কুরআন ও হাদীসের আলোকে যিলহজের প্রথম দশক : গুরুত্ব, ফযীলত ও বিশেষ আমল

0
6

আল্লাহর গণনায় মাস ১২টি। এরমধ্যে ৪টি মাস সম্মানিত। যে মাসগুলোতে আল্লাহ তাআলা যুদ্ধ-বিদ্রোহ ও রক্তপাতকে হারাম ঘোষণা করেছেন। তন্মধ্যে যিলহজ মাস একটি। মহিমান্বিত রমাদান মাস ব্যতীত সেই বিশেষ দিনগুলির মধ্যে শ্রেষ্ঠ কয়েকটি দিন হচ্ছে যিলহ মাসের প্রথম দশটি দিন। যিলহজ মাসের প্রথম দশদিনের অনেক তাৎপর্য রয়েছে। এর মর্যাদা সম্পর্কে পবিত্র কোরআন ও হাদীসে বহু বাণী রয়েছে।
এ সংক্রান্ত কতিপয় আয়াত ও হাদীস উল্লেখ করা হলো :

১. আল্লাহ তা‘আলা পবিত্র কুরআনে পবিত্র এ দশকের রজনিসমূহের শপথ করেছেন। আর আল্লাহ তা‘আলা যখন কোনো বিষয়ের শপথ করেন তখন তা তার গুরুত্ব ও মর্যাদা অনেক বেড়ে যায়। আল্লাহ তা‘আলা এরশাদ করেন।
وَالْفَجْرِ وَلَيَالٍ عَشْرٍ
‘শপথ উষার আলোর ও দশ রজনির’। (সূরা ফজর ১-২)।
ইবনে আব্বাস রা., ইবনে যুবাইর ও মুজাহিদ রহ. সহ আরো অনেক মুফাসসিরে কেরাম বলেছেন যে, এ আয়াতে যিলহজ মাসের প্রথম দশ রাতের কথা বলা হয়েছে। ইবনে কাসীর রহ. বলেছেন‘এ মতটিই বিশুদ্ধ।’ (তাফসীরে ইবনে কাসীর ৮/৩)।
নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে এ দশ রাতের ব্যাখ্যা সম্পর্কে কোনো বাণী পাওয়া যায় না।
২. রাসূলুল্লাহ নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যিলহজের প্রথম দশদিন হলো দুনিয়ার শ্রেষ্ঠ দিন। এ প্রসঙ্গে বহু হাদীস এসেছে। যার কয়েকটি তুলে ধরা হলো :
১.
عن ابن عباس- رضى الله عنهما- أن النبى- صلى الله عليه وسلم- قال : ما من أيام العمل الصالح فيهن أحب إلى الله من هذه الأيام العشر، فقالوا
يا رسول الله، ولا الجهاد في سبيل الله ؟ فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم : ولا الجهاد في سبيل الله، إلا رجل خرج بنفسه وماله فلم يرجع من ذلك بشيء. (اخرجه البخاري فى صحيحه والترمذي فى سننه واللفظ له)
ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত,
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আল্লাহ তা‘আলার নিকট যিলহজ মাসের প্রথম দশকে সৎ কাজ করার মতো প্রিয় আমল আর কোনোটি নেই। তারা প্রশ্ন করলেন হে আল্লাহর রাসূল! আল্লাহর পথে জিহাদ করা কি তার চেয়ে প্রিয় নয়? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, না, আল্লাহর পথে জিহাদও নয়। তবে ঐ ব্যক্তির কথা আলাদা যে তার প্রাণ ও সম্পদ নিয়ে আল্লাহর পথে জিহাদে বের হয়ে গেল অতঃপর তার প্রাণ ও সম্পদের কিছুই ফিরে এল না। (সহীহ বুখারী হাদীস নং ৯৬৯)।
২.
عن عبد الله بن عمر- رضى الله عنهما- عن النبى- صلى الله عليه وسلم- قال : ما من أيام أعظم عند الله، ولا أحب إليه من العمل فيهن من هذه العشر، فأكثروا فيهن من التهليل والتكبير والتحميد. (اخرجه أحمد وقال أحمد شاكر :إسناده صحيح)
আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত নবী কারীম রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
আল্লাহ তা‘আলার নিকট এ দশ দিনের নেক আমলের চেয়ে প্রিয় ও মহান কোনো আমল নেই। তোমরা এ সময়ে বেশি বেশি লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ, আল্লাহু আকবার এবং আল-হামদুলিল্লাহ পাঠ করবে। (মুসনাদে আহমদ ১৩২)।
হাদীসগুলোর অর্থ হলো, বছরে যতগুলো পবিত্র দিন আছে তার মধ্যে এ দশটি দিন সর্বোত্তম। যেমন এ দশকের জুমআর দিনগুলো অন্য সময়ের জুমআর দিন থেকে উত্তম বলে বিবেচিত।
তাছাড়া আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ দিনসমূহে নেক আমল করার জন্য তার উম্মতকে উৎসাহিত করেছেন। আর তাঁর এ উৎসাহ প্রদান এ সময়ের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করে।
৩. যিলহজ মাসের প্রথম দশকের এ দিনগুলোতে নামাজ, সওম, সদকা, হজ ও কুরবানির মতো অতিশয় গুরুত্বপূর্ণ ইবাদতগুলো আদায় করা হয়। অন্য কোনো দিনে এতগুলো গুরুত্বপূর্ণ নেক আমল একত্র হয় না। এ সবই এ দশকের শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ বহন করে।
এখন একটি প্রশ্ন দাঁড়ায়। রমজানের শেষ দশক অধিক ফজিলতপূর্ণ না যিলহজ মাসের প্রথম দশক বেশি ফজিলতসম্পন্ন?

