
কুড়িগ্রাম প্রতিনিধিঃ রাতের আধারে লাঠি,ছোরা,লোহার রড,বল্লম,টেটা,সুরকি সহ প্রায় অরধো শতাধিক মানুষ নিয়ে এক আওয়ামী লীগ কর্মীর বাড়ি ভেংগে দিয়েছে বিএনপির সদ্য সাবেক ইউনিয়ন সভাপতি আঃ হাকিম মাষ্টার ও তার অনুসারীরা।

ঘটনাটি ঘটেছে কুড়িগ্রাম জেলার রাজিবপুর উপজেলার কোদালকাটি ইউনিয়নে।এ ব্যাপারে রাজিবপুর থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন ঐ ঘরের মালিক আওয়ামী লীগ কর্মীর মোঃ নুরনবী।
এতে বিএনপি নেতা হাকিম মাষ্টার কে প্রধান করে প্রায় ৫০ জন কে আসামী করা হয়।
এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে জানা যায়, ১৯৯২ সালে বিএনপি ক্ষমতায় থাকা কালীন সময়ে হাকিম মাষ্টার দলীয় প্রভাব খাটিয়ে বেশ কিছু নিরীহ মানুষের জমি জাল দলীল করে দখলে নেয়।তার মধ্যে ইয়াসিন মোল্লা ও তার ভাই আজিত মোল্লার জমি রয়েছে প্রায় ১ একর ৫৫ শতক।ইয়াসিন মোল্লা ও আজিত মোল্লার মরার পর তাদের ওয়ারিস হিসেবে মোঃ নুরুল আমিন ও মোঃ নুরনবী এই জমির মালিকানা দাবি করে হাকিম মাষ্টারকে দলীল দেখাতে বলে কিন্তু হাকিম মাষ্টার কোন দলিল না দেখিয়ে বিভিন্ন তাল বাহানা শুরু করে।
কোদালকাটি ইউনিয়ন ভুমি কর্মকর্তা আব্দুর রহমান জানান এই ১ একর ৫৫ শতক জমির ব্যাপারে ভুমি অফিসে মোঃ নুরনবী একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করলে হাকিম মাষ্টার কে উপস্থিত হয়ে কাগজ পাতি দেখাতে বলা হয় কিন্তু সে কাগজ দেখাতে সম্পুর্ণ ব্যর্থ হয়।পরবর্তীতে আরো দুইবার তাকে নোটিস করা হলে সে উপস্থিত হয়নি।
আদালত সুত্রে জানা যায়,হাকিম মাষ্টার ২৭/০৮/২০২০ তারিখে কুড়িগ্রাম কোর্ট এ একটি মামলা দায়ের করে।তাতে আসামী করা হয় মোঃ নুরনবী সহ আরো ৪ জনকে।আদালত বিষয়টি রাজিবপুর উপজেলা ভুমি অফিস কে অবহিত করলে ভুমি কর্মকর্তা মোঃ ফেরদোস খান পর পর তিনবার হাকিম মাষ্টার কে জমির দলীল প্রদর্শন করতে বলে কিন্তু হাকিম মাষ্টার অনুপস্থিত থেকে ভুমি অফিস কে বৃদ্ধাঙ্গুলী প্রদর্শন করে,যা চরম অবজ্ঞা হিসেবে পরিগনিত হয়।
রাজিবপুর উপজেলা ভুমি অফিস কোদালকাটি ভুমি অফিস কে তদন্তের নির্দেশ দিলে ভুমি কর্মকর্তা আব্দুর রহমান সরেজমিন তদন্ত করে প্রতিবেদন প্রদান করলে কুড়িগ্রাম কোর্ট হাকিম মাষ্টারের মিথ্যা বানোয়াট ও ভিত্তিহীন মামলা খারিজ করে দিয়ে জমির প্রকৃত মালিক মোঃ নুরনবীর পক্ষে রায় প্রদান করে।
এই রায়ের কপি রাজিবপুর উপজেলা ভুমি অফিসে জমা দিলে ভুমি কর্মকর্তা ফেরদোস খান হাকিম মাষ্টারের নামীয় খারিজ কর্তন করে পূর্বে মালিকের খারিজ বহাল রাখেন।এরপর মোঃ নুরনবী জমির দাখিলা খুলে সমস্ত খাজনা পরিশোধ করে জমিতে বসবাসের জন্য তিনটি ঘর উঠায় এবং বাকি অংশে তিলের বীজ,কিছু কলার গাছ ও ইউক্যালিপটাস গাছের চারা রোপন করে।
এসব চারা রোপনের প্রায় ২ মাস পর হাকিম মাষ্টার ১৮.০৬.২০২১. তারিখ রাতে লাঠি,লোহার রড,বল্লম, ছোরা,টেটা সহ প্রায় অরধো শতাধিক লোক গিয়ে ঘর তিনটি ভেংগে দিয়ে সমস্ত আসবাবপত্র লুট করে এবং সমস্ত তিলের ক্ষেত,কলার গাছ ও ইউক্যালিপটাস গাছ ধংস করে।
এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে যানা যায়,এই হাকিম মাষ্টার ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি থাকা কালীন সময়ে বিএনপি সরকারের আমলে ২০০১-২০০৬ সালের মধ্যে কোদালকাটি ইউনিয়নের সব রাস্তার গাছ কেটে রাজিবপুরে তার বাসার দরজা জানালা সহ নানা আসবাবপত্র তৈরি করে।
পরবর্তীতে মামলা হলে অত্যন্ত চালাক ও ধূর্ত এই লোক মামলা থেকে কৌশলে নিজের নাম কেটে নেয়।প্রভাবশালী বংশের হওয়ায় তার নেতৃত্বে ঐ সময়ে এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব গড়ে ওঠে যা এখনো বিদ্যামান।





