২ বছর ধরে বাঁশের সাঁকোই ভরসা

0
27

জাকির ইসলাম মিন, রংপুর জেলা প্রতিনিধিঃ-দেশ যখন উন্নয়নের জোয়ারে ভেসে চলেছে, ৫ বছরে হবে ৫০ বছরের উন্নয়ন: সেই আধুনিক সময়ে মানুকে এখনো বাঁশের সাঁকো দিয়েই নদী পারাপার করতে হয়। দুর্ভোগের শেষ কোথায় তা আজও জানে না নদী পারের মানুষসহ আশেপাশের এলাকার লোকজন।

২ বছর ধরে বাঁশের সাঁকোই ভরসা
২ বছর ধরে বাঁশের সাঁকোই ভরসা

এমন দৃশ্য দেখা যায় রংপুরের কাউনিয়া উপজেলা শহীদবাদ ইউনিয়নের ০৪ নং ওয়ার্ড (খলিলের ঘাট) পৃর্ব পাশের এলাকায় সংযোগস্থল নদীর পাড়ে। নদীর ওপর ব্রীজ না থাকায় প্রায় ৫-৭ টি গ্রামের মানুষকে নিয়মিত দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। চরম দুর্ভোগের শিকার নদীর দু’পাড়ের এলাকার মানুষ।

প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে বাঁশের সাঁকো দিয়ে পারাপার হচ্ছে কোমলমতি শিক্ষার্থীসহ শত শত কর্মজীবী মানুষ। বাঁশ দিয়ে পারাপারের জন্য স্থানীয় বাসিন্দারা একটি অস্থায়ী সেতু তৈরী করলেও গত মঙ্গলবার বন্যায় তা ভেঙে চলাচলের অনুযুক্ত হয়ে। এখন মানুষ নৌকা দিয়ে নদী পার হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকে আমাদের এই এলাকা অবহেলিত।স্বাধীনতার পর থেকে মানুষজন নৌকা পারাপার হতো। নৌকা বন্ধ হওয়ার পরও প্রায় ৩ বছর ধরে বাঁশের সাঁকো দিয়েই মানুষ নদী পার হচ্ছে। তিস্তা শাখা নদীর ওপর ব্রীজ না থাকায় আজও কষ্ট করে পারাপার হচ্ছে তারা।নদী পারাপার হতে আসা একজন বলেন, নির্বাচনের সময় নদীর ওপর ব্রীজ করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে যায়, কিন্তু যখন যে সরকার ক্ষমতায় আসে, এরপর আর কোন খবর নেই।এভাবেই চলছে।

সরজমিনে গিয়ে জানা যায়, শত বৎসরের পুরাতন বাজার হলো খলিলের ঘাট মাষ্টার বাজার। বাজারের পাশ দিয়ে বয়ে চলছে তিস্তা মানাস নদী। প্রতিবছর স্থানীয়রা মিলে এই নদীর ওপর বাঁশ দিয়ে সাঁকো তৈরি করে যাতায়াত করে।স্থানীয় বাসিন্দা রাজু মিয়া ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, প্রতিদিন চরম ঝুঁকি নিয়ে নদী পারাপার করতে হয়। শুধু শুনেই যাচ্ছি ব্রীজ হবে।তবে কবে হবে তা কেউ জানে না।

তারা বলেন, সকাল বেলায় শত শত মানুষের ভিড় জমে এখানে। কার আগে কে পার হবে নদী। সবাইকে নিদিষ্ট সময় অফিসে যেতে হবে। শিক্ষার্থীদের তারা থাকে আরো বেশি। যদি কোন ব্যক্তি অসুস্থ হয়, তাহলে তো কোন কথাই নেই। দুর্ভোগ কি তখন বোঝা যায়। জানা যায়, নদীপাড়ের এলাকার লোকজন নিজেরা টাকা উঠিয়ে বাঁশ, খুঁটি ক্রয় করে সাঁকোটি তৈরি করতে হয়। বছরে কোন সময় ২ বারও তৈরি করতে হয়।আবার মাঝেমাঝে করতে হয় মেরামত। এ সবই নিজেদের টাকা দিয়ে করতে হয়। শহীদবাগ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব এম এ হান্নান মাঝেমধ্যে কিছু সহায়তা করে থাকে বলে জানা যায়।

শহীদবাগ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব এম এ হান্নান বলেন, আমরা দির্ঘদিন ব্রীজ না থাকায় কষ্ট করে নদী পারাপার করছি। তবে অতি দ্রুত ব্রিজের কাজ শুরু হবে। মানুষের ভোগান্তি কমে যাবে।