রমজানের শেষ দশকের রাতগুলো সবচেয়ে বেশি ফজিলতপূর্ণ। কারণ, তাতে লাইলাতুল কদর রয়েছে। অপরদিকে, যিলহজ মাসের প্রথম দশ দিনের দিবসসমূহ অধিকতর ফজিলতপূর্ণ। কারণ এ দিনগুলোতে তালবীয়াহ-এর দিন, আরাফার দিন, কুরবানির দিনের মতো গুরুত্বপূর্ণ দিনসমূহ রয়েছে

ইবনে রজব রহ. বলেন , যখন রাত্র উল্লেখ করা হয় তখন দিবসগুলোও তার মাঝে গণ্য হয়। এমনিভাবে, যখন দিবস উল্লেখ করা হয় তখন তার রাত্রিগুলো তার মাঝে গণ্য হয় এটাই স্বাভাবিক নিয়ম। তবে রমযানের শেষ দশক এবং জিলহজের প্রথম দশকের দিন-রাত্রিরগুলোর ক্ষেত্রে শেষ যুগের উলামায়ে কেরাম যা বলেছেন সেটাই চূড়ান্ত বলে বিবেচিত হতে পারে। তাহলো, সামগ্রিক বিচারে যিলহজ মাসের প্রথম দশকের দিবসগুলো রমজানের শেষ দশকের দিবসসমূহের চেয়ে অধিকতর মর্যাদাসম্পন্ন। আর অন্য দিকে রমাজানের শেষ দশকের লাইলাতুল কদর হলো জিলহজ মাসের প্রথম দশকের রাত্রিগুলো হতে বেশি মর্যাদাসম্পন্ন।
ইবনুল কায়্যিম রহ. ও প্রায় একই ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তিনি বলেন, রমজানের শেষ দশকের রাতগুলো সবচেয়ে বেশি ফজিলতপূর্ণ। কারণ, তাতে লাইলাতুল কদর রয়েছে। অপরদিকে, যিলহজ মাসের প্রথম দশ দিনের দিবসসমূহ অধিকতর ফজিলতপূর্ণ। কারণ এ দিনগুলোতে তালবীয়াহ-এর দিন, আরাফার দিন, কুরবানির দিনের মতো গুরুত্বপূর্ণ দিনসমূহ রয়েছে। (যাদুল মাআদ ১/৫৬-৫৭)।

যিলহজের প্রথম দশ দিনে যে সকল নেক আমল করা যেতে পারেঃ

খাঁটি মনে তওবা করা

তওবার অর্থ প্রত্যাবর্তন বা ফিরে আসা। যে সকল কথা ও কাজ আল্লাহ তা‘আলা অপছন্দ করেন তা থেকে যে সকল কথা ও কাজ আল্লাহ পছন্দ করেন তার দিকে ফিরে আসার নাম তওবা। চাই সে কাজগুলো প্রকাশ্যে হোক কিংবা গোপনে। সাথে সাথে এ ধরনের পাপ কাজের জন্য নিবিড়ভাবে অনুতপ্ত হতে হবে। পাপ কাজগুলো সম্পূর্ণরূপে পরিত্যাগ করতে হবে এবং এই মর্মে দৃঢ় সংকল্প করতে হবে যে, এ ধরনের কাজে আর কোনোদিন জড়িত হব না। উপরন্তু এ মর্মেও সংকল্প করতে হবে যে, আল্লাহ তা‘আলার পছন্দনীয় কাজগুলো যেমন বাস্তবায়িত করব তেমনি তার নিষিদ্ধ কাজগুলো পরিহার করব।
ইবনে কায়্যিম রহ. বলেন, খাঁটি তওবা হলো তিনটি বিষয়ের সমষ্টির নাম।
১. সকল প্রকার গুনাহ থেকে তওবা করা। এমন যেন না হয় কয়েকটি গুনাহ থেকে তওবা করলাম, আর পরে তওবা করে নেব ভেবে বাকিগুলোকে রেখে দিলাম। এতে তওবা হয়ে যাবে, তবে তা তওবা নাছূহ তথা বিশুদ্ধ তওবা হিসেবে গৃহীত হবে না-যে সম্পর্কে আল্লাহ তা‘আলা উপরোক্ত আয়াতে কারীমায় নির্দেশ করেছেন।
২. সম্পূর্ণভাবে পাপ পরিত্যাগ করার জন্য সততার সাথে দৃঢ় সংকল্প করতে হবে। এমন যেন না হয় যে তওবা করলাম আর মনে মনে বললাম জানি না, আমি এ তওবার উপর অটল থাকতে পারব কি-না।
৩. তওবা নিষ্ঠার সাথে আল্লাহকে ভয় করে তার সন্তুষ্টি অর্জনের লক্ষ্যেই করতে হবে। আল্লাহর সন্তুষ্টি ব্যতীত অন্য কোনো উদ্দেশ্য থাকবে না।
অবশ্যই এ তওবার সাথে সাথে আল্লাহ তা‘আলার কাছে অব্যাহতভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করতে হবে এবং সকল গুনাহ বা পাপ কর্মকে নিজ থেকে মিটিয়ে দিতে হবে। তা হলেই পূর্ণাঙ্গ তওবা বলে গ্রহণযোগ্যতা লাভ করতে পারে। (মাদারিজুস সালিকীন ৯/২০০।)

