রাণীনগরে আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দাদের চলাচলের রাস্তা মেরামত জরুরি লিজ নিতে চায় পুকুর

0
9

স্টাফ রিপোর্টার: ৫৫ বছরের রশিদা। পরের চাতালে কাজ করে সংসার চলে তার। মাথা গোঁজার মতো ঠাঁই ছিলনা। প্রধানমন্ত্রীর উপহার ঘর পেয়েছেন প্রায় দুই বছর আগে। সেখানেই বসবাস করছেন তিনি। তার মতো ১৩টি হতদরিদ্র পরিবার প্রধানমন্ত্রীর উপহার ঘরে রাত কাটাচ্ছেন। নওগাঁর রাণীনগর উপজেলার কাশিমপুর ইউনিয়নের ডাক্তার খানা (গোয়ালবাড়ি হাট) নামক স্থানে সেই ঘরগুলোতে তারা বসবাস করছেন। ঘরগুলোর সামনেই আছে বিশাল সরকারি পুকুর। দিন দিন এই পুকুরের পাড় ভেঙে চলে আসছে ঘরগুলোর কাছে। পায়ে হেটে চলাচলের রাস্তা কমে যাচ্ছে। আর এতেই টেনশন বাড়ছে তাদের।

রশিদার ঘরের সামনেই পুকুরের ভাঙ্গনটা বেশি। আর এতেই তিনি পড়ে যান দু:চিন্তায়। তাই নিজের পরিশ্রমের তিন হাজার টাকা খরচ করে মাটি দিয়ে ভরাট করেছিলেন। রক্ষা করার চেষ্টা করেছেন পুকুর পাড়ের ভাঙ্গন।

রশিদা বলেন, আমাকে দু বেলা খাওয়াবে এমন কেউ এই জগতে নেই। অন্যের চাতালে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করি। শেখ হাসিনার সরকার একটা থাকার ঘর দিয়েছে, সেখানে থাকতে পারি ভালোভাবে। তবে আমাদের ঘরের সামনে বিশাল একটা পুকুর আছে, সেই পুকুরের পাড় দিন দিন ভেঙে ঘরের কাছে চলে আসছে। আমি আমার রান্না করা জায়গার সামনে তিন হাজার টাকা খরচ করে মাটি কেটেছি। এভাবে বাঁশ দিয়ে মাটি কেটে আর কতোদিন রক্ষা করা যাবে।

তার কথাগুলো শুনছিলেন আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দা ইমরান-সুমি দম্পতি, মুনছুর, মোস্তাক, চম্পাসহ আরও অনেকে। তারাও তার কথার সায় দিয়ে জানালেন, আমাদের চলাচলের জন্য এই রাস্তটি এখনই ঠিক করা জরুরি। কারণ সামনে বর্ষাকাল, তাই বৃষ্টি বাদলের আগেই রাস্তাটি মেরামত করে দিলে আমরা খুব খুশি হতাম। পাশাপাশি সরকারি এই পুকুরটি আমাদের নামে লিজ দিলে মাছ চাষ করে খেতাম। ভালোভাবে চলতে পারতাম।

আশ্রয়ণ প্রকল্পের সম্পাদক তপন সরকার বলেন, এই রাস্তাটি করে দেওয়ার জন্য আমরা ইউএনও বরাবর আবেদন করেছি। উর্দ্ধতন স্যারেরা জায়গাটি পরিদর্শন পর্যন্ত করে গিয়েছেন। সেসময় পুকুরের পাড়ে ওয়াল গাইডদিয়ে মাটি ভরাট করে বেঁধে দেওয়ার জন্য বলেছিলেন স্যারেরা। কিন্তু কি কারণে হচ্ছেনা বুঝতে পারছিনা। এছাড়া এই পুকুরটিও আমাদের নামে লিজ দিতে চেয়েছিলেন স্যারেরা। তবে আমি অনুরোধ করবো আমাদের চলাচলের এই রাস্তাটি দ্রæত করে দেওয়ার জন্য। সেই সাথে সরকারি এই পুকুরটিও আমাদের নামে লিজ দেওয়ার জন্যও অনুরোধ করছি। তাতে মাছ চাষ করে একটু ভালোমন্দ খেতে পারবো।

জানতে চাইলে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মেহেদী হাসান বলেন, পুকুরটি শুকালে মাটি কাটার ব্যবস্থা করা হবে। এছাড়া চলাচলের রাস্তার জন্য কিছু করা যায় কিনা সেটা নিয়ে উর্দ্ধতন কর্তপক্ষের সাথে আলোচনা করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

রাস্তা মেরামতের বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার উম্মে তাবাসসুম মুঠোফোনে বলেন, বিষয়টি দেখছি। পাশাপাশি পুকুরটিও প্রকল্পের বাসিন্দাদের নামে লিজ দেয়ার বিষয়ে দেখবেন বলে জানান তিনি।#