কুড়িগ্রামে এতিহ্যবাহী খেলাধুলা থেকে বঞ্চিত শিশুরা

0
9

 

খালিদ আহমেদ রাজা:

শিশুকে সুন্দর ভাবে বেড়ে ওটার জন্য খেলতে দিতে হবে। প্রতিটি শিশুর খেলাধুলার অধিকার রয়েছে। আর সুযোগ করে দিবেন অভিভাবকরা। কিন্তু খেলার মাঠও দিন দিন কমে যাচ্ছে, যাচ্ছে কুড়িগ্রামের ঐতিহ্যবাহী গ্রামীণ খেলাধুলা গুলোও। গ্রাম বাংলার খেলাধুলার সাথে পরিচিতি নেই বর্তমানের শিশুরা। বর্তমানে আবহমান বাংলার এই ঐতিহ্যবাহী খেলাগুলোর মধ্যে বেশিরভাগই আজ বিলুপ্তির পথে। তবে গ্রামীণ উওরজনপদে এখনও কিছু কিছু খেলাধুলা চোখে পড়লেও উৎসাহ-উদ্দীপনা ও সাহায্য-সহযোগিতার অভাবে তাও বন্ধ হতে চলেছে। জেলার বিভিন্ন এলাকার গ্রামাঞ্চলে এক সময় প্রায় শতাধিক গ্রামীণ খেলাধুলার প্রচলন ছিল। তার মধ্যে ছেলেরা খেলত হা-ডু-ডু, ডাংগুলি, কাবাডি, গোল্লাছুট, খেটে খেলা, দৌড়ঝাঁপ, গাদন, চিকে, কপালটোকা কানামাছি ভোঁ ভোঁ, মালাম খেলা, কুস্তি, ডুব সাঁতার, নৌকাবাইচ, লাঠিখেলা, ষাঁড়ের লড়াই, মোরগ লড়াই, হৈল-বৈল, বস্তাদৌড়, লুকোচুরিসহ অনেক খেলা। আর মেয়েরা খেলত দাঁড়ীয়বাঁধা, গোল্লাছুট, এক্কাদোক্কা, পাঁচগুটি, চোরপুলিশ, বৌচি, কিত্কিত্, গাদন, কড়ি খেলা, বালিশ বদল, লুকোচুরি, পুতুল খেলা, রান্না বাটিসহ অনেক খেলা। এই সব খেলার নামের থেকেও তেমন পরিচিতি নেই বর্তমান সময়ের শিশুদের। তাতে করে হারিয়ে যাচ্ছে গ্রামীন খেলাধুলা। তবে এখনও  হা-ডু-ডু, কাবাডি, লাঠিখেলাসহ হাতেগোনা কয়েকটি খেলার প্রচলন আছে। এখনও গামাঞ্চলে পহেলা বৈশাখ, মহররম ও গ্রামীণ মেলার সময় এসব খেলা অনুষ্ঠিত হতে দেখা যায়।

এসব ঐতিহ্যবাহী খেলাধুলার পরিবর্তে অনেকদিন আগেই এদেশে প্রচলন হয় ফুটবল খেলার। বর্তমানে উপযুক্ত পৃষ্ঠপোষকতা ও খেলার মাঠের স্বল্পতার কারণে বিপন্ন অবস্থায়। ক্রিকেট খেলা আমাদের দেশীয় খেলা না হলেও অন্যান্য দেশের মতো আমাদের দেশে বর্তমানে প্রচলিত খেলাগুলোর মধ্যে অন্যতম।

এক সময় রাখাল ছেলেরা মাঠে গরু চরাতে গিয়ে ও স্কুলপড়–য়া ছেলেমেয়েরা নানা ধরনের গ্রামীণ খেলাধুলা নিয়ে মেতে থাকত। বর্তমানে শহরাঞ্চলে তো বটেই  গ্রামাঞ্চলেও খোলা জায়গা বা খেলার মাঠের স্বল্পতার কারণে  অনেক গ্রামীণ খেলার মৃত্যু ঘটেছে অনেক আগেই। ফলে বর্তমানে শিশু কিশোররা ভিডিও গেম, টেলিভিশন, মোবাইল ফোন ইত্যাদি গ্রামীণ খেলাধুলার সে স্থান দখল করে নিয়েছে।