রাঙ্গামাটি কাউখালী সেনা ও বাঙ্গালী গণহত্যা দিবসটি আমাদের অজানায় থেকে গেছে

0
2

রাঙ্গামাটি প্রতিনিধি: পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (জেএসএস) এর সশস্ত্র সংগঠন শান্তি বাহিনীর গেরিলা যোদ্ধা ও উপজাতি সন্ত্রাসী হায়না কর্তৃক পরিচালিত বাঙ্গালী গণহত্যা অনেকেরই অজানা।

বাঙ্গালীদের বিরুদ্ধে উল্লেখযোগ্য কতিপয় গণহত্যার ইতিহাস বর্তমান প্রজন্মের তরুনদের না জানার লজ্জায় মাথা নিচু করে থাকতে হয়। এই না জানার লজ্জাকে নিয়ে আজ জাতি ঘুমের ঘরে।বাস্তবিক অবস্থায় এর গুরুত্ববহ পাচ্ছেনা বিভিন্ন জনের মনোভাব পরিবর্তনের কারণে।

জাতির নিকট তারা এখন মুসকি হাসির পাত্র আর বিরোধীদের মুখে একচুমোক চার মত তাদের অবস্থান। বলার কিছু নাই।

পার্বত্য চট্টগ্রামে উপজাতীয় সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের গডফাদার খুনি সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (জেএসএস) এর সশস্ত্র সংগঠন শান্তি বাহিনীর গেরিলা যোদ্ধা ও উপজাতি সন্ত্রাসী হায়নারা শান্তি চুক্তি পূর্ববর্তী সময়ে, প্রায় ৩৮ হাজার নিরীহ বাঙ্গালী হত্যা করে।

এর অন্যতম হলো
১৯৮০ সালের ২৫ মার্চ এই দিনে পার্বত্য চট্টগ্রামের ইতিহাসে নিকৃষ্টতম কাউখালী গণহত্যা। তৎকালীন শান্তিবাহিনীর সামরিক কমান্ডার মেজর মলয় এর নেতৃত্বে পরিচালিত হয় এ জঘন্যতম হত্যাযজ্ঞ। পুনর্বাসিত বাঙ্গালী এলাকায় দিনভর চলে অগ্নিসংযোগ, ধর্ষণ ও লুটপাটের ঘটনা।

পুঙ্গত্ব বরণ করতে হয় অসংখ্য সাধারণ নারী-পুরুষকে। ভয়াবহ এমন এ দিনকে স্মরণ করা তো দূরের কথা এমন একটি দিন এ এলাকার মানুষের জীবনে ঘটেছিল তাও জানেন না স্থানীয় বাঙ্গালী নেতারা। কেউ কেউ এ দিনটিকে স্মরণ রাখলেও দাদারা অসন্তুষ্ট হবেন এমন ভয়ে প্রকাশ্যে কথা বলতেও রাজী হননি।

১৯৮০ সালের ২৪ মার্চ। সকাল ১১টায় তৎকালীন সিও খালিকুজ্জমানের নেতৃত্বে কাউখালীতে ডাকা হয় শান্তি সমাবেশ। উপজাতীয় হেডম্যান, কার্বারী, জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তবর্গ ও বাঙ্গালী নেতাদের উপস্থিতিতে দিনভর চলে সম্প্রীতি ও শান্তির সমাবেশ। পূর্বে পাহাড়ী-বাঙ্গালীর মাঝে যা ঘটেছে সামনে যাতে এ ধরণের ঘটনা না ঘটে সে লক্ষ্যে বৈঠক সফল করতে তৎকালীন সেনাবাহিনী প্রাণপণ চেষ্টা চালায়।

আলোচনার পর উপস্থিত পাহাড়ী-বাঙ্গালী নেতারা শান্তি বজায় রাখার ক্ষেত্রে ভাল একটা অবস্থান তৈরী করতে সক্ষম হন। নেতৃবৃন্দের কাছ থেকে শান্তির আশ্বাস পেয়ে উভয় পক্ষই চলে যায় যার যার বাড়ী ঘরে। কিন্তু শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ফিরে আসুক তা কোন মতেই মেনে নিতে পারেনি সশস্ত্র শান্তিবাহিনীর সন্ত্রাসীরা।

