প্রচন্ড গরমে তালের শাসের কদর বেড়েছে শ্রীপুরে।

0
49

রাজীব প্রধান, গাজীপুর ঃ-গ্রীষ্মকালের জৈষ্ঠ্য মাসকে বলা হয় মধুমাস। এ মাসে আম, জাম, কাঁঠাল, লিচু, কলাসহ বিভিন্ন ফল পাওয়া যায়। এসব ফলের পরেও স্থান করে নিয়েছে তাল শাঁস। জৈষ্ঠ্যের দাবদাহে মানুষ যখন অতিষ্ঠ, তখন গরমের স্বস্থি হিসেবে তাল শাঁসের কদর বেড়েছে গাজীপুরের শ্রীপুরে ও আশপাশের বাজার গুলোতে।

প্রচন্ড গরমে তালের শাসের কদর বেড়েছে শ্রীপুরে।
প্রচন্ড গরমে তালের শাসের কদর বেড়েছে শ্রীপুরে।

তাল সাধারণত পাকলে তার রস খাওয়া হয়। তবে তাল কচি থাকা অবস্থায় তার কচি বিচিটা শাঁস হিসেবে খাওয়া হয়। এটি এলাকাভিত্তিক তাল শাঁস, তালের আঁটি, কোথাও কোথাও কচি তাল নামেও পরিচিত। এটি নরম, পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ ও প্রশান্তিদায়ক।

গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার বিভিন্ন স্থানে বা বাজারে তালের শাস বিক্রি হয়। বাজার গুলোর মধ্যে যেমন, বরমী বাজার, গোসিংগা বাজার, মাওনা, শ্রীপুর পৌরসভার বিভিন্ন স্থানেও তাল শাস বিক্রি হয়ে থাকে মৌসুমে। শ্রীপুর থানামোড় সংলগ্ন রাস্তার পাশেও বিক্রি হচ্ছে তালের আটি বা শাস।

তাল শাঁস বিক্রেতা আলী হোসেন বলেন, উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম থেকে গাছ চুক্তি কঁচি তাল ক্রয় করেছেন তিনি। প্রতিটি বড় গাছে ৩/৪ শ আর ছোট গাছে ২/৩ শ কঁচি তাল পাওয়া যায়। গাছ চুক্তি প্রতিটি কচি তাল পরিবহনসহ ৫-৬ টাকা খরচ পরে যায়। প্রতিটি তলে ২/৩টি আঁটি থাকে। প্রতিটি তালের আঁটি ৫ টাকা করে বিক্রি করে থাকেন।ফলে এক পিছ তালের দাম পড়ে ১৫ টাকা। প্রতি গাছ কেনা হয় গড়ে ২০০ থেকে ২৫০ টাকা করে।

 

আলী হোসেন আরও জানান,দৈনিক সে ৬০০ থেকে ৭০০ পিছ কচি তালের শাস বিক্রি করতে পারেন, যার বিক্রয় মুল্য ৮/৯ হাজার টাকা

 

তাল শাঁস অনেক উপকারি একটি ফল। শরীরের পানিশূন্যতা পূরণ করার পাশাপাশি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। তিনি আরো বলেন, প্রতি ১০০ গ্রাম তাল শাঁসে ৮৭ দশমিক ৬ গ্রাম জলীয় অংশ, ৮৭কিলো ক্যালরী, ভিটামিন-সি ৫ মিলিগ্রাম, আমিষ শূন্য দশমিক ৮ গ্রাম, ফাইভার ১ গ্রাম, শর্করা ১০ দশমিক ৯ গ্রাম, লৌহ ১ মিলিগ্রাম, ফ্যাট শূন্য দশমিক ১ গ্রাম, নিয়াসিন শূন্য দশমিক ৩ মিলিগ্রাম, রিবোফ্লাভিন শূন্য দশমিক শূন্য ২ মিলিগ্রাম, ক্যালশিয়াম ২৭ মিলিগ্রাম, ফসফরাস ৩০ মিলিগ্রাম এবং ভিটামিন থায়ামিন শূন্য দশমিক ৪ মিলিগ্রাম।