রাঙ্গামাটিতে চিকিৎসকের অনুপস্থিতি ও অবহেলা জনিত মৃত্যুতে বরকলবাসী মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান

1
5

আরিফুল ইসলাম, রাঙ্গামাটি প্রতিনিধি:  আজ ২২শে মার্চ রোজ সোমবার
রাঙ্গামাটির বরকল উপজেলার সদর হাসপাতালে ডাক্তার ও ভালো চিকিৎসার অভাবে উমাপ্রূ নামক ৪ মাসের এক বাচ্চার মৃত্যুতে বিক্ষোভ সমাবেশ, মানব বন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান করেছে বরকল উপজেলাবাসী।

এসময় তারা বলেন, বিগত অনেকদিন যাবত রাঙ্গামাটির জেলার বরকল উপজেলাধীন একমাত্র হাসপাতালটিতে রুগীদের চিকিৎসা ক্ষেত্রে চরম দুর্নীতি করা হচ্ছে।প্রতি মাসে দুদিনের জন্যও অত্র হাসপাতলে কখোনো ডাক্তারের উপস্থিতি দেখা যায় না।

রাঙ্গামাটির বরকলে চিকিৎসকের অবহেলায় উপজাতি শিশুর মৃত্যু

ওষুধ স্টকে রেখেও অনেক সময়
রুগীদের পর্যাপ্ত ওষুধ সরবারাহ করে না অত্র হাসপাতলের সংশ্লিষ্টগন।তাছাড়া হাসপাতলের আশেপাশের পরিবেশও যথেস্ট নোংরা।বিগত ২১শে মার্চ ২০২১ ইং তারিখে রাঙ্গামাটি জেলার বরকল উপজেলার সদর হাসপাতালে ৪ মাস বয়সী শিশু উমাপ্রূ”র চিকিৎসা অভাবে মৃত্যু হয়েছে।দুদিন চরম ভোগান্তির পরেও কোন ডাক্তারের মুখ দেখতে পায় নি মৃতের পরিবার।অবশেষে গতকাল বিনা চিকিৎসায় মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে শিশুটি।

দু একজন মেডিকেল সহকারী ও চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীদের দিয়ে রোগীদের চিকিৎসা করায় হাসপাতল কতৃপক্ষ ।যারা রোগীদের সাথে চরম দুর্ব্যবহার করে বলে জানা যায়।বিগত দিনে মৃত শিশুটি প্রথম দিন থেকে শ্বাসকস্ট থাকার পরেও আমরা শুধু আজকেই দুবার গ্যাস পেয়েছি।বাচ্চার অবনতি ঘটতে দেখে আমরা রাঙ্গামাটিতে নিতে চাইলে তারা আমাদের যেতে দেয় নাই।অধিকাংশ সময়েই হাসপাতালটি ডাক্তার শুন্য অবস্থায় থাকে।আর পর্যাপ্ত ওষুধের সংকটতো লেগেই থাকে।

তার ওপড় অত্র হাসপাতালের মেডিকেল সহকারী ও নার্সদের ব্যবহার যথেস্ট সমীচীন নয়।ডাক্তারের মুখ দেখা যায় কদাচিৎ।
উপজেলার ৫টি ইউনিয়নের স্বাস্থ্য সেবা কেন্দ্রগুলো প্রায় ১৫ বছর ধরে পরিত্যাক্ত অবস্থায় পরে আছে

পরিশেষে বক্তারা প্রশাসনের নিকট হাসপাতালে নিয়মিত ডাক্তারসহ অন্যান্য সুযোগ সুবিধাসমুহ প্রদানসহ উমাপ্রূ মারমার মৃত্যুর সাথে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমুল শাস্তির দাবী জানান তারা।

চিকিৎসককে বলা হয় দ্বিতীয় ভগবান।বরকল উপজেলার ৫ ইউনিয়নের মধ্যে বরকল সদর এলাকায় একটি মাত্র সরকারি হাসপাতাল।যার কারণে সুচিকিৎসার জন্য দূর্গম বিভিন্ন এলাকা থেকে সদর হাসপাতালে চলে অাসে।

কিন্তু হাসপাতালে চিকিৎসকদের অমানবিকতা দেখে সাধারণ রোগীরা হতাশ হয়ে পড়ে। কি অার করার অসহায় গরীব বলে এমন দূরাবস্থা তাদের মুখবুঝে সহ্য করে নিতে হয়। কেননা বরকল উপজেলা সদরে এ সরকারি হাসপাতালটি ছাড়া অার কোনো হাসপাতাল নেই। যার দূর্বলতার সুযোগ নিয়ে চিকিৎকরা এমনটা করে বসে।তাছাড়া সাধারণ রোগীরা অর্থের অভাবে রাঙ্গামাটি কিংবা চট্টগ্রামে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসা সেবা নেওয়ার মতো এত অর্থকড়িও তাদের মধ্যে নেই।