হজ ও ওমরাহ আদায় করাঃ

হজ হলো ইসলাম ধর্মের পাঁচটি মূল স্তম্ভের একটি। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন বলেন:
وَلِلَّهِ عَلَى النَّاسِ حِجُّ الْبَيْتِ مَنِ اسْتَطَاعَ إِلَيْهِ سَبِيلًا وَمَنْ كَفَرَ فَإِنَّ اللَّهَ غَنِيٌّ عَنِ الْعَالَمِينَ
মানুষের মাঝে যাদের সেখানে যাওয়ার সামর্থ্য আছে, আল্লাহর উদ্দেশে ঐ গৃহের হজ করা তার অবশ্য কর্তব্য। এবং কেউ প্রত্যাখ্যান করলে সে জেনে রাখুক নিশ্চয়ই আল্লাহ বিশ্বজগতের মুখাপেক্ষী নন। (সূরা আল ইমরান ৯৭)
নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ দুটি মর্যাদাপূর্ণ এবাদতের জন্য উম্মতকে উৎসাহিত করেছেন। এ দুটি এবাদতের মাঝে রয়েছে পাপের কুফল থেকে আত্মার পবিত্রতা, যার মাধ্যমে মানুষ আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের কাছে প্রিয় ও সম্মানিত হতে পারে। তাই নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
من حج فلم يرفث ولم يفسق رجع كيوم ولدته أمه .اخرجه البخاري فى صحيحه ومسلم فى صحيحه
যে ব্যক্তি হজ পালন করল কিন্তু তাতে কোনো রকমের অশ্লীল আচরণ করে নি ও কোনো পাপে লিপ্ত হয় নি সে যেন সেই দিনের মতো নিষ্পাপ হয়ে গেল যেদিন তার মাতা তাকে প্রসব করেছে। (সহীহ বুখারী হাদীস নং ১৪৪৯)।

তোমরা হজ ও ওমরাহ বার বার আদায়ের চেষ্টা কর। কেননা এ দুটো এবাদত দরিদ্রতাকে দূর করে দেয় যেমন হাপর লোহা ও স্বর্ণ-রুপার মরিচা দূর করে দেয়। আর হজে মাবরূরের প্রতিদান হবে একমাত্র জান্নাত

যে একবার ফরজ হজ ও ওমরাহ আদায় করেছে তার জন্য বার বার তা আদায় করা মোস্তাহাব। কারণ এ দুটি এবাদতে রয়েছে মহা পুরস্কার ও সওয়াব। রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
تابعوا بين الحج والعمرة فإنهما ينفيان الفقر، كما ينفي الكير خبث الحديد والذهب والفضة، وليس للحج المبرور ثواب إلا الجنة. اخرجه أحمد فى مسنده والترمذي فى سننه والنسائي فى سننه وابن ماجه فى سننه
তোমরা হজ ও ওমরাহ বার বার আদায়ের চেষ্টা কর। কেননা এ দুটো এবাদত দরিদ্রতাকে দূর করে দেয় যেমন হাপর লোহা ও স্বর্ণ-রুপার মরিচা দূর করে দেয়। আর হজে মাবরূরের প্রতিদান হবে একমাত্র জান্নাত। (মুসনাদে আহমদ ৩২৩)।

নিয়মিত ফরজ ও ওয়াজিবসমূহ আদায়ে যতœবান হওয়া
পবিত্র এ দশ দিনে ফরজ ও ওয়াজিবসমূহ সময়মতো সুন্দর ও পরিপূর্ণভাবে আদায় করা। যেভাবে প্রিয় নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আদায় করেছেন। সকল এবাদতসমূহ তার সুন্নত, মোস্তাহাব ও আদব সহকারে আদায় করা।
ফরজ-ওয়াজিবসমূহ যত্ন সহকারে নিয়ম মাফিক আদায় করা এমন একটি গুণ যার প্রশংসা আল্লাহ তা‘আলা তাঁর কালামে পাকে করেছেন। বলেছেন,
وَالَّذِينَ هُمْ عَلَى صَلَاتِهِمْ يُحَافِظُونَ
এবং যারা নিজেদের নামাযে যত্নবান। (সূরা আল মাআরিজ ৩৪)।

