নিজস্ব অর্থায়নে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবিতে রংপুরে বিশ্ব নদী দিবস পালন

0
74

জাকির ইসলাম বলেন, রংপুর জেলা প্রতিনিধিঃ-মানুষের জন্য নদী’ প্রতিপাদ্যকে ধারণ করে গতকাল (২৬ সেপ্টেম্বর) পালিত হলো বিশ্ব নদী দিবস ২০২১। তিস্তা বাঁচাও, নদী বাঁচাও সংগ্রাম পরিষদের উদ্যোগে তিস্তার দুই পাড়ে কয়েকটি সমাবশে এবং মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

নিজস্ব অর্থায়নে তিস্তা সুরক্ষার দাবি রংপুরে বিশ্ব নদী দিবস পালন
নিজস্ব অর্থায়নে তিস্তা সুরক্ষার দাবি রংপুরে বিশ্ব নদী দিবস পালন

সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সমাবেশ হয় রংপুরের কাউনিয়ায় তিস্তা রেল সেতু সংলগ্ন তিস্তার তীরে। দুপুর ৩ টা থেকে সেখানে নদীকর্মীগণ উপস্থিত হতে থাকেন। দুপুর তিনটায় সেখানে মানবন্ধন ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সফিয়ার রহমান এর সঞ্চালনায় সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি অধ্যক্ষ নজরুল ইসলাম হক্কানি।

সমাবেশে বক্তব্য রাখেন তিস্তা বাঁচাও, নদী বাঁচাও সংগ্রাম পরিষদের স্ট্যান্ডিং কমিটির সদস্য বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টা নুরুজ্জামান খান, বখতিয়ার হোসেন শিশির প্রমুখ।

সমাবেশে নজরুল ইসলাম হক্কানি বলেন- পদ্মা সেতুতে যেভাবে নিজস্ব অর্থায়ন করা হয়েছে, তিস্তা বাঁচাতেও সেরকম নিজস্ব অর্থায়ন করা হোক। বিদেশ থেকে ঋণ প্রাপ্তির আশায় থেকে তিস্তা নদী বিজ্ঞানসম্মত ভাবে সুরক্ষায় কালক্ষেপণ করলে অনেক বড় সর্বনাশ হবে। নদী সুরক্ষায় আন্তর্জাতিক মানের বিশেজ্ঞদের কাজে লাগাতে হবে।’

সাধারণ সম্পাদক সফিয়ার রহমান বলেন- আমরা তিস্তা নদী ভাঙা মানুষ। আমরা বুঝি ভাঙনের কষ্ট কেমন। সরকার যেন এমন ব্যবস্থা গ্রহণ করে আগামী বছরেই নদীর ভাঙন রোধ করা সম্ভব হয়। যাদের নদী ভেঙে গেছে তাদের জন্য সরকারের বিশেষ বরাদ্দ দাবি করছি।

বখতিয়ার হোসেন শিশির বলেন- সরকার যে মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করছে তার দ্রুত বাস্তবায়ন চাই। তবে বাস্তবায়নের আগে অবশ্যই নদী এবং নদী তীরবর্তী মানুষের স্বার্থ রক্ষা করতে হবে।’

তিস্তার পাড়ে সমাবেশ শেষে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। রাত আটটা পর্যন্ত নদীবিষয়ক গানের অনুষ্ঠান চলবে।

কেন্দ্রীয় সমাবেশ ছাড়া আরও কয়েকটি স্থানে সমাবেশ ও মানবন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। সেগুলোর মধ্যে-

নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার পূর্ব ছাতনাই ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ডের স্পার বাঁধ এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে সংগঠেনর নেতৃবৃন্দদের মধ্যে বক্তব্য দেন গোলাম মোস্তফা,মহুবর রহমান,শামসুল হক।

রংপুরের গংগাচড়া উপজেলার গোডাউনের হাটে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে সংগঠেনর পক্ষে বক্তব্য দেন স্ট্যান্ডিং কমিটির সদস্য মাহমুদুল আলম ও আব্দুন নুর দুলাল, আশরাফুল ইসলাম,অশোক সরকার, আমিনুল ইসলাম মুন্না,রুহিনি বর্মন,আব্দুর রউফ ও জাহাঙ্গীর আলম।

গাইবান্ধা জেলার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার শ্যামরাইয়ের পাঠ বেলকায় মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে বক্তব্য রাখেন স্ট্যান্ডিং কমিটির সদস্য সাদেকুল ইসলাম দুলাল, মুন্সী আমিনুল ইসলাম সাজু,শাহীন মাস্টার, মফিদুল ইসলাম,শাহীন মেম্বর।

