নগরীতে আরো দুজনের আত্মহত্যা

0
1

চট্টগ্রামে আত্মহত্যার ঘটনা বেড়েছে। নগরী ও জেলা যেন আত্মহননের প্রতিযোগিতা দিয়েছে। আইনের চোখে আত্মহত্যা একটি অপরাধ বলে বিবেচিত হলেও তার প্রভাব পড়ছে না সমাজে।

চিকিৎসকদের মতে- মানসিক বিষন্নতা থেকেই মানুষ আত্মহত্যার চেষ্টা করে থাকে। মানসিক বিষন্নতা তৈরির পেছনে কাজ করে শারীরিক ও মানসিক অসুস্থতা, সিজোফ্রেনিয়া, প্রিয় মানুষটির মৃত্যু, মাদকের ছোবলসহ নানাবিধ কারণ। নিজের কাছে, পরিবার ও সমাজের কাছে নিজেকে মূল্যহীন ভাবতে গিয়েই মানুষ পা বাড়ায় আত্মহত্যার দিকে। মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. মিশকাতুর রহমান বলেন, আত্মহত্যার চেষ্টাকারীকে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে নিয়ে আসতে হবে।

এ ধরনের রোগী অবশ্যই সুস্থ হতে পারে। তবে সবচেয়ে বড়ো ওষুধ হলো, যে কারণে আত্মহত্যার চেষ্টা, তা সমাধানের চেষ্টা করা। তা যদি না করা যায়, তবে ওষুধে সে হয়তো কিছুদিন সুস্থ থাকবে, কিন্তু পুনরায় তার মধ্যে আত্মহত্যার প্রবণতা জেগে উঠতে পারে।

 

জানা যায়, গত বছর চট্টগ্রামে আত্মহত্যার প্রবণতা বেড়ে গিয়েছিল। প্রায় প্রতিদিনই চট্টগ্রামের কোথাও না কোথাও আত্মহত্যার ঘটনা ঘটছিল। চলতি বছরেও তা অব্যাহত আছে। সর্বশেষ গতকাল রোববার নগরীতে পৃথক ঘটনায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন আরো দু’জন। তারা হলেন-বাকলিয়ার রায়হান হোসেন রাকিব (২৫) ও বায়েজিদ এলাকার ফারজানা আক্তার (২৭)।

গতকাল রোববার মরদেহ দুটি ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ জহিরুল হক ভূঁইয়া জানান, বাকলিয়ার ইসহাকেরপুল এলাকায় একটি অফিসে ফ্যানের সঙ্গে গলায় ফাঁস লাগিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় রায়হান হোসেন রাকিব নামের এক যুবককে উদ্ধার করে রাত ৩টার দিকে চমেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগে আনা হয়। চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

রায়হান বাকলিয়ার ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের বশির আহমেদ সরদার বাড়ির মৃত নুরুল আলমের ছেলে।
অপরদিকে বায়েজিদ থানার চন্দ্রনগর নাছির ভবনে স্বামীর সঙ্গে ঝগড়া করে সবার অগোচরে ফ্যানের সঙ্গে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেন ফারজানা আক্তার। তাকে উদ্ধার করে চমেক হাসপাতালে নেয়া হলে জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক ভোর পৌনে ৫টার দিকে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ফারজানা দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার উত্তর সালামদার মন্ডলপাড়া পুলিশ বাড়ির মাসুদ রানার স্ত্রী।
শখের মোবাইল কিনে না দেয়ায় হালিশহরে ওয়াজিদুর রশিদ (১৭) নামে এক কিশোর আত্মহত্যা করেছে। গতকাল শনিবার বিকেল ৫টায় পূর্ব রামপুরা ঈদগাঁ বড়পুকুরপাড় এলাকার নিজ বাসায় ফ্যানের সঙ্গে গলায় রশি দিয়ে ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করে ওই কিশোর। ওয়াজিদুর রশিদ নগরের পূর্ব রামপুরা ঈদগাঁ বড়পুকুরপাড় এলাকার মরহুম হারুনুর রশিদের ছেলে। সে চিটাগাং লিবার্টি স্কুলের নবম শ্রেণীর ছাত্র ছিল।

গাছের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় নয়ন নামে এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করা হয় গত ১২ মার্চ। ঘটনাস্থলে একটি চিরকুট পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী দাবি করেন, স্ত্রীর সঙ্গে অভিমান করে গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করেন ওই যুবক। রাউজান পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের আলীরখীল গ্রামে তার বাড়ি। এলাকাবাসী জানান, তিন বছর আগে মা-বাবাকে না জানিয়ে সানজিদা তাসলিমা নামে স্বামী পরিত্যক্তা এক নারীকে বিয়ে করেন নয়ন। এরপর থেকে স্ত্রীকে নিয়ে শ্বশুরবাড়িতেই থাকতেন। মাঝে মধ্যে বাড়িতে আসতেন। আবার চলেও যেতেন।

তিনদিন আগে স্ত্রীর সঙ্গে ঝগড়া করে নিজের বাড়িতে চলে আসেন নয়ন। শুক্রবার রাতে পরিবারের সবার সঙ্গে খাবার খেয়ে শুয়েও পড়েন। কিন্তু শনিবার সকালে বাড়ির অদূরে একটি গাছের সঙ্গে তাকে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায়।