বেশি করে নেক আমল করাঃ

নেক আমল সকল স্থানে ও সর্বদাই আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের নিকট প্রিয়। তবে এই বরকতময় দিনগুলোতে নেক আমলের মর্যাদা ও সওয়াব অনেক বেশি।
যারা এ দিনগুলোতে হজ আদায়ের সুযোগ পেলেন তারা তো ভাগ্যবান সন্দেহ নেই। আর যারা হজে যেতে পারে নি তাদের উচিত হবে এ বরকতময় দিনগুলোকে মর্যাদা দিয়ে বেশি বেশি করে নামাজ আদায়, কোরআন তেলাওয়াত, জিকির-আযকার, দোয়া-প্রার্থনা, দান-সদকা, মাতা-পিতার সাথে সুন্দর আচরণ, আত্মীয়-স্বজনের সাথে সম্পর্ক গভীর করা, সৎকাজের আদেশ এবং অন্যায় ও অসৎ কাজের নিষেধ করাসহ প্রভৃতি ভালো কাজ সম্পাদন করা। যেমন ইতিপূর্বে হাদীসে আলোচিত হয়েছে যে, বেশি বেশি করে নেক আমলের মাধ্যমে আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের বিশেষ মহব্বত অর্জন করা যায়। (সহীহ বুখারী হাদীস নং ৬৫০২)

নখ, চুল ও অবাঞ্ছিত পশম কাটার বিধানঃ

হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর রা. থেকে বর্ণিত এক হাদীসে আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আমাকে কুরবানির দিবসে ঈদ (উদযাপনের) আদেশ করা হয়েছে। আল্লাহ তা‘য়ালা এ উম্মতের জন্য নির্ধারণ করেছেন। এক ব্যক্তি আরজ করলেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ! যদি আমার কাছে শুধু একটি ‘মানীহা’ থাকে (অর্থাৎ যা আমাকে শুধু দুধ পানের জন্য দেওয়া হয়েছে) আমি কি তা কুরবানি করতে পারি? নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, না। তবে তুমি চুল, নখ ও মোঁচ কাটবে এবং নাভীর নীচের পশম পরিষ্কার করবে। এটাই আল্লাহর দরবারে তোমার পূর্ণ কুরবানি বলে গণ্য হবে। (সুনানে আবূ দাঊদ ২/৩৮৫; সুনানে নাসায়ী ২/১৭৯)

আল্লাহ তা‘আলার জিকির করাঃ

এদিন সমূহে অন্যান্য আমলের মাঝে জিকিরের এক বিশেষ মর্যাদা রয়েছে।
আল্লাহ রাব্বুল আলামিন বলেন,
لِيَشْهَدُوا مَنَافِعَ لَهُمْ وَيَذْكُرُوا اسْمَ اللَّهِ فِي أَيَّامٍ مَعْلُومَاتٍ عَلَى مَا رَزَقَهُمْ مِنْ بَهِيمَةِ الْأَنْعَامِ
যাতে তারা তাদের কল্যাণময় স্থানগুলোতে উপস্থিত হতে পারে এবং তিনি তাদেরকে চতুষ্পদ জন্তু হতে যা রিজিক হিসেবে দান করেছেন তার উপর নির্দিষ্ট দিনসমূহে আল্লাহর নাম স্মরণ করতে পারে। (সূরা হজ ২৮)
ইমাম বুখারী রহ. সহ অধিকাংশ উলামায়ে কেরাম বলেছেন, এ আয়াতে নির্দিষ্ট দিন বলতে যিলহজের প্রথম দশ দিনকে নির্দেশ করা হয়েছে। এ সময়ে আল্লাহর বান্দাগণ বেশি বেশি করে আল্লাহর প্রশংসা করেন, তার পবিত্রতা বর্ণনা করেন, তার নেয়ামতের শুকরিয়া আদায় করেন, কুরবানির পশু জবেহ করার সময় আল্লাহর নাম ও তাকবীর উচ্চারণ করে থাকেন।

উচ্চস্বরে তাকবীর পাঠ করাঃ

এ দশকের নির্দিষ্ট দিনগুলোতে আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের মহত্ত্ব ঘোষণার উদ্দেশে তাকবীর পাঠ করা। (কিতাবুল আসার ১/২৫০/২০৯, কিতাবুল মাবসুত ১/৩৯)। তবে নির্দিষ্ট সময় ছাড়া এ দশ দিনের অন্যান্য সময়গুলোতেও আল্লাহ তা‘আলার মহত্ত্ব ঘোষণার উদ্দেশে তাকবীর পাঠ করা যেতে পারে। আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রা. ও আবূ হুরায়রা রা. যিলহজ্ব মাসের প্রথম দশকে বাজারে যেতেন এবং তাকবীর পাঠ করতেন। আর লোকজন তাদের অনুসরণ করে তাকবীর পাঠ করতেন। (সহীহ বুখারী ঈদ অধ্যায়, তাশরীকের দিনগুলোতে আমলের শ্রেষ্ঠত্ব সম্পর্কিত পরিচ্ছেদ ১১৮ দারু ইবনে হাযম প্রকাশনা)।
ইমাম আবু হানীফা র.-কে জিজ্ঞেস করা হলো, জিলহজ মাসের প্রথম দশকে কুফা এবং অন্যান্য এলাকার অধিবাসীদের জন্য বাজার এবং মসজিদে তাকবীর পাঠ করা কি যথাযথ হবে? আবু হানীফা র. বললেন, হ্যাঁ (যথাযথ হবে)। (রদ্দুল মুহতার ২/১৮০)

