রাজার হাটে করোনা কালীন সময়ে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শতাধিক বাল্যবিয়ে, প্রতিষ্ঠান গুলোতে ১০শতাংশেরও বেশি শিক্ষার্থী অনুপস্থিত রয়েছে।

0
20

রাজ-কুমার দেব, রাজার হাট উপজেলা প্রতিনিধি: রাজারহাটে করোনা কালীন সময় বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ৭শতাধিক শিক্ষার্থীর বাল্য বিয়ে হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। দীর্ঘদিন পর চালু হলেও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলোতে ১০শতাংশেরও বেশি শিক্ষার্থী অনুপস্থিত রয়েছে।

রাজার হাটে করোনা কালীন সময়ে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শতাধিক বাল্যবিয়ে, প্রতিষ্ঠান গুলোতে ১০শতাংশেরও বেশি শিক্ষার্থী অনুপস্থিত রয়েছে।
রাজার হাটে করোনা কালীন সময়ে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শতাধিক বাল্যবিয়ে, প্রতিষ্ঠান গুলোতে ১০শতাংশেরও বেশি শিক্ষার্থী অনুপস্থিত রয়েছে।

জানা গেছে,উপজেলায় ১১টি কলেজ,৪২টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং ২৯টি মাদরাসা রয়েছে। কোভিড-১৯ জনিত কারণে দীর্ঘ ১৮মাস শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলো বন্ধ থাকে। ফলে এসময়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে পরেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। এঅবস্থায় অনেক অভিভাবক মেয়েদের বিবাহ দেয়ার বিষয়ে ঝুঁকে পরেন। প্রশাসনের চোখকে ফাঁকি দিয়ে সুযোগ বুঝে বিয়েও দিয়েছেন অনেকে।

উপজেলার প্রায় প্রতিটি স্কুল ও মাদরাসার ৭ম থেকে ১০ম শ্রেণীর এক বা একাধিক শিক্ষার্থী বাল্য বিয়ের শিকার হয়েছেন। উপজেলার বিদ্যানন্দ ইউনিয়নের রতিগ্রাম বিএল উচ্চ বিদ্যালয়ের ১৫জনের অধিক শিক্ষার্থীর বাল্য বিয়ে হয়েছে। এছাড়া বিদ্যালয়টি থেকে ১০৯জন শিক্ষার্থী জেএসসি পাস করলেও ৪জন শিক্ষার্থী ৯ম শ্রেণীতে রেজিষ্ট্রেশন করেননি। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রহমত আলী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

ঘড়িয়ালডাঁঙ্গা ইউনিয়নের সিঙ্গারডাবরী হাট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে শুধুমাত্র ১০ম শ্রেণীতেই ১০জন শিক্ষার্থীর বিয়ে হয়ে গেছে। ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফারুক আহমেদ এর সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। অন্যান্য শ্রেণীর কত শিক্ষার্থীর বিয়ের শিকার হয়েছেন এর সঠিক তথ্য পাওয়া যায়নি।

ছিনাই ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী পাঁঙ্গা রানী লক্ষী প্রিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে করোনা কালীন সময়ে ৩০জনেরও বেশি ছাত্রীর বিয়ে হয়ে গেছে। ওই বিদ্যালয়ের জেএসসিতে ১৩৭জন পাস করলেও ৯ম শ্রেণীতে ১২২জন রেজিষ্ট্রেশন করেছে।

একই ইউনিয়নের বৈদ্যের বাজার বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ৪৭জন জেএসসি পাস করলেও ৯ম শ্রেণীতে রেজিষ্ট্রেশন করেছে ৪২জন শিক্ষার্থী। এই বিদ্যালয়েও ১৫জনের অধিক শিক্ষার্থী বাল্য বিয়ের শিকার হয়েছেন।

একই ভাবে উপজেলার উমর মজিদ ইউনিয়নের ফরকের হাট কারামতি উচ্চ বিদ্যালয়ে ২০জনেরও অধিক শিক্ষার্থীর বাল্য বিয়ের খবর পাওয়া গেছে। ওই বিদ্যালয়ে ১২১জন জেএসসি পাস শিক্ষার্থীর মধ্যে ২০জন শিক্ষার্থী ৯ম শ্রেণীতে রেজিষ্ট্রেশন করেনি।একই অবস্থা উপজেলার প্রায় সকল ও মাদরাসায়।উপজেলার একাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধানের সাথে কথা বলে জানা গেছে,প্রতিটি বিদ্যালয়েরই কমবেশি শিক্ষার্থীর বাল্য বিয়ে হয়েছে।

বিভিন্ন সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী রাজারহাট উপজেলার ৮২টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কমপক্ষে ৭শতাধিক শিক্ষার্থীর বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে । এছাড়া দীর্ঘদিন পর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চালু হলেও গড়ে ১০শতাংশেরও অধিক শিক্ষার্থী অনুপস্থিত থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন একাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ।

রাজারহাট উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আশরাফুজ্জামন সরকার বলেন,শিক্ষার্থীদের বাল্য বিয়ে বা ৯ম শ্রেণীর রেজিষ্ট্রেশনের তথ্য সংরক্ষনের বিষয়ে আমাদের কোন নির্দেশনা নেই।