

মো আরিফুল ইসলাম, রাঙ্গামাটি জেলা প্রতিনিধি:
প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি রাঙ্গামাটির বরকল উপজেলা।রুপে গুনে যা হার মানিয়েছে সাজেকেও।অত্র উপজেলার অনেক এলাকা ঘিরেই গড়ে উঠতে পারে পর্যটন কেন্দ্র। কিন্তু স্বাধীনতার ৫০ বছরেও সরকারিভাবে বরকলে পর্যটন স্পটের তেমন কোন উন্নয়ন হয়নি।বরকল উপজেলাতে ছোট বড় মিলিয়ে প্রায় ২০ টি ঝর্ণা রয়েছে।এর মধ্যে শুভলং ঝর্না,ছোট ঝর্না,সাকড়াছড়ি ঝর্না, মিতিঙ্গাছড়ি ঝর্না,বরকল ঝর্না,প্যালিটাংগাচুক পাহাড়,নাককাটা পাহাড়,হরীনাছড়া সোয়াম্প ফরেস্ট,সীমান্ত বাজার,বরুনাছড়ির আমলকি বাগান,জুমচাষ ও বিভীন্ন জায়গাতে মনোরম বন বিহারসহ আরো অনেক নয়নাভিরাম সৌন্দর্যময় বৈচিত্র্যের অধিকারি অত্র উপজেলাটি। শুধুমাত্র সুভলং ঝর্ণাকে ঘিরেই কয়েকটি পর্যটন স্পট গড়ে তোলার কথা থাকলেও আদৌ কোথাও সরকারিভাবে কোনো হোটেল রিসোর্ট গড়ে উঠেনি।জেলা পরিষদ কতৃক হওয়া উপজেলা রেস্ট হাউজটাও থাকে সরকারি কর্মকর্তাদের দখলে।কারন অত্র উপজেলাতে নেই কোন অফিসার্স কোয়াটার।
বরকল পর্যটন স্পট সমৃদ্ধ এলাকা হলে সড়ক পথের যোগাযোগব্যবস্থা না থাকায় এক মাত্র মাধ্যম নৌ পথ।যা পর্যটন বিকাশের ক্ষেত্রে অন্যতম প্রধান অন্তরায়।তবে উপজেলা সদর কিংবা ভুষনছড়া ও সুভলং ইউপিতে কিছু মানসম্মত হোটেল বা রিসোট থাকলে হয়ত অনেক পর্যটকই বরকলের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দেখার সুযোগ পেত। সুউচ্চ পাহাড় ঘেসে সবুজ ঘাসের ফুরফুরে বাতাসে মেঘছোয়ার অনাবিল আনন্দ কার না ভালো লাগে।সরকারিভাবে দ্রুত হোটেল রিসোর্ট করতে পারলে পর্যটন বিকাশে ত্বরান্বিত করবে।
এখানে রয়েছে পাহাড়ি মিষ্টি মধুর ফাল কলা,কমলা,আনারস,মারফা,লটকন,পানিফল,আম, আমলকি, তরমুজ,লিচুসহ বিভীন্ন ধরনের মৌসুমি ফল। এছাড়াও এখানের পাহাড়গুলো বিভীন্ন বন্য প্রানীতে সমৃদ্ধ।রয়েছে হাজার হাজার বৈচিত্র্যময় পাখি।এখানকার হলুদ সারা বাংলাদেশে রপ্তানি হয়।এই এলাকার সেগুনকাঠ উৎকৃষ্ট মানের। মোটেল, কটেজ ও রেস্তোরাঁ না থাকায় ভ্রমণপিপাসুরা এখানে রাতযাপন করতে পারেন না। বরকল উপজেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সাধারন সম্পাদক ও বর্তমান জেলা পরিষদের সদস্য সবির কুমার চাকমা জানিয়েছেন, বরকল পর্যটন স্পটসমৃদ্ধ একটি জায়গা। এ এলাকার কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের সুযোগ রয়েছে; রাস্তাঘাট উন্নত হলে পর্যটক টানতে সক্ষম হবে উক্ত উপজেলাটি।তার সাথে সাথে হোটেল ব্যবাস্থাতেও জোড় দিতে হবে। পর্যটন শিল্প মন্ত্রণালয় অথবা বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সাজেকের মত কিছু প্রকল্প গ্রহন করলে বরকল উপজেলা বাংলাদেশের অন্যতম পর্যটন আর্কষন হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।