সিয়াম পালন করা বিষয়ে হাদিসে এসেছে,
عن حفصة رضى الله عنها قالت : أربع لم يكن يدعهن النبي- صلى الله عليه وسلم: صيام عاشوراء، والعشر، وثلاثة أيام من كل شهر والركعتين قبل الغداة . اخرجه أحمد فى مسنده والنسائي فى سننه و أبو داود فى سننه
হাফসা রা. থেকে বর্ণিত, নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চারটি আমল কখনো পরিত্যাগ করেন নি। সেগুলো হলো আশুরার সওম, যিলহজের দশ দিনের সওম, প্রত্যেক মাসের তিন দিনের সওম, ও জোহরের পূর্বের দু রাকাত নামাজ। (সুনানে নাসাঈ হাদীস নং ২২৩৬)
এ হাদিসে যিলহজের দশ দিনের সওম বলতে নবম তারিখ ও তার পূর্বের সওম বুঝানো হয়েছে। কেননা দশম দিন তথা ঈদের দিনে তো রোযা রাখা জায়েজ নেই। ইমাম নবভী রহ. বলেন, নবম তারিখে সওম পালন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মোস্তাহাব আমল।
অপরদিকে রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ দশ দিনে সকল প্রকার নেক আমল পালন করতে উৎসাহিত করেছেন আর সওম অবশ্যই নেক আমলের অন্তর্ভুক্ত। বরং নেক আমলসমূহের মাঝে সওম একটি গুরুত্বপূর্ণ ও মর্যাদাসম্পন্ন আমল।
কোনো
কোনো কোনো দেশের সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে মহিলাদের মাঝে একটি ধারণা প্রচলিত আছে, যিলহজ মাসের সাত, আট ও নয় তারিখে সওম পালন করা সুন্নত। কিন্তু সওমের জন্য এ তিন দিনকে নির্দিষ্ট করার কোনো প্রমাণ বা ভিত্তি নেই। যিলহজের ১ থেকে ৯ তারিখে যে কোনোদিন বা পূর্ণ নয় দিন সওম পালন করা যেতে পারে। তবে আরাফার দিন তথা যিলহজ মাসের নবম তারিখে সওম পালনের ব্যাপারে স্বতন্ত্র নির্দেশনা রয়েছে। হাদিসে এসেছে,
عن أبي قتادة رضى الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: صيام يوم عرفة احتسب على الله أن يكفر السنة التي قبله والسنة التي بعده .اخرجه مسلم فر صحيحه
আবু কাতাদাহ রা. থেকে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: ‘আরাফার দিনের সওমকে আল্লাহ রাব্বুল আলামিন বিগত ও আগত বছরের গুনাহের কাফ্ফারা হিসেবে গ্রহণ করে থাকেন। (সহীহ মুসলিম হাদীস নং ১১৬৩)

কুরবানি করাঃ

এ দিনগুলোর দশম দিন সামর্থ্যবান ব্যক্তির জন্য কুরবানি করা ওয়াজিব। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন তার নবীকে কুরবানি করতে নির্দেশ দিয়েছেন। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
فَصَلِّ لِرَبِّكَ وَانْحَرْ
আপনি আপনার প্রতিপালকের উদ্দেশে নামাজ আদায় করুন ও কুরবানি করুন। (সূরা আলকাউসার ১-২)
এ আয়াতে ঈদের নামাজ আদায় করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে ও কুরবানির পশু জবেহ করতে আদেশ করা হয়েছে। তাই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সারা জীবন কুরবানির ব্যাপারে অত্যন্ত যত্নবান ছিলেন।

ঈদের নামাজ আদায় করাঃ

ঈদের নামাজ ওয়াজিব। সুতরাং মুসলিমের জন্য কর্তব্য হলো ঈদের নামাযে আগ্রহ সহকারে অংশ গ্রহণ করা, মনোযোগ দিয়ে খুতবা শোনা এবং ঈদের প্রচলনের লক্ষ্য-উদ্দেশ্য সম্পর্কে চিন্তা-ভাবনা করা। মনে রাখতে হবে ঈদের দিনটা আল্লাহ তা‘আলার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ ও সৎ-কাজ করার দিন। এ দিনটা যেন গান-বাজনা, মদ্য-পান, অশালীন বিনোদন, প্রভৃতি পাপাচারের দিনে পরিণত না করা হয়। কারণ অনেক সময় সৎ কাজ বিনষ্ট হওয়ার কারণেই এ সকল পাপ কর্ম সৃষ্টি হয়। (সহীহুল বুখারী হাদীস নং ৯৭১, মুসনাদু আহমদ হাদীস ১৮/৩৯৫/২৬৮৯৩ শায়খ আহমদ শাকের তাহকীক কৃত সংস্করণ)

আরাফাহ দিবস

আরাফাহ দিবসের ফজিলতঃ

আরাফাহ দিবস হলো একটি মর্যাদাসম্পন্ন দিন। যিলহজ মাসের নবম তারিখকে আরাফাহ দিবস বলা হয়। এ দিনটি অন্যান্য অনেক ফজিলত সম্পন্ন দিনের চেয়ে বেশি মর্যাদার অধিকারী। যে সকল কারণে এ দিবসটির এত মর্যাদা তার কয়েকটি কারণ নীচে আলোচিত হলো।
ইসলাম ধর্মের পূর্ণতা লাভ এবং বিশ্ব মুসলিমের প্রতি আল্লাহর নিয়ামতের পরিপূর্ণতা প্রাপ্তির দিন হলো আরাফাহ।
হাদীসে এসেছে,
روى الإمام البخاري- رحمه الله- بسنده عن طارق بن شهاب : قالت اليهود لعمر : إنكم تقرءون آية لو نزلت فينا لاتخذناها عيدا، فقال عمر : إني لأعلم حيث أنزلت ، وأين أنزلت، وأين كان رسول الله صلى الله عليه وسلم حين أنزلت: يوم عرفة وإنا والله بعرفة، (الْيَوْمَ أَكْمَلْتُ لَكُمْ دِينَكُمْ وَأَتْمَمْتُ عَلَيْكُمْ نِعْمَتِي وَرَضِيتُ لَكُمُ الْإِسْلَامَ دِينًا المائدة اخرجه البخاري فى صحيحه
ইমাম বুখারি রহ. নিজস্ব সূত্রে তারিক বিন শিহাব রহ. থেকে বর্ণনা করেন, ইহুদীরা উমর রা.কে বলল : তোমরা এমন একটি আয়াত তেলাওয়াত করে থাকো যদি সে আয়াতটি আমাদের প্রতি অবতীর্ণ হতো তাহলে আমরা সে দিনটিকে ঈদ হিসেবে উদযাপন করতাম। উমর রা. এ কথা শুনে বললেন : আমি অবশ্যই জানি কখন তা অবতীর্ণ হয়েছে, কোথায় তা অবতীর্ণ হয়েছে, আর অবতীর্ণ হওয়ার সময় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোথায় ছিলেন। হ্যাঁ, সে দিনটি হলো আরাফাহ দিবস, আল্লাহর শপথ ! আমরা সেদিন আরাফাতের ময়দানে ছিলাম। আয়াতটি হলো, আজ তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীন পূর্ণাঙ্গ করলাম ও তোমাদের প্রতি আমার অনুগ্রহ সম্পূর্ণ করলাম এবং ইসলামকে তোমাদের জীবন বিধান হিসেবে মনোনীত করলাম। (সহীহ বুখারী হাদীস নং ৪৬০৬)

আরাফাহ দিবসের রোযা দু’বছরের কাফফারাঃ

যেমন হাদীসে এসেছে,
عن أبي قتادة رضى الله عنه أن النبي صلى الله عليه وسلم سئل عن صوم يوم عرفة فقال: (يكفر السنة الماضية والباقية).اخرجه مسلم فى صحيحه
আবু কাতাদাহ রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে আরাফাহ দিবসের সওম সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন: ‘বিগত ও আগত বছরের গুনাহের কাফ্ফারা হিসেবে গ্রহণ করা হয়ে থাকে। (সহীহ মুসলিম হাদীস নং ১১৬৩)

আরাফার দিন গুনাহ মাফ ও জাহান্নাম থেকে মুক্তি লাভের দিনঃ

যেমন হাদীসে এসেছে,
عن عائشة- رضى الله عنها- قالت : إن رسول الله- صلى الله عليه وسلم- قال : ما من يوم أكثر من أن يعتق الله فيه عبداً من النار من يوم عرفة، وإنه ليدنو ثم يباهي بهم الملائكة، فيقول : ما أراد هؤلاء؟ (اخرجه مسلم فى صحيحه)
আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: ‘আরাফার দিন আল্লাহ রাব্বুল আলামিন তার বান্দাদের এত অধিক সংখ্যক জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেন যা অন্য দিনে দেন না। তিনি এ দিনে বান্দাদের নিকটবর্তী হন ও তাদের নিয়ে ফেরেশতাদের কাছে গর্ব করে বলেন : ‘তোমরা কি বলতে পারো আমার এ বান্দাগণ আমার কাছে কি চায়? (সহীহ মুসলিম হাদীস নং ১৩৪৮)

