সাতক্ষীরায় একদিনে মৃত্যুর মিছেলে যোগ হলো আরো ৮ জন

0
2

মোঃ শরিফুল ইসলাম, সাতক্ষীরা জেলা প্রতিনিধিঃ
সাতক্ষীরায় ৪র্থ দফার সাত দিনের লকডাউনের ৪র্থ দিন চলছে।এদিকে সাতক্ষীরায় সংক্রমণ হার কিছুটা কমলেও বাড়ছে করোনা উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা। সর্বশেষ ফলাফলে গত ২৪ ঘন্টায় ৯২ জনের শরীরে নমুনা পরীক্ষায় ২৬ জনের করোনা পজেটিভ শনাক্ত হয়েছে। যা পরীক্ষা বিবেচনায় হার ২৮ দশমিক ২৬শতাংশ।এনিয়ে জেলায় আজ পর্যন্ত মোট করোনা শনাক্ত হয়েছেন ৩ হাজার ২শ ৮৮ জন। এদের মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ২ হাজার ৩শ ৭৮ জন। বর্তমানে সাতক্ষীরা জেলায় করোনা পজেটিভ রুগীর সংখ্যা ৮ শ ৪৩জন।
এদের মধ্যে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি আছে ২৬৬ জন এদের মধ্যে ২৬জনের করোনা পজেটিভ। ৩জন আইসিইউ তে আছে। সাতক্ষীরার বেসরকারি হাসপাতাল সমূহে ভর্তি ১৩০ জনের মধ্যে ১৩ জন পজেটিভ।আর বাকিরা তাদের নিজ বাড়ি থেকে চিকিৎসা নিচ্ছে।
এদিকে গত ২৪ ঘন্টায় করোনা উপসর্গ নিয়ে সাতক্ষীরা মেডিকল কলেজ হাসপাতালে ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এনিয়ে জেলায় মোট করোনা উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা ৩শ ২৮জন।
গত ২৪ ঘন্টায় সাতক্ষীরা জেলায় করোনায় আক্রান্ত হয়ে একজন মারা গেছে।করোনায় মৃত্যু ব্যাক্তির বসা সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলায়।তিনি খুলনা মেডিকেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে।এনিয়ে জেলায় করোনায় আক্রান্ত হয়ে মোট মৃত্য বরণ করেছে ৬৭ জন।
অন্যদিকে, চলমান লকডাউনের ৪র্থ দিনের (২৫তম দিন) সাতক্ষীরায় স্বাস্থ্যবিধি মানার কোন বালাই নেই সাধারণ মানুষের মাঝে। চলছে ঢিলে ঢালা লকডাইন। শহরের অধিকাংশ দোকান পাট খোলা রয়েছে। হাট-বাজার গুলোতে মানুষের ভিড় লক্ষনীয়। তবে, পুলিশ মোড়ে মোড়ে চেকপোস্ট বসিয়ে চলাচল নিয়ন্ত্রন করছেন এবং সাধারণ মানুষ যাতে বিনাপ্রয়োজনে ঘরের বাইরে না আসেন সে জন্য সচেতনতা প্রচারনা চালিয়ে যাচ্ছেন। একই সাথে যারা বিনা প্রয়োজনে ঘরের বাইরে আসছেন ও স্বাস্থ্যবিধি মানছেননা তাদের ভ্রাম্যমান আদালতে মাধ্যমে জরিমানা করা হচ্ছে। জব্দ করা হচ্ছে মটরসাইকেল, ভ্যান ও ইজিবাইক। চলমান লকডাউন গ্রামে গঞ্জে মানা হচ্ছে না।
তবে, করোনা সংক্রমন কমাতে হলে লকডাউন কঠোর হওয়া দরকার বলে জানান সুশীল সমাজ।
সাতক্ষীরার সিভিল সার্জন ডা:হুসাইন শাফায়াত জানান, লকডাউনে মাক্স পরা, সামাজিক দুরুত্ব মেনে চলা ও ঘরের বাইরে না আসার জন্য সচেতনতা মূলক প্রচারনা চালানো হচ্ছে। তিনি আরো বলেন, সঠিকভাবে মাস্ক পড়লে সংক্রমনের হার ২ শতাংশে নামিয়ে আনা সম্ভব।
পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান জানান, যারা বিনাপ্রয়োজনে বাড়ির বাইরে আসছেন তাদের বিরুদ্ধে আইন প্রয়োগ করে জরিমানা ও গাড়ী জব্দ করা হচ্ছে।