লালমনির হাটের হাতিবান্ধা উপজেলার উত্তর ডাউয়াবাড়ি নয়ার হাটে (ডান তীর) মানববন্ধনে বক্তব্য দেন স্ট্যান্ডিং কমিটির সদস্য মাহিদুল ইসলাম মাহিদ, মোশারফ হোসেন, মঞ্জিলা মোস্তারি সুমি,আবেদ আলী মেম্বার,মমিনুর ডাক্তার,এনামুল হক,মহসিন আলী,শফিকুল ইসলাম।

হাতিবান্ধা উপজেলায় পারুলিয়া বাজারের মানববন্ধনে বক্তব্য দেন সাবেক ইউ পি চেয়ারম্যান ওসমান গনি বাদশা,কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য রফিকুল ইসলাম,আবুবকর, আইনুল হক, শহুরুল মেম্বর।

নীলফামারী জেলার ডিমলার কেল্লাপাড়া চাপানীতে মানববন্ধনে বক্তব্য দেন আলমগীর হোসেন, হামিদুর রহমান, মোতালেব হোসেন, শফিকুল ইসলাম।

জলঢাকা উপজেলার জয়বাংলাবাজারে বক্তব্য দেন আব্দুস সালাম, মিঠুন,আব্দুর রউফ ও আব্দুল আউয়াল।

লালমনীরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার প্রেসক্লাবে মানববন্ধন ও আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে বক্তব্য দেন বীরমুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল হক,অধ্যক্ষ মনোয়ারুল ইসলাম,আমিরুল ইসলাম, নজরুল ইসলাম মোল্লা,নুর ইসলাম আহমেদ চেয়ারম্যান, আনিছুর ইসলাম লাডলা,তিতাস আলম, আব্দুল হাকিম।

কুড়িগ্রাম জেলার রাজারহাট উপজেলার বিদ্যানন্দ তৈয়ব খাঁ মানববন্ধনে বক্তব্য দেন মোশারফ হোসেন,হাসনাত কানন, আমিনুল ইসলাম।

উলিপুর উপজেলার বজরা কাশিমবাজারের সমাবেশে বক্তব্য দেন মশিউর রহমান,সায়েম।

রংপুরের পীরগাছায় শিবদেব নয়ারহাটে বক্তব্য দেন বাবুল আক্তার,মুকুল ফকির,মতিয়ার রহমান, আব্দুর রাজ্জাক।গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার হরিপুর ঘাট এ বক্তব্য দেন রাসেল আহমেদ, মজনু মিয়া।বক্তাগণ সকেলই তিস্তা বাঁচাও, নদী বাঁচাও’ শ্লোগানের ওপর গুরুত্ব দেন। সকলেই তিস্তা বাঁচাও, নদী বাঁচাও সংগ্রাম পরিষেদর ছয় দফা বাস্তবায়েনর দাবি জানান।

দাবিসমূহ_ তিস্তা আন্দোলনের ৬ দফা

১)তিস্তা নদী সুরক্ষায় বিঙান সম্মতভাবে ” মহাপরিকল্পনা” দ্রুত বাস্তবায়ন।

২) অভিন্ন নদী হিসেবে ভারতের সঙ্গে ন্যায্য হিস্যার ভিত্তিতে তিস্তা চুক্তি সম্পন্ন,তিস্তা নদীতে সারা

বছর পানির প্রবাহ ঠিক রাখতে জলাধার নির্মাণ!

৩) ভাঙনের শিকার ভূমিহীন ও গৃহহীনদের পুনর্বাসন।

৪)মহাপরিকল্পনায় তিস্তা নদী ও তিস্তা তীরবর্তী কৃষকের স্বার্থ সুরক্ষায় ” কৃষক সমবায় এবং কৃষিভিত্তিক শিল্প কলকারখানা গড়ে তোলা”

৫) তিস্তা নদীর শাখা- প্রশাখা- উপনদী ও উপ-শাখাগুলোর সঙ্গে নদীর পূর্বেকার সংযোগ স্হাপন এবং দখল ও দুষণমুক্ত করা। নৌ পথ পুনরুদ্ধার- নৌ চলাচল পুনরায় চালু।

৬)মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ এবং প্রস্তাবিত প্রকল্প এলাকায় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে তিস্তা পাড়ের মানুষের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা।