কুড়িগ্রামের চিলমারী-রৌমারী নৌপথে ফেরি চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। ঘাট থেকে দুটি ফেরি সরিয়ে নেওয়ার পর এবার বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন করপোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি)-র কার্যালয়ও সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। ফেরি পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদেরও অন্যত্র সংযুক্ত করা হয়েছে। অথচ এখানে প্রায় ৩৪৫ কোটি ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা ব্যয়ে চিলমারী নদীবন্দর উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ চলছে। ফলে বন্দর উন্নয়নের সুফল, ফেরি সার্ভিসের ভবিষ্যৎ ও জনবল স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
জানা গেছে, ২০২৩ সালের ২০ সেপ্টেম্বর চিলমারী-রৌমারী নৌপথে ফেরি সার্ভিস চালু হয়। প্রায় তিন বছর ধরে বিআইডব্লিউটিসি-র দুটি ফেরিতে পণ্যবাহী ও অন্যান্য যানবাহন নিয়মিত পারাপার হতো। কুড়িগ্রামের স্থলবন্দর থেকে নৌপথে ফেরি পার হয়ে ঢাকা যেতে সময় ও খরচ কম লাগায় উত্তরাঞ্চলের পণ্যবাহী পরিবহনের কাছে পথটি ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়।
কিন্তু চলতি বছরের ১৪ জুলাই মেরামতের কথা বলে কুঞ্জলতা নামের ফেরিটি সরিয়ে নেওয়া হয়। একই কারণ দেখিয়ে ২ সেপ্টেম্বর কদম নামের বাকি ফেরিটিও সরানো হয়। এতে নৌপথটি পুরোপুরি ফেরিশূন্য হয়ে পড়ে।
মেরামত, নাকি অন্যত্র ব্যবহার?
তথ্য অনুযায়ী, মেরামতের জন্য ডকইয়ার্ডে নেওয়ার কথা বলা হলেও কুঞ্জলতাকে চাঁদপুর ঘাটে এবং কদমকে ভোলা ঘাটে সংযুক্ত করা হয়েছে বলে জানা গেছে। এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে ফেরি দুটি আসলে মেরামতে নেওয়া হয়েছে, নাকি অন্য ঘাটে কাজে লাগানো হচ্ছে, তা নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।
কার্যালয় ছাড়ল বিআইডব্লিউটিসি, বদলি ৪৮ জন
চিলমারী ঘাটে বিআইডব্লিউটিসি-র বাণিজ্য, মেরিন, হিসাব ও প্রকৌশল বিভাগ এবং ফেরি পরিচালনাসহ বিভিন্ন কাজে প্রায় ৪৮ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী কর্মরত ছিলেন। ফেরি সরিয়ে নেওয়ার পর তাঁদের সবাইকে পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন স্থানে সংযুক্ত বা বদলি করা হয়েছে। চিলমারী কলেজ মোড় এলাকায় ভাড়া করা অস্থায়ী কার্যালয়টিও ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
চিলমারী নদীবন্দরের সাবেক সহকারী ব্যবস্থাপক আকিব সোহেল আকাশ বলেন, “এখানকার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দেশের অন্যান্য ফেরিঘাটে সংযুক্ত করা হয়েছে। ফেরি চালু করা হলে তাঁদের আবার এ ঘাটে নিযুক্ত করা হবে।”
তবে ফেরি সার্ভিস পুনরায় চালুর নির্দিষ্ট সময়সীমা এবং ফেরি দুটি কবে ফিরবে, সে বিষয়ে স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।
ভোগান্তিতে ব্যবসায়ী ও ট্রাকচালক
ফেরি চালু থাকায় যাত্রী, পণ্যবাহী যানবাহন ও অ্যাম্বুলেন্সসহ বিভিন্ন পরিবহনের নদী পারাপার সহজ ছিল। ফেরি বন্ধ হওয়ায় বিকল্প পথে চলাচলে সময় ও ব্যয় বেড়েছে। এতে ব্যবসায়ী, ট্রাকচালক ও নিয়মিত যাতায়াতকারীরা ভোগান্তিতে পড়ছেন।
ট্রাকচালক সাদেকুর রহমান বলেন, “ফেরি বন্ধ থাকায় আমাদের বিকল্প পথে ঘুরে যেতে হচ্ছে। এতে সময় যেমন বেশি লাগছে, জ্বালানি খরচও অনেক বেড়েছে। সময়মতো পণ্য পৌঁছাতে না পারায় ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। দ্রুত ফেরি সার্ভিস চালু হলে আমাদের দুর্ভোগ অনেকটাই কমবে।”
বিআইডব্লিউটিসি-র পরিচালক (বাণিজ্য) এসএম আশিকুজ্জামানকে ফোন করা হলে তিনি মিটিংয়ে আছেন জানিয়ে পরে ফোন করবেন বলে লাইন কেটে দেন। পরে তিনি আর ফোন ধরেননি।
সংসদে তুলবেন স্থানীয় সংসদ সদস্য
কুড়িগ্রাম-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, “চিলমারী-রৌমারী নৌপথটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হওয়া সত্ত্বেও এখান থেকে ফেরি তুলে নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। অথচ কম গুরুত্বপূর্ণ অনেক ফেরিঘাটে সার্ভিস সচল রাখা হয়েছে। ফেরি চলাচল স্বাভাবিক রাখতে সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। আমি সংসদে নোটিশ দিয়েছি। আগামী অধিবেশনে এ বিষয়ে কথা বলব।”







মন্তব্য করুন