তাই এ হাসপাতালে সাধারণ মানুষ ভরসা করে চিকিৎসা সেবা নিতে চলে অাসে।এ বিষয়ে বহুবার চিকিৎসকদের অনুপস্থিতি, দুর্নীতি ও
দিনের পর দিন সরকারের বেতন খেয়ে সাধারণ রোগীদের সেবা না দিয়ে নিজ দায়িত্বকে অবহেলা করে যাচ্ছে বরকল উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের অধিকাংশ চিকিৎসক।তাদের এমন দায়িত্বহীনতার কারণে অকালে প্রাণ হারাতে হলো ৪ মাস বয়সের এক শিশুর।

গত শনিবার সন্ধ্যা ৩টা ৪৫ মিনিটে রাঙ্গামাটির বরকলে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিউমোনিয়া রোগে অাক্রান্ত হয়ে শিশুটিকে ভর্তি করানো হয়। শনিবার সন্ধ্যায় চিকিৎসকদের দায়িত্ব অবহেলার কারণে হাসপাতালে ভর্তিরত অবস্থায় ৪ মাস বয়সের শিশুর মৃত্যু হয়েছে বলে এমন অভিযোগ করেন শিশুটির পরিবার ।বরকল ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডে কিয়াং পাড়া এলাকার মংবুই মারমার একমাত্র কন্যা উমাপ্রু মারমা(০৪মাস)।

মৃত শিশুর এক অাত্মীয় জানায়,মৃত শিশুর বাবা- মা চিটাগং ফ্যাক্টরিতে চাকরি করে। সেই সুবাদে তারা সেখানে থাকেন। কিন্তু শিশু মাঝে মাঝে কান্নাকাটি করে বিধায় গত ১৯ তারিখে চট্টগ্রাম থেকে বরকলে চলে অাসে। পরদিন শিশুটির শারীরিক সমস্যার কারণে হাসপাতালে নিয়ে অাসা হয়।তখন হাসপাতালে একজন নার্স ছাড়া অার কোনো ডাক্তার ছিল না। পরে নার্স একজন কম্পাউন্ডারকে ডাক্তার ডেকে পাঠালে উপ-কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার দীপেন চাকমা নামে এক ডাক্তার চলে অাসে। অার শিশুটিকে দেখে নিউমোনিয়া হয়ছে বলে জানায়।অার শিশুটিকে ভর্তি করানো হয়।এরপর থেকে কোনো ডাক্তার শিশুটিকে দেখতে অাসেনি বলে অভিযোগ করেন মৃত শিশুর পরিবার।

তারা অারো জানান – ডাক্তার জানে যে বাচ্চাটির নিউমোনিয়া হয়ছে তারপরও স্যালাইন দেয়া হয়েছে।অার বাচ্চার অবস্থা খারাপ হলে ডিউটিরত নার্সকে বিষয়টি অবগত করা হলে তিনি এক চাকমা ডাক্তারকে ডেকে নিয়ে অাসা হয়।এরপর তিনি নেবুলাইজ দেয়ার কথা বললে ডিউটিরত নার্স নেবুলাইজ দেয়ার চেষ্টা করলে বিদ্যুতের অবস্থা খারাপ হলে তা কাজে অাসেনি। পরে বাচ্চার শ্বাস বেড়ে গেলে তাৎক্ষণিক মারা যায়।

কিন্তু বাচ্চার অবস্থা খারাপ দেখেও ডিউিরত ডাক্তার রাঙ্গামাটিতে রেফার করেনি।তাদের এমন দায়িত্বহীনতার কারণে অকালে প্রাণ হারাতে হলো নিষ্পাপ শিশুটির।তারা অাক্ষেপ করে বলেন অামরা বরকল হাসপাতালে না নিয়ে এসে যদি রাঙ্গামাটি হাসপাতালে নিয়ে যেতাম তাহলে এমন অবস্থা হতো না। বরকল হাসপাতাল এখন কসাইখানা হয়ে গেছে।
দায়িত্বরত এক সিনিয়র নার্স বলেন, রোগীর(মৃত শিশু)ভর্তির দিনে অামি ছিলাম না এবং সেদিন অামার ডিউটি ছিল না।

অার কোন ডাক্তার বা নার্স ডিউটিতে ছিল তা জানি না।কিন্তু অামার ডিউটি অাওয়ারসে এসে দেখি এ শিশুর অবস্থা খারাপ। তাই মেডিকেল অফিসার ক্যানেজিয়াকে ডাক দেয়া হয়। এরপর তিনি নেবুলাইজ দেয়ার কথা বললে অামি দিয়ে দিই। কিন্তু বিদ্যুতের অবস্থা খারাপ হওয়ায় তা কাজে অাসেনি। পরে শিশুটির শ্বাস বেড়ে গেলে অবস্থা খারাপ হয়ে পড়ে।অার কিছুক্ষণ পর শিশুর মৃত্যু হয়।

মেডিকেল অফিসার ক্যানেজিয়া বলেন- অামি রাঙ্গামাটিতে করোনা পরীক্ষা করতে যায়।অার রিপোর্ট নেগেটিভ হওয়ায় ২১ তারিখ দুপুরে কর্মস্থলে অাসি। যার কারণে রোগীর অবস্থা সম্পর্কে তেমন একটা ধারণা নেই। অামার অাগে কর্মস্থলে দীপেন চাকমা ছিল। তিনি রোগীর ব্যাপারে ভালো জানতেন।