মাত্র ১৫ বছরের এক কিশোরী। বয়স যেখানে বই-খাতা আর স্বপ্ন নিয়ে বেড়ে ওঠার, সেখানে তাকে এখন মোকাবিলা করতে হচ্ছে এক কঠিন বাস্তবতার। কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলায় ওই কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে ৫৫ বছর বয়সী এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। পুলিশ জানিয়েছে, কিশোরী বর্তমানে প্রায় পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা।

ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার অষ্টমীরচর ইউনিয়নের ডাটিয়ারচর পুরাতন বাজার এলাকায়। এ ঘটনায় অভিযুক্ত মতিবর ফকিরের বিরুদ্ধে থানায় মামলা হয়েছে।

পুলিশ ও পরিবারের সদস্যদের সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি কিশোরীর শারীরিক পরিবর্তন লক্ষ্য করেন পরিবারের সদস্যরা। পরে তাকে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য নেওয়া হলে পরীক্ষায় প্রায় পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার বিষয়টি জানা যায়। এরপর পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় অভিযোগ করা হয় এবং আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

তবে পরিবারের অভিযোগ, বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি সালিশের মাধ্যমে ঘটনাটি মীমাংসার চেষ্টা করেন। একই সঙ্গে পরিবারকে আইনি পদক্ষেপ না নেওয়ার জন্য নিরুৎসাহিত করা হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

একদিকে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, অন্যদিকে ভুক্তভোগী কিশোরীর ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগে পরিবার। তাদের দাবি, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের পাশাপাশি অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হোক। একই সঙ্গে কেউ যদি ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করে থাকে, তদন্ত করে তাদের ভূমিকাও খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছে পরিবার।

কিশোরীর মামা বলেন, “আমরা মূল অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। পাশাপাশি যারা বিষয়টি ধামাচাপা দিতে এবং বিচারপ্রক্রিয়ায় বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেছে, তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হোক।”

ঢুষমারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এম আর সাঈদ জানান, ধর্ষণের অভিযোগে মামলা হয়েছে। ভুক্তভোগীর মেডিকেল রিপোর্ট পাওয়া গেছে। অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

এখন অপেক্ষা তদন্তের। অভিযোগের সত্যতা, ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং কারা এর সঙ্গে জড়িত—সবকিছুই আইনগত তদন্তের মাধ্যমে পরিষ্কার হওয়ার কথা। একটি কিশোরীর ভবিষ্যৎ যেন কোনো প্রভাব, সালিশ কিংবা চাপের কাছে হারিয়ে না যায়—এটাই পরিবারের প্রত্যাশা।