সরকারি পানির পাম্প বাসানোর কথা বলে টাকা আদায় কথিত সাংবাদিকের। 

0
1

গাজীপুর প্রতিনিধি: গাজীপুরের শ্রীপুরে সরকারি পানির পাম্প দেওয়ার কথা বলে টাকা নিয়ে প্রতারণা করেছে এক নামধারী সাংবাদিক। অভিযুক্ত প্রতারকের নাম রাসেল (৩০) (নামধারী সাংবাদিক)। তিনি উপজেলার বিন্দুবাড়ি গ্রামের আশরাফুল ইসলাম এলাহীর সন্তান।

সরকারি পানির পাম্প বাসানোর কথা বলে টাকা আদায় কথিত সাংবাদিকের। 
সরকারি পানির পাম্প বাসানোর কথা বলে টাকা আদায় কথিত সাংবাদিকের।

বুধবার (১৯ মে) দুপুরে ভুক্তভোগী মোশারফ হোসেন এ অভিযোগ জানান। তিনি চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী,

অভাবের সংসার। পেশায় একজন দপ্তরী। দরিদ্রতার কষাঘাতে দিনকে দিন আর রাতকে রাত বলে মনেই হয়না তার। গাজীপুর জেলার শ্রীপুর উপজেলার বিন্দুবাড়ি গ্রামের মোশারফ হোসেন এক নামধারী সাংবাদিককে টাকা দিয়ে প্রতারিত হয়েছেন। তিনি ইজ্জতপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের দপ্তরি।মোশারফ হোসেনের দরিদ্রতা এতোটাই প্রকট যে, অন্যের বাড়ি থেকে পানি এনে খেতে হয়। অভাবের সংসারে একটি নলকূপ স্থাপন করা মোশারফের জন্য ছিল দুঃসাধ্য ব্যাপার।

 

মোশারফের অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে স্থানীয় ওই (নামধারী সাংবাদিক) রাসেল সরকারিভাবে অল্প টাকায় সাবমার্সিবল পাম্প স্থাপন করে দেওয়ার কথা বলে টাকা নেন প্রায় দুই বছর আগে। দেই দিচ্ছি করে কালক্ষেপণের পর সাবমার্সিবল পাম্প ঠিকই স্থাপন করেছেন, কিন্তু সেটা মোশারফের জন্য নয়। স্থাপন করেছেন রাসেলের নিজের কলাবাগানে পানি দেওয়ার জন্য। বর্তমানে সেই পানির পাম্প কোনও মানুষের পানি পান করার কাজে আসছে না।

 

 

এ বিষয়ে ভুক্তভোগী মোশারফ হোসেন জানান, পানির অসুবিধা থাকায় সরকারিভাবে পাম্প দেওয়ার কথা বলে আমার থেকে পাঁচ হাজার টাকা নেয় রাসেল। তিনি আমাদেরই প্রতিবেশি। সে বারবার সময় দেওয়ার পরও কাজ করে দিতে না পারায়, আমি ধার করে টাকা দিয়ে সাবমার্সিবল পাম্প বসাইছি। পরে রাসেলকে বলছি, আপনি তো মটর দিতে পারলেন না, আমাকে একটা ট্যাংকি দিয়েন। এরপর তিনি ট্যাংকি দেওয়ার কথা বলে সেটাও দেই দিচ্ছি করে ঘুরাচ্ছেন। আমার বর্তমানে খুবই দুঃসময় যাচ্ছে। আমার পাওনা পাঁচ হাজার টাকা ফেরত দিলে খুবই উপকৃত হতাম।

 

এ বিষয়ে অভিযুক্ত রাসেলের (নামধারী সাংবাদিক) বুধবার (১৯ মে) জানান, আমি মোশারফের থেকে কোনও টাকা নিইনি। আমি সরকারিভাবে পানির পাম্প বসাইছি। কিন্তু তিনি কত টাকা খরচ করে পানির পাম্প বসাইছেন এবং তার বিরুদ্ধে টাকা নেওয়ার অভিযোগ কেন উঠেছে? এ প্রসঙ্গে তিনি কোনও উত্তর দিতে পারেননি।

 

এ বিষয়ে ইজ্জতপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের সভাপতি রাজীব সিরাজি জানান, আমি ইতিমধ্যে বিষয়টা জেনেছি। দপ্তরি মোশারফের থেকে রাসেল টাকা নিয়ে কোনও কাজ করে দেয়নি এবং টাকাও ফেরত দেয়নি। গরীবের অসহায়ত্বের সুযোগে মিথ্যা বলে টাকা নিয়ে ফেরত না দেওয়াটা নিঃসন্দেহে অপরাধ। আমি তার শাস্তি দাবি করছি। যেন ভবিষ্যতে অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে এ ধরনের অপরাধ করতে না পারে।