“কাপ্তাইয়ের বিদ্যুৎ সরবরাহের গাফিলতির কারনে বিদ্যুৎ এর ভোগান্তি চরমে”

0
15

আরিফুল ইসলাম,রাঙামাটি প্রতিনিধিঃ

কাপ্তাই বিদ্যুৎ সরবরাহের ৩৩/১১ কেভি সাবস্টেশনটি কাপ্তাই প্রকৌশল একাডেমি সংলগ্ন। ঐ স্টেশন থেকে ০৪ টি ১১ কেভি ফিডার রয়েছে। ১১ কেভি বড়ইছড়ি ফিডার দিয়ে শুরু করি।এটি থেকে কাপ্তাই উপজেলা সদরে বিদ্যুৎ সরবরাহ হয়েছে। দিনে ও রাতে মিলিয়ে সারাদিনে ০৪ ঘন্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ পাওয়া যায় না।ইউ এন ও কাপ্তাই মুনতাসীর জাহান জানান বর্তমানে কোভিড ১৯ মহামারীর সময়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয় সহ জিলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে আপডেট দিতে হয়।বিদ্যুৎ এর এই ভেলকি বাজীর কারনে উপজেলার সার্ভার স্টেশন সহ মূল্যবান যন্ত্রপাতি নষ্ঠ হয়ে যাচ্ছে।

কাপ্তাই ইউনিয়ন চেয়ারম্যান ও কাপ্তাই ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি জনাব আব্দুল লতিফ জানান কাপ্তাই এর বিদ্যুৎ সরবরাহের সেবা মূলক কাজের চেয়ে তারা নিজ ব্যাক্তিগত সেবায় বেশি ব্যাস্ত থাকে।কিছুদিন পূর্বে কাপ্তাই নতুন বাজার ব্যবসায়ী মহল কাপ্তাই বিদ্যুৎ কেন্দ্র ঘেরাও করে মিটিং মিছিল করেছে।

কাপ্তাই উপজেলা প্রেস ক্লাব সভাপতি জানান কাপ্তাই জল বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ০৫ টি ইউনিট হইতে উৎপাদিত ২৩০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ বাংলাদেশের সর্বত্র সরবরাহ হইতে পারে অথচ জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র সংলগ্ন এলাকা সমূহ যথা কাপ্তাই নতুন বাজার,কাপ্তাই শিল্প এলাকা, কাপ্তাই সুইডিশ সহ নেভীতে বিদ্যুৎ সরবরাহ আসা যাওয়ার ফলে জনমনে অসন্তোষ দানা বেঁধেছে।

কাপ্তাই সুইডিশের অধ্যক্ষ জনাব আব্দুল মতিন জানান ভাই কি বলবো? অত্যান্ত প্রয়োজনের সময় বিদ্যুৎ সরবরাহ থাকে না।বিদ্যুৎ বিভাগের উদাসীনতার কারনে দাপ্তরিক কাজের ব্যাঘাত ঘটতেছে।আবাসিক প্রকৌশলী জনাব আসফাকুর রহমান মুজিবকে জানানোর পরও এই ভোগান্তীর কোন রকম সুরাহা হচ্ছে না।

কাপ্তাই বিদ্যুৎ সরবরাহের আবাসিক প্রকৌশলী জনাব আসফাকুর রহমান মুজিব জানান কাপ্তাই বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে বড়ইছড়ি ১১ কেভি লাইনটির দূরুত্ব প্রায় ১২ কিলোমিটার। অত্যান্ত পুরাতন বিদ্যুৎ লাইনটি পাহাড়ের পাশ দিয়ে চলে এসেছে। ফলে প্রায়ই বানর লাফিয়ে পড়ে লাইনে ত্রুটি বিচ্যুতি ঘটায়।গাছ পালা ভেঙ্গে পড়ে লাইনের ক্ষতি সাধিত হয়।শিলছড়ি টিম্বারের গাছের বাগানের ভিতর দিয়ে বিদ্যুৎ লাইনটি বাহির করে এনে ৩৩ কেভি লাইনে উঠাতে হবে।তাছাড়া এই বড়ইছড়ি বিদ্যুৎ লাইন হইতে ডুলুছড়ি,সাপছড়ি,নিশ্চিন্তাপুর ইত্যাদি বিভিন্ন স্থানে শাখা লাইন যাওয়ার কারনে বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে না।বড়ইছড়ি উপজেলা সদরে একটি ৩৩/১১ কেভি সাবস্টেশন স্থাপন করা অত্যান্ত জরুরি প্রয়োজন।

চন্দ্রঘোনা গ্রীড থেকে সরবরাহকৃত বিদ্যুৎ লাইন গুলির একই অবস্থা। একটু বৃষ্টি না হতেই বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। রাজস্থলী প্রেস ক্লাব সভাপতি জানান রাজস্থলী উপজেলার জনগন বিদ্যুৎ সরবরাহের অব্যাবস্থাপনায় মানব বন্ধনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এই উপজেলায় বিদ্যুৎ বিভাগের কোন লোক নাই। আল্লার ওয়াস্তে চলতেছে এই এলাকার বিদ্যুৎ।

জুরাছড়ি উপজেলার এর সাংবাদিক সুমন্ত চাকমা ও বরকল উপজেলার সাংবাদিক জানান কাপ্তাই থেকে সরবরাহকৃত বিদ্যুৎ আমাদের পর্যন্ত পৌঁছে না।সময় সময় এর সাথে দেখা হয়ে যায়।তখন তাকে অতি যতনে আপ্যায়নে ব্যাস্ত থাকি।

পরিশেষে বিদ্যুৎ বিভাগের কতৃপক্ষের নিকট জনগনের দাবি সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনায় দক্ষতা সম্পন্ন জন বল পদস্থ করার মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার।