
মোঃ খায়রুল ইসলাম হৃদয়, গজারিয়া মুন্সিগঞ্জ:করোনার এই দুঃসময়ে স্বেচ্ছায় রক্ত দিয়ে মানুষের পাশে থাকতে মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় বিভিন্ন এলাকার কিছু উদ্যমী তরুণ গড়ে তুলেছেন অনলাইনভিত্তিক ব্লাড ডোনেশন ফর হোসেন্দী নামে স্বেচ্ছাসেবী এ সংগঠন।

একজন মুমূর্ষু রোগীকে বাঁচাতে রক্তের প্রয়োজন’ এ রকম কোনো আহ্বানের অপেক্ষায় থাকেন সংগঠনের সদস্যরা। আর আহ্বানে সাড়া দিয়ে ছুটে বেড়ান তাঁদের জীবন বাঁচাতে। পৌঁছে যান হাসপাতালে। হাসিমুখে ফেরেন রক্ত দিয়ে।
গতকাল শনিবার বিকালে জামালদী বাস ষ্ট্যান্ড সংলগ্ন নেয়ামত শুকরিয়া জেনারেল হাসপাতালে কথা হয় সংগঠনের অন্যতম উদ্যোক্তা মো.ইব্রাহিম মিয়া, মো. হোসেন, মো. সোহেল মিয়া, মো. নাহিম ও মো. রাহেল হোসেন এর সাথে।
এসময় তারা শোনান তাঁদের এক হওয়ার পটভূমি। বলেন, নদীমাতৃক উপজেলা গজারিয়ার বেশ কিছু চরাঞ্চলের মানুষের চিকিৎসা পেতে এখানো অনেক বেগ পেতে হয়। আর করোনাভাইরাস সংক্রমণ পরিস্থিতিতে সংকট আগের চেয়ে বেড়েছে। বিশেষ করে রক্তের সংকটে অনেক রোগী ও স্বজনকে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
এই মুহূর্তে রক্তের সংকট কাটাতে ও ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখে রোগীদের সেবা দিতে গেল বছর ২০২০ সালে ২১মে মাস থেকে হোসেন্দী ইউনিয়নের স্থানীয় বেশ কিছু তরুণদের নিয়ে অনলাইনে ভিডিও কলের মাধ্যমে পরিকল্পনা করি। সিদ্ধান্ত মোতাবেক একটা ফেসবুক গ্রুপ খুলি। জুন মাসে প্রথম সপ্তাহে নেয়ামত শুকরিয়া জেনারেল হাসপাতালে একজন মুমূর্ষু রোগীকে রক্ত দেওয়ার মধ্য দিয়ে আমাদের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু।
এখন পর্যন্ত অন্তত ৭০ জন মানুষকে রক্ত দিতে পেরেছেন সংগঠনটির সদস্যরা। রক্তদাতা ও সংগঠনের সদস্য হিসেবে এরই মধ্যে নিবন্ধন করেছেন হোসেন্দী ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকার ৮০ তরুণ। আর ফেসবুক গ্রুপটির সদস্যসংখ্যা ৮ শত ৬৬ ছাড়িয়েছে। প্রতিদিন সদস্য বাড়ছে।
নেয়ামত শুকরিয়া জেনারেল হাসপাতাল সুত্রে জানা যায়, গেল শুক্রবার সাজেদা বেগম (৭০) এর রক্তে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা খুব কমে গিয়েছিল। জরুরি ভিত্তিতে দুই ব্যাগ রক্ত প্রয়োজন। দিনভর রক্তদাতা খুঁজে হয়রান তাঁর ছেলে জুয়েল দেওয়ান। তিনি সমস্যার কথাটি পরিচিতি একজনকে জানালে ওই ব্যক্তি ব্লাড ডোনেশন ফর হোসেন্দী’ নামের ফেসবুক গ্রুপে একটা পোস্ট দেন। মিলে যায় রক্তদাতার খোঁজ। বৃদ্ধাকে নেয়ামত শুকরিয়া জেনারেল হাসপাতালে গিয়ে রক্ত দিয়েছেন সংগঠনের এক সদস্য।
এদিকে রক্ত পেয়ে জুয়েল দেওয়ানও ভীষণ খুশি। বলেন, কোনোভাবেই রক্ত ম্যানেজ করতে পারছিলাম না। পরিচিতদের এক-দুজনের গ্রুপ মিললেও করোনাভাইরাস সংক্রমণকালে তাঁরা হাসপাতালে আসতে রাজি নন। ব্লাড ডোনেশন ফর হোসেন্দী’ এত দ্রুত রক্ত ম্যানেজ করে দেবে, সেটা আমি ভাবতেই পারিনি। আমাদের খুব উপকার হয়েছে। আমিও ওই সংগঠনে যোগ দিয়ে মানুষের পাশে দাঁড়াতে চাই।
রক্তদাতা মো. রাহেল বলেন, সময় যতই সংকটময় হোক না কেন, কারও পাশে দাঁড়াতে পারলে অনেক ভালো লাগে। আর স্বেচ্ছাসেবাই তো মানুষকে সমৃদ্ধ করে।





