ডেডলাইন করোনা : চলে গেলেন দেশের আইনাঙ্গনের লুব্ধক 

0
3

ডেস্ক রিপোর্ট : করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে তৈরী করেছে এক বিরাট শূন্যতা। আজ বিকেলে করোনাক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি, সাবেক আইনমন্ত্রী আবদুল মতিন খসরু।

ডেডলাইন করোনা : চলে গেলেন দেশের আইনাঙ্গনের লুব্ধক 
ডেডলাইন করোনা : চলে গেলেন দেশের আইনাঙ্গনের লুব্ধক

বলা হয়ে থাকে যে, আইনকে যদি একটি আকাশের সঙ্গে তুলনা করা হয় আব্দুল মতিন খসরু সেই আকাশের “আলফা ক্যানিস মেজরিস” বা লুব্ধক (সবচেয়ে উজ্জ্বলতম তারা)। তার জুনিয়র (সহকারী আইনজীবী) ও ভাগনে তাসলিম আহমেদ খান আজ বিকেলে আওয়ামী লীগ’র এই বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, বিকাল পৌনে ৫টায় তার মৃত্যু হয়।

 

প্রসঙ্গত, তিনি গত ১৬ মার্চ থেকে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন ছিলেন। মঙ্গলবার থেকে লাইফ সাপোর্টে ছিলেন তিনি। মৃত্যুকালে আব্দুল মতিন খসরুর বয়স হয়েছিল ৭১ বছর। তিনি এক ছেলে ও এক মেয়ের জনক।

 

তার মৃত্যুতে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শোক প্রকাশ করেছেন। এক শোকবার্তায় রাষ্ট্রপতি বলেন, “কুখ্যাত ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ বাতিল করার মাধ্যমে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হত্যা মামলা বিচারে তার ভূমিকা জাতি সবসময় শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে। সংসদীয় গণতন্ত্র ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় তার অবদান দেশের সংসদীয় ইতিহাসে উজ্জ্বল হয়ে থাকবে।”

 

এক শোকবার্তায় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, “একজন বিজ্ঞ আইনজীবী ও জনমানুষের নেতা হিসেবে মতিন খসরু চিরদিন মানুষের হৃদয়ে বেঁচে থাকবেন। দেশের আইন ও বিচার ব্যবস্থার উত্তরণে তিনি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন।”

 

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আব্দুল মতিন খসরু কুমিল্লা-৫ (ব্রাহ্মণপাড়া ও বুড়িচং) আসনের পাঁচবারের সংসদ সদস্য। ১৯৯৬-২০০১ এ শেখ হাসিনার মন্ত্রীসভায় তিনি আইনমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।

 

সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে তিনি সভাপতি নির্বাচিত হন। গত ১০ ও ১১ মার্চ অনুষ্ঠিত সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে তিনি সভাপতি নির্বাচিত হন। গত ১২ এপ্রিল অসুস্থ অবস্থায় সমিতির সভাপতির দায়িত্ব নেন তিনি।

 

মতিন খসরুর জন্ম ১৯৫০ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি কুমিল্লা ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার মিরপুর গ্রামে। তার পিতার নাম মো. আবদুল মালেক এবং মাতা জাহানারা বেগম।

 

আওয়ামী লীগে যুক্ত মতিন খসরু ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন এবং কুমিল্লা জেলার অবিভক্ত বুড়িচং থানার মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার ছিলেন।

 

১৯৭৮ সালে কুমিল্লা জজ কোর্টে আইন পেশায় যুক্ত হন মতিন খসরু। পরে ১৯৮২ সাল থেকে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাই কোর্ট বিভাগে নিয়মিত প্র্যাকটিস শুরু করেন তিনি  ,পাশাপাশি রাজনীতিতে সক্রিয় থেকে তিনি আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির আইন বিষয়ক সম্পাদকের দায়িত্বও পালন করেন অনেক দিন।

 

মতিন খসরু আইনমন্ত্রী থাকাকালে ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ বাতিল করে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকাণ্ডের বিচারের পথ খোলা হয়।