মনে রাখা প্রয়োজন, শরীরের অঙ্গসমূহ হারাম ও অপছন্দনীয় কাজ থেকে হেফাজত করা যেমন সওমের দাবি তেমনি হজেরও দাবি। কাজেই সর্বাবস্থায় এ দিনে এ বিষয়টির প্রতি যতœবান হতে হবে। আল্লাহ ও তার রাসূলের আদেশ বাস্তবায়ন ও নিষেধগুলোকে পরিহার করতে হবে।

অধিক পরিমাণে জিকির ও দোয়া করাঃ

নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
خير الدعاء دعاء يوم عرفة ، وخير ما قلت أنا والنبيون من قبلي : لَا إِلهَ إِلاَّ اللهُ وَحْدَهُ لاَ شَرِيْكَ لَهُ، لَهُ المُلْكُ وَلَهُ الحَمْدُ، وَهُوَ عَلى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيْر اخرجه الترمذي فى سننه واخرجه مالك في الموطأ
সবচেয়ে উত্তম দোয়া হলো আরাফাহ দিবসের দোয়া। আর আমি এবং আমার পূর্ববর্তী নবীদের বলা কথার মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ কথা হলো : আল্লাহ ব্যতীত সত্যিকার কোনো মাবুদ নেই। তিনি একক তার কোনো শরিক নেই। রাজত্ব তারই আর সকল প্রশংসা তারই প্রাপ্য, এবং তিনি সর্ব বিষয়ে শক্তিমান। (সুনানে তিরমিযী হাদীস নং ২৮৩৭)।

ইমাম খাত্তাবী রহ. বলেন, এ হাদিস দ্বারা বুঝে আসে যে দোয়া করার সাথে সাথে আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের প্রশংসা ও তার মহত্ত্বের ঘোষণা দেওয়া উচিত। (শানুদ দু‘আ লিল খাত্তাবী ২০৬)

তাকবীর পাঠ করাঃ

প্রত্যেক মুসল্লির জন্য যিলহজের নয় তারিখের ফজর হতে নিয়ে তের তারিখের আসর পর্যন্ত প্রত্যেক ফরজ নামায আদায় শেষে সালাম ফেরানোর সাথে সাথে উচ্চস্বরে একবার তাকবীরে তাশরীক পাঠ করা ওয়াজিব। (সুরাতুল বাকারা আয়াত নং ২০৩, মুস্তাদরাকে হাকেম ১/২৯৯/১১৫২-১১৫৭, ১৬২, রদ্দুল মুহতার ২/১৭৮, মজমু আতুল-ফাতাওয়া : ইমাম ইবনে তাইমিয়া ২৪/২২০, ফাতহুল বারী : ইবনে হাজার, ৩/৫৩৫)
তাকবীরে তাশরীকের বিভিন্ন শব্দ হাদীসে উল্লেখিত রয়েছে। তন্মধ্য হতে সর্বোত্তম ও সর্বজনবিদিত শব্দ হলো।
اَللهُ َكْبَرُ، اَللهُ أَكْبَرُ، لَاإِلَهَ إِلاَّ اللهُ، وَاللهُ أَكْبَرُ، اللهُ أَكْبَرُ وَلِلهِ الحَمْدُ
(তবারানী আলমু‘জামুল কাবীর হাদীস নং ৯৫৩৮, মুসান্নাফে ইবনে আবিশাইবা হাদীস নং ৫৬৭৯,৫৬৯৬, ই‘লাউস সুনান ৮/১৫৬, বাদাইউস সানায়ি’ ১/৪৫৮)

উল্লেখ্য, তাকবীরে তাশরীকের সূচনা সম্পর্কিত একটি ঘটনা লোক মুখে বেশ প্রচলিত। ঘটনাটি চমকপ্রদ ও আকর্ষণীয় হলেও বিদগ্ধ মহাদ্দিসীনে কেরামের দৃষ্টিতে এটি সঠিক নয়। ইবনে আবিদীন রহ. ঘটনাটি উল্লেখ করার পর বলেন, এভাবে ফুকাহায়ে কেরাম কাহিনিটি উল্লেখ করেন। কিন্তু মুহাদ্দিসীনে কেরামের দৃষ্টিতে ঘটনাটি প্রমাণিত নয়। (রদ্দুল মুহতার ২/১৭৮)
ইবনুলহুমাম রহ. মারগিনানী রহ.-এর এ ঘটনা সম্পৃক্ত ইতিবাচক উক্তি উল্লেখ করার পর বলেন, ঘটনাটি হাদীস এবং রিজাল শাস্ত্রবিদদের নিকট প্রমাণিত নয়। (ফাতহুল কাদীর ২/৮০ আব্দুর রাজ্জাক তাহকীক কৃত সংস্করণ)

