লাহ তার পরিবারকে সন্ত্রাসীদের হাত থেকে রক্ষা করতে সংশ্লিষ্ট পুলিশ প্রশাসনকে ও গাজীপুর জেলা পুলিশ সুপার এসএম সফিউল্লাহ মহোদয়ের কাছে নিরাপত্তা চেয়ে সংবাদমাধ্যম এর মাধ্যমে আবেদন জানিয়েছে।

এই ঘটনার বিষয়ে শ্রীপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার ইমাম হোসেন গণমাধ্যম কে জানান,আমরা অভিযোগ পেয়েছি, অভিযোগ তদন্তের ভিত্তিতে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।