
ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি :
“আহারে জীবন আহা জীবন জলে ভাসা পদ্ম যেমন।”
চিরকুটের এই গানের লাইনটি যেনো জীবনেরই প্রতিচ্ছবি। কিন্তু সত্যিই তা জলে ভাসা পদ্মের মতো ভাসিয়ে রাখা যায় কি? কিংবা নাজিম হিকমাতের ‘জীবন বড় সুন্দর, ব্রাদার’ কথাটির মতো সবাই কি পারে জীবনকে নিষ্কন্টকভাবে সুন্দর করতে? জীবনে প্রাপ্তি, অপ্রাপ্তি, আনন্দ, বেদনা সব থাকবে এটাই তো স্বাভাবিক তাই বলে প্রাপ্তি অপ্রাপ্তির দোলাচলে জীবন প্রদীপ নিভিয়ে দেয়ার কথা কজন ভাবেন জানা ভাবেন জানা নেই।
সেরকমই এক আত্মঘাতী ঘটনা ঘটেছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর এলাকার পূর্ব মৌড়াইল সংলগ্ন কলেজপাড়ায়। মোটরসাইকেলের বায়না না মেটায় আত্মগ্লানি আর অভিমানে আত্মঘাতী হয়ে প্রাণ হারিয়েছে আদনান হোসেন (১৬) নামে এক স্কুলপড়ুয়া । আজ মঙ্গলবার ( ৯ মার্চ) ভোরে ভাড়া বাসায় নিজের শোবার ঘরে সিলিং ফ্যানের সাথে ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে সে। সকালে পুলিশ এসে তার ঝুলন্ত মৃতদেহ উদ্ধার করে।
তার গ্রামের বাড়ি কসবা উপজেলার মইনপুর গ্রামে। প্রবাসী বাবা আনোয়ার হোসেনের বড় ছেলে সে। এলাকায় শান্তশিষ্ট বলে পরিচিত আদনান ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত ছিলো বলে জানা গেছে।
পুলিশ জানায়, “গত কিছুদিন ধরেই রাদিফ (আদনানের ডাক নাম) তার মা-বাবার কাছে মোটরসাইকেল কিনে দেওয়ার বায়না করছিলো কিন্তু বাবা মায়ের সাথে তার এ নিয়ে মতপার্থক্য হওয়ায় সে মনঃক্ষুণ্ণ হয়। সোমবার রাতে মা ও বোন বাড়িতে না থাকায় রাদিফ তার নিজ কক্ষের সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে।”
জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শাহাদাৎ হোসেন শোভন বলেন, “চলতি বছর রাদিফ কসবার একটি স্থানীয় স্কুলের এসএসসি পরীক্ষার্থী ছিলো। সে ছাত্রলীগ ঘরানার রাজনীতির সাথে সরাসরি যুক্ত ছিলো। সোমবার সন্ধ্যায় রাদিফের সাথে যখন আমার শেষবার দেখা হয় তখন বুঝতে পারি নি রাতে সে আত্মহত্যা করবে। বুঝতে পারলে তাকে অবশ্যই আমার সাথে রাখতাম।”
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবদুর রহিমের ভাষ্যমতে,
“পরিবারের কোনো অভিযোগ না থাকায় লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে এবং এই ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করা হয়েছে। “





