ভুষণছড়ার এরাবুনিয়াতে করোনা রেজেস্ট্রিশনের নামে বিপুল অর্থ আত্নস্বাতের চেষ্টা

0
11

আরিফুল ইসলাম, রাঙামাটি: কোভিট ১৯ একটি মরনঘাতী ভাইরাস।যা সমগ্র পৃথিবীকে নাজেহাল করে রেখেছেন।মারা গেছেন লক্ষ্য লক্ষ্য মানুষ।

ভুষণছড়ার এরাবুনিয়াতে করোনা রেজেস্ট্রিশনের নামে বিপুল অর্থ আত্নস্বাতের চেষ্টা
ভুষণছড়ার এরাবুনিয়াতে করোনা রেজেস্ট্রিশনের নামে বিপুল অর্থ আত্নস্বাতের চেষ্টা

তবে এই মহামারীকে কাজে লাগিয়ে কিছু অসাধু ব্যাক্তি রাতারাতি আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হবার চেষ্টাতেও মত্ত হয়েছেন।নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রবাদি থেকে বাদ যায় নি কোন কিছুই।এদের বর্তমানে টার্গেট অনলাইন টিকা রেজিষ্ট্রেশন!

পার্বত্যজেলা রাঙামাটির পিছিয়ে পড়া দুর্গম উপজেলার নাম বরকল উপজেলা।অত্র উপজেলার অধিকাংশ মানুষই অশিক্ষিত এবং আসচেতন।এই সুযোগটা কাজে লাগিয়ে ৪ নং ভুষণছড়া ইউনিয়নের ৩ কম্পিউটার দোকানী(মাহাবুব শেখ লাহাবুর(সাবেক যুবদলের কর্মী কম্পিউটার দোকানদার) মো হাসান উপজেলা আওয়ামী লীগের আহবায়ক কমিটির সদস্য ও কম্পিউটার দোকানদার ,

মো আবুল কালাম আজাদ,ইসলামিক ফাউন্ডেশনের কেয়ার টেকার ও কম্পিউটার দোকানদার) টিকা রেজিষ্ট্রেশন বাবদ ১০০ থেকে ৫০ এবং টিকা কার্ড প্রিন্ট করা বাবদ আরো ৫০ টাকা করে নিচ্ছে বলে জানান ভুক্তভোগীরা। অত্র এলাকায় তৎকালীন টিকা রেজিষ্ট্রেশনের অন্য কোন মাধ্যম না থাকায় নিরুপায় হয়ে এদের কাছেই টিকা রেজিস্ট্রেশন করতে বাধ্য হত এসব দরিদ্র জনতা।যার ফলশ্রুতিতে অত্র এলাকার এসব দরিদ্র জনগোষ্ঠীর থেকে তারা হাতিয়ে নেয় হাজার হাজার টাকা।

উক্ত বিষয়টি বরকল উপজেলার চৌকশ নির্বাহী কর্মকর্তা মো জুয়েল রানার দৃষ্টিগোচর হলে, তিনি এবং ভুষণছড়া ইউপি চেয়ারম্যান মো মামুনর রশীদ নিজ নিজ উদ্যোগে ফ্রি টিকা কার্ড রেজিস্টেশনের ব্যাবস্থা করে দেন।এছাড়া ভুষণছড়া আমতলা ও এরাবুনিয়ার কিছু,রাজনৈতিক ব্যাক্তিত্ব, তরুনসমাজ ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের কর্মীরা উক্ত কাজে আসেন।যার ফলে এলাকাবাসী ফ্রী রেজিষ্ট্রেশন সুবিধা পেতে শুরু করেন।

কিন্তু এতে তারা থেমে যায় নি সেই তিন কম্পিউটার দোকানী।বর্তমানে তারা ৫,৬,ও ৩ নং ওয়ার্ডের করোনা টিকার কার্ড নিয়ে এরাবুনিয়া বাজারের কম্পিউটার দোকানগুলোতে এলাকাবাসীর থেকে বিভীন্ন সময়ে বিনা অনুমতিতে রাখা ভোটার কার্ড দিয়ে তাদের নিজস্ব গোপন মোবাইল নাম্বারে otp দিয়ে টিকার কার্ডগুলো নিজেদের আওতায় রেখে জন প্রতি৫০ থেকে ২০০ টাকা করে দাম হাকাচ্ছে এসব দুষ্কৃতীকারীরা।যেখানে সমগ্র বরকলের কিছু তরুন নিজ উদ্যোগে ফ্রি এসব রেজিষ্ট্রেশন করছেন সেখানে এরা সামন্য কিছু টাকার লোভে পুরো এলাকায় অরাজকতা সৃষ্টি করে ফেলেছে।যার ফলে সরকারি টিকা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সাধারন জনগন।

আজ ৩০ শে আগষ্ট এসবের প্রতিবাদ করার দরুন সকাল ৮ টার দিগে উক্ত এরাবুনিয়া বাজারে দোকানদার মাহাবুব শেখ লাহাবুর সাংবাদিক আরিফুল ইসলামের ওপড় চড়াও হয়ে বসেন।সে উক্ত সাংবাদিক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, ইউপি চেয়ারম্যান ও মেম্বারদেরকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও হুমকী দিতে থাকে। উক্ত ঘটনাটি এরাবুনিয়া বাজারের একাধীক মানুষের সামনে ঘটেছে।এসময় উক্ত ব্যাক্তি সাংবাদিক আরিফকে বিভীন্ন রকমের হুমকী দিতে থাকে।

৫ও ৬ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্যরা জানানা,উক্ত ব্যাক্তিদ্বয়ের টিকার কার্ড রেজিস্টেশন বাবদ অতিরিক্ত টাকা নেবার বিষয়ে আমরা অবগত রয়েছি।এ বিষয়ে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

এ বিষয়ে ইউপি চেয়ারম্যান মো মামুনর রশিদ জানান,বিষয়টি খুবই স্পর্শকাতর।করোনা টিকা কার্ড নিয়ে এরা যে কাজটি করেছে এটা খুবই জগন্য এবং মর্মান্তিক। ভোটার কার্ড অনেক মুল্যবান জিনিস।যা ওদের কাছে থাকাটা নিরাপদ নয়।আজ টিকার কার্ড চুড়ি করছে কাল হয়ত এর থেকেও মুল্যবান জিনিস চুড়ি করবে।এদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের দৃষ্টি কামনা করছি। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানান,উক্ত কাজে জড়িত সকলকে আইনের আওতায় আনা হবে।

এছাড়াও এলাকাবাসীদের সুত্রে জানা যায়,উপরোক্ত অভিযুক্ত ব্যাক্তিদের কম্পিউটারগুলোতে বিভীন্ন পর্নোগ্রাফি রয়েছে যার দ্বারা এলাকার তরুন সমাজ প্রচণ্ড ক্ষতিগ্রস্ত হয়।এছাড়াও এরা বিভীন্ন ব্যাক্তির মোবাইলে গচ্ছিত ব্যাক্তিগত ফোন রেকর্ড, ছবিসহ বিভীন্ন প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস ইত্যাদি চুড়ি করে রেখেও মানুুষদের ব্ল্যাকমেইল করে থাকে।