
নাগরিক সেবার মান বাড়াতে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সঙ্গে ১৬টি ইউনিয়নকে যুক্ত করা হয়েছিল। দীর্ঘ ছয় মাসেও ডিসিসির সাথে যুক্ত করার কার্যক্রম শুরু হয়নি। বরং ইউনিয়ন না সিটি করপোরেশন এই দ্বিধা-দ্বন্দ্বের গ্যাড়াকলে পদে পদে সীমাহীন ভোগান্তির শিকার ১৬ ইউনিয়নের প্রায় ১৫ লাখ মানুষ।
ভুক্তভোগীদের মতে, ইউনিয়ন থাকাকালে চেয়ারম্যানসহ জনপ্রতিনিধিদের সামান্যতম হলেও দায়বদ্ধতা ছিল। এখন তারা দায় এড়িয়ে দু’হাতে টাকা কামানোর ধান্ধায় ব্যস্ত। সাধারণ মানুষ তাদের কাছে জিম্মি। গত বছরের ৯ মে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির সভায় ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সঙ্গে নতুন করে মোট ১৬টি ইউনিয়ন যুক্ত করা হয়।
২৮ জুন সরকার এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে। ১৬টি ইউনিয়ন যুক্ত হওয়ায় ঢাকা মহানগরের আয়তন ১২৯ বর্গকিলোমিটারের থেকে বেড়ে হয় ২৭০ বর্গকিলোমিটার। ২০১১ সালের হিসাব অনুযায়ী সিটি করপোরেশনে যুক্ত হওয়া ১৬ ইউনিয়নের জনসংখ্যা ছিল প্রায় ১০ লাখ। কিন্তু বাস্তবে এ সংখ্যা ১৫ লাখ ছাড়িয়ে যাবে বলে বিশেষজ্ঞদের ধারণা। ছয় মাস অতিক্রান্ত হওয়ার পরও ঢাকা সিটি করপোরেশনের সাথে যুক্ত হওয়া ১৬ ইউনিয়নের ৩৬টি ওয়ার্ডের কোনো কার্যক্রম শুরু হয়নি। ইউনিয়নগুলো আছে আগের মতোই।বহাল আছেন আগের জনপ্রতিনিধিরাই। যদিও অনেক আগেই তাদের মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সিটিতে অন্তর্ভূক্তির অপেক্ষায় থাকা এই ইউনিয়নগুলোর সমস্যা আছে আগের মতোই। বরং আগে
যেমন টুকটাক রাস্তাঘাটের সংস্কার হতো, এখন তাও হয় না। বেহাল অবস্থায় পড়ে আছে রাস্তাগুলো। ড্রেনেজ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে কোনো কোনো ইউনিয়নে। কোথাও কোথাও রাস্তাঘাট এখনো অন্ধকারে। ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন, বিদায়ী চেয়ারম্যানরা এখন নিজেদের আখের গোছাতেই ব্যস্ত। জনগণের খবর তারা আর রাখার প্রয়োজন বোধ করেন না। বাড্ডা
ইউনিয়নের বাসিন্দা জুনায়েদ হোসেন বলেন, বাড্ডার প্রায় সবগুলো রাস্তাই খানাখন্দে ভরা, কর্দমাক্ত। বর্ষাকালে থৈ থৈ করে পানি। হাঁটু সমান কাদাপানি মাড়িয়ে চলাচল করতে হয়। বর্ষা মৌসুম সামনে। সেই ভোগান্তির কথা মনে করলে এখনই দম বন্ধ হয়ে আসে। বেরাইদ ইউনিয়নের বাসিন্দা মোবারক হোসেন বলেন, বর্ষার সময় এ ইউনিয়নের কয়েকটি মহল্লার মানুষের একমাত্র ভরসা নৌকা যোগাযোগ। নানা সমস্যার বেরাইদ ইউনিয়নের প্রধান কয়েকটি রাস্তা ব্যতিত অন্য রাস্তাগুলো খুবই সরু। একত্রে দু’টি মাইক্রোবাস-টেম্পু-সিএনজি চলাচল করতে পারে না। এমনও রাস্তা রয়েছে যে রাস্তায় একত্রে দু’টি রিকশাও চলতে পারে না। ড্রেনেজ লাইন থাকলেও সেসব ড্রেনে সরাসরি পয়ঃবর্জ্য সংযোগ দেয়া হয়েছে। এ ছাড়াও এলাকার নদী-খাল-ডোবা-নালায় পয়ঃবর্জ্যরে সংযোগ রয়েছে, যা এলাকার পরিবেশকে মারাত্মকভাবে দুষিত করছে। দক্ষিণখানের বাসিন্দা মনিরুজ্জামান বলেন, এখানকার রাস্তাগুলো বেহাল অবস্থা দীর্ঘদিন ধরেই। পাকা সড়কগুলোর ৯০ ভাগেরই পিচঢালাই উঠে গেছে। ইট-খোয়া উঠে বেরিয়ে এসেছে মাটি। কাঁচা এবং পাকা সব রাস্তার চিত্র এখন একই রকম। উত্তরখানের বাসিন্দা মোশাররফ হোসেন বলেন, পানি নিষ্কাশন ড্রেনেজ লাইনে ছাড়া রাস্তা তৈরি করায় এই এলাকায় সামান্য বৃষ্টিতে সড়কে পানি জমে যায়। পানিবদ্ধ রাস্তায় ভারি যানবাহন চলাচল করায় সড়কগুলোয় ফিটনেস নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। ইট-খোয়া, বালু- পাথর উঠে রাস্তাগুলোতেয় বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হচ্ছে। ওই সব রাস্তায় চলাচল করা এলাকাবাসীর জন্য খুবই দুরূহ ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে।




