

মো আরিফুল ইসলাম, রাঙ্গামাটি প্রতিনিধি:
পার্বত্য চট্টগ্রাম জেলা সৃষ্টির পর আমরা প্রায় দেড়শত বছর অতিক্রম করেছি। এ সময়ে কতিপয় মানুষের কর্ম এ অঞ্চলকে আলোকিত ও সমৃদ্ধ করেছে। তাঁদের এ অবদানকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। এসব আলোকিত ব্যক্তিবর্গের মাপকাঠি নির্ধারণের কাজ অত্যন্ত দুরুহ। এমনই একজন হলেন রাঙামাটি ২৯৯ নং আসনের এমপি বীর মুক্তিযোদ্ধা দিপঙ্কর তালুকদার। নানাবিধ সীমাবদ্ধতা ও তথ্য ঘাটতির কারণে তার রাজনৈতিক জীবনী পুরোপুরি তুলে ধরা কারো পক্ষে সম্ভব হয়নি। পার্বত্য চট্টগ্রামের রাজনীতি, সমাজ, ধর্ম, শিক্ষা, সংস্কৃতি, সাহিত্য ও অন্যান্য বিষয়ে তার অবদান অসামান্য।
পাহাড়ের রাজনীতির বরপুত্র বলা হয় তাকে।কয়েক যুগ ধরে তার একক দূরদর্শীতা একটু একটু করে সাজিয়েছেন রাঙামাটি আওয়ামী পরিবারকে।
একদিকে পাহাড়ের অবৈধ অস্ত্রের ঝনঝনানি অন্য দিকে বিএনপির বিভিন্ন ষড়যন্ত্র। প্রতিনিয়ত হাজারো বাধা অতিক্রম করে তাকে এগিয়ে যেতে হয়েছে।পার্বত্য শান্তিচুক্তি সম্পাদন তাঁর বিশেষ অর্জন।
দীপংকর তালুকদার ১৯৫২ সালের ১২ ডিসেম্বর পার্বত্য রাঙ্গামাটি জেলার চম্পকনগর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম হেমন্ত প্রসাদ তালুকদার ও মাতার নাম বিদুৎপ্রভা তালুকদার।তিনি শিক্ষাজীবনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৭৪ সালে ইংরেজিতে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন।
তিনি ছাত্র জীবন থেকে রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত হন। উনসত্তর ও সাতাশির গণঅভ্যূত্থানে অংশগ্রহণ করে তিনি দুইবার কারাবরণ করেন। তিনি মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। তিনি ১৯৭২-৭৩ খ্রিস্টাব্দে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলের ছাত্র সংসদের সদস্য এবং ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৭৩-৭৪ খ্রিস্টাব্দে তিনি ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক এবং ইংরেজি বিভাগীয় সমিতির প্রচার সম্পাদক নির্বাচিত হন। ১৯৮৬ খ্রিস্টাব্দে তিনি রাঙ্গামাটি জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ১৯৯৬ ও ২০০২ খ্রিস্টাব্দে তিনি পর পর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হন। অদ্যাবধি তিনি উক্ত পদে রয়েছেন। তিনি ১৯৯১, ১৯৯৬ ও ২০০৮ সালে রাঙ্গামাটি আসন থেকে সাংসদ নির্বাচিত হন। ১৯৯৮ সালে প্রতিমন্ত্রীর পদ মর্যাদায় পার্বত্য চট্টগ্রাম শরনার্থী বিষয়ক টাস্কফোর্সের চেয়ারম্যান নিযুক্ত হন। তিনি ১৯৯১ সালে বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের স্থায়ী কমিটির সদস্য, ১৯৯৬ সালে বাংলাদেশ শিক্ষা কমিটি, সংস্থাপন মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত স্থায়ী কমিটি ও জাতীয় সংসদ হাউস কমিটির সদস্য ছিলেন। ২০০৯ সালে তিনি পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী নিযুক্ত হন। তাঁর ছদ্মনামে লেখা গ্রন্থ হচ্ছে ‘প্রসঙ্গঃ পার্বত্য চট্টগ্রাম’।
আগামী ২৪শে মে রাঙামাটি জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন। কর্মীর অসামান্য ভালোবাসা আর বিশ্বাসের অন্যতম আশ্রয়স্থল হিসেবে তাকেই পুনরায় সভাপতি পদে পেতে চাচ্ছে রাঙামাটির আওয়ামী পরিবারের নেতৃবৃন্দরা।
উক্ত সম্মেলনে সভপতি পদে তার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন পার্বত্য উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান নিখীল কুমার চাকমা। সাধারন সম্পাদক হিসেবে এ পর্যন্ত দুজন প্রার্থীর নাম শোনা যাচ্ছে। তারা হলেন বর্তমান জেলা আওয়ামী লীগের দায়িত্বরত সাধারন সম্পাদক হাজী মোহাম্মদ মুছা মাতাব্বর ও সাবেক সাধারন সম্পাদক হাজী কামাল উদ্দিন।
উক্ত সম্মেলনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের উপস্থিত থাকবেন বলেও জানা যায়।





