সরকারি চাকরির আশায় ড্রাইভিং শিখতে এসে লাশ হয়ে ফিরলো কবির হাসান

0
2

রাজীব প্রধান, গাজীপুরঃ-অবশেষে বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কের সেই অজ্ঞাত যুবকের লাশটির পরিচয় পাওয়া গেছে।পরে ডিবি,পিবিআই,সিআইডি,পুলিশের যৌথ তদন্তে বেরিয়ে এলো রহস্য।

প্রতারণার ফাঁদে পড়ে মৃত্যু হলো কবিরের। ৩০ মার্চ সময়ের পাতায় প্রকাশিত শিরোনামে, বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কে অজ্ঞাত যুবকের লাশ উদ্ধার সংবাদটি ফেসবুক সহ অন্যান্য গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে নিহতের সজনেরা তা দেখতে পায়। নিহত কবির হাসান (২২) রংপুর জেলার মিঠাপুকুর থানার কাঠালিয়া নয়াপাড়া গ্রামের যবিউল ইসলামের ছেলে।

বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কের ভিতরে অজ্ঞাত যুবকের লাশ

যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে ভিডিও দেখে নিহতের পরিচয় নিশ্চিত করেন তার ভগ্নিপতি শাহিন মিয়া। নিহত কবির হাসানের ভগ্নিপতির কাছ থেকে জানা যায়,গাইবান্ধা জেলার সুনামগঞ্জ থানার কুতুববাস গ্রামের ফজর আলীর ছেলে, নাজমুল (৩৫) কবির হাসান কে ঢাকা মন্ত্রণালয়ের গাড়ির ড্রাইভার হিসেবে চাকরি দেওয়ার কথা বলে মৃত কবির হাসানের পিতা যবিউল ইসলাম এর কাছ থেকে আট লাখ ৫০ হাজার টাকা নেয়। পরে নাজমুল, কবির হাসান কে ২৫ মার্চ রংপুর থেকে রাজেন্দ্রপুর সেনানিবাসে ড্রাইভিং শেখানোর কথা বলে বাড়ি থেকে নিয়ে আসে।

নিহত কবির হাসানের বাবা যবিউল ইসলাম যানান শেষবারের মতন আমার ছেলে কবির হাসানের সাথে কথা হয় (২৯ মার্চ) বিকেল চারটার দিকে তারপর থেকেই কবির হোসেনের মোবাইল ফোনটি বন্ধ থাকে। এরপর থেকেই বিভিন্ন জায়গায় খোঁজখবর নিতে থাকি কোথাও কোনো খোঁজখবর না পেয়ে। আমার আর এক ছেলে কামরুল হাসান ঢাকায় চাকরি করে তাকে বিষয়টি জানালে সেও খোঁজাখুঁজি করতে থাকে।

এরপর বৃহষ্পতিবার ১ এপ্রিল আমার মেয়ের জামাই, শাহিন মিয়া যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে ভিডিও দেখে চিনতে পেরে বিষয়টি আমাকে জানালে। আমার ছেলে, কামরুল হাসানকে গাজীপুরে পাঠাই। সরকারের কাছে আমার দাবি আমার ছেলে কবির হাসান এর লাশ যেন আমাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

আর আমার ছেলে কবির হাসান কে যারা নির্মম ভাবে হত্যা করেছে তাদেরকে যেন আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হয়। র্যাব-১ গাজীপুর পোড়াবাড়ি ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার লেঃ কমান্ডার আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, নিহতের ফিংগারপিন এর মাধ্যমে পরীক্ষা করে তার পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে এবং নিহতের পরিবারকে র্যাব ১ এর মাধ্যমে খবর দেওয়া হয়েছে।