২৫ মার্চ ১৯৮০। ঘন কুয়াশাচ্ছন্ন সকাল। মানুষ সবেমাত্র ঘুম থেকে উঠে যার যার কাজে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। সকাল ৮টায় কলমপতির কাউখালী বাজারের পার্শ্বে পাহাড়ের চুড়ায় অবস্থিত সেনা ক্যাম্প লক্ষ করে প্রথমে গুলি চালায় মেজর মলয়ের নেতৃত্বে শান্তিবাহিনী।

এর কিছুক্ষণের মধ্যেই উপজেলার কাশখালী, ঘিলাছড়ি, রাঙ্গীপাড়া, বেতছড়িসহ আশপাশের এলাকাগুলো চতুর্দিক থেকে ঘেরাও করে বৃষ্টির মত গুলি চালাতে থাকে সন্তুলারমার সন্ত্রাসী বাহিনী। উপর্যপূরী ঝাঁপিয়ে পড়ে নিরস্ত্র বাঙ্গালী নারী-পুরুষের উপর।

গ্রামের পর গ্রাম জালিয়ে দেয়া হয় আগুন দিয়ে। হত্যা করা অগণিত নারী-পুরুষ ও শিশুকে। জলন্ত আগুনে নিক্ষেপ করে হত্যা করা হয় গর্ভধারীনী নারীকে। সে ঘটনায় উল্লেখিত এলাকাগুলোতে মাত্র কয়েক ঘন্টার ব্যবধানে হত্যা করা হয় অন্তত ২৫০ জনের অধিক মানুষকে। অপহরণ ও গুমের শিকার হয়েছেন শত শত বাঙ্গালী।

অগ্নিসংযোগের পাশাপাশি ৪৫০টি বাড়ীর মালামাল লুট করে নিয়ে যায় শান্তিবাহিনী। এছাড়া গৃহহীন হয় সহস্ত্রাধিক পরিবার। এই দিন শান্তিবাহিনীর সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের হাতে শহীদ হন সেনাবাহিনীর মেজরসহ প্রায় ২২জন। এভাবে পুরো পার্বত্য চট্টগ্রাম জুড়ে শান্তিবাহিনীর হতে খুন হন প্রায় ৩৮ হাজার নিরস্ত্র সাধারণ মানুষ।

যাদের আত্মত্যাগ ও রক্তের বিনিময়ে আজকের এই কাউখালী। সে মানুষগুলোকে স্মরণ করা দূরে থাক আজকের এই দিনটার সম্পর্কে কথা বলতে রাজি নয় বাঙ্গালী নেতারা।

অথচ উল্টো ২৫ মার্চকে পাহাড়ী গণহত্যা দিবস হিসেবে আখ্যায়িত করে কাউখালীতে সমাবেশ করেছে চুক্তিবিরোধী সশস্ত্র সংগঠন ইউপিডিএফ। এতে অংশগ্রহণ করেছেন মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান, ইউপি চেয়ারম্যান, মেম্বারসহ নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরাও।

জাতীয় রাজনীতির সাথে জড়িত আছেন এমন অনেক উপজাতীয় বড় বড় নেতারা অনেকে প্রকাশ্যে এসব সন্ত্রাসী কার্যক্রমকে সমর্থন দিয়ে যাচ্ছেন। আবার অনেকে সভা সমাবেশে না আসলেও পেছন থেকে অর্থসহ সবধরণের যোগান দিয়ে যাচ্ছেন। এসব উপজাতীয় নেতারা জাতীয় রাজনীতিতে বড় বড় পদের সাথে যুক্ত থেকেও আঞ্চলিক রাজনীতির ক্ষেত্রে ঐক্যবদ্ধ ভুমিকা পালন করে যাচ্ছেন।

পার্বত্য অঞ্চলের জাতীয় রাজনীতির প্রধান চাবিকাঠি উপজাতীয় নেতা তথা দাদাদের দখলে থাকায় এবং তাদের নেতৃত্বেই জাতীয় রাজনীতি পরিচালিত হওয়ায় জাতীয় রাজনীতির সাথে যুক্ত থাকা বাঙ্গালী নেতাদের কার্যক্রম চলে