কুরবানির দিন

কুরবানির দিনের ফজিলতঃ

১. এ দিনের একটি নাম হলো ইয়াওমুল হজ্জিল আকবর বা শ্রেষ্ঠ হজের দিন। যে দিনে হাজিগণ তাদের পশু জবেহ করে হজকে পূর্ণ করেন। হাদীসে এসেছে,
عن ابن عمر- رضى الله عنهما- أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال يوم النحر: (أي يوم هذا)؟ قالوا: يوم النحر، قال: هذا يوم الحج الأكبر .اخرجه أبو داود فى سننه
ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুরবানির দিন জিজ্ঞেস করলেন এটা কোনো দিন? সাহাবাগণ উত্তর দিলেন এটা ইয়াওমুন্নাহার বা কুরবানির দিন। রাসূলে কারীম রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : এটা হলো ইয়াওমুল হজ্জিল আকবর বা শ্রেষ্ঠ হজের দিন। (সুনানে আবু দাউদ হাদীস নং ১৯৪৫)
২. কুরবানির দিনটি হলো ঈদুল ফিতরের দিনের চেয়েও মর্যাদাসম্পন্ন। কেননা এ দিনটি বছরের শ্রেষ্ঠ দিন। এ দিনে নামাজ ও কুরবানি একত্র হয়; যা ঈদুল ফিতরের নামাজ ও সদকাতুল ফিতরের চেয়ে শ্রেষ্ঠ। আল্লাহ তা‘আলা তার রাসূলকে কাওসার দান করেছেন। এর শুকরিয়া আদায়ে তিনি তাকে এ দিনে কুরবানি ও নামাজ আদায়ের নির্দেশ দিয়েছেন। (লাতায়িফুল মাআরিফ ৪৮২-৮৩)

কুরবানির দিনটি হলো ঈদুল ফিতরের দিনের চেয়েও মর্যাদাসম্পন্ন। কেননা এ দিনটি বছরের শ্রেষ্ঠ দিন। এ দিনে নামাজ ও কুরবানি একত্র হয়; যা ঈদুল ফিতরের নামাজ ও সদকাতুল ফিতরের চেয়ে শ্রেষ্ঠ। আল্লাহ তা‘আলা তার রাসূলকে কাওসার দান করেছেন। এর শুকরিয়া আদায়ে তিনি তাকে এ দিনে কুরবানি ও নামাজ আদায়ের নির্দেশ দিয়েছেন

কুরবানির দিনের করণীয়ঃ

ঈদের নামাজ আদায় করা, এর জন্য সুগন্ধি ব্যবহার, পরিচ্ছন্নতা অর্জন, সুন্দর পোশাক পরিধান করা। তাকবীর পাঠ করা। কুরবানির পশু জবেহ করা ও তার গোশত আত্মীয়-স্বজন, পাড়া-প্রতিবেশী, বন্ধু-বান্ধব ও দরিদ্রদের মাঝে বিতরণ করা। এ সকল কাজের মাধ্যমে আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের নৈকট্য অর্জন ও সন্তুষ্টি অন্বেষণের চেষ্টা করা। এ দিনটাকে শুধু খেলাধুলা, বিনোদন ও পাপাচারের দিনে পরিণত করা কোনোভাবেই ঠিক নয়।

আইয়ামুত তাশরীকে করণীয়ঃ

এ দিনসমূহ যেমন এবাদত-বন্দেগি, জিকির-আযকারের দিন তেমনি অনাবিল আনন্দ প্রকাশ করার দিন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: ‘আইয়ামুত-তাশরীক হলো খাওয়া-দাওয়া ও আল্লাহর জিকিরের দিন। (সহীহ মুসলিম হাদীস নং ১১৪১)
এ দিনগুলোতে আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের দেওয়া নেয়ামত পেয়ে আনন্দ প্রকাশ করা এবং তার শুকরিয়া ও জিকির করা। জিকির আদায়ের কয়েকটি পদ্ধতি হাদীসে এসেছে।
১. নামাযের পর তাকবীর পাঠ করা। এবং নামাজ ছাড়াও সর্বদা তাকবীর পাঠ করা। এ তাকবীর আদায়ের মাধ্যমে আমরা প্রমাণ দিতে পারি যে এ দিনগুলো আল্লাহর জিকিরের দিন। আর এ জিকিরের নির্দেশ যেমন হাজিদের জন্য তেমনই যারা হজ পালনরত নন তাদের জন্যও।
২. কুরবানি ও হজের পশু জবেহ করার সময় আল্লাহ তা‘আলার নাম ও তাকবীর উচ্চারণ করা।
৩. খাওয়া-দাওয়ার শুরু ও শেষে আল্লাহ তা‘আলার জিকির করা। আর এটা তো সর্বদা করার নির্দেশ রয়েছে তথাপি এ দিনগুলোতে এর গুরুত্ব বেশি দেওয়া। এমনিভাবে সকল কাজ ও সকাল-সন্ধ্যার জিকিরগুলোর প্রতি যতœবান হওয়া।
৪. হজ পালন অবস্থায় কঙ্কর নিক্ষেপের সময় আল্লাহ তা‘আলার তাকবীর পাঠ করা।
৫. এগুলো ছাড়াও যে কোনো সময় ও যে কোনো অবস্থায় আল্লাহর জিকির করা।

✍ ডাঃ খালেদ বিন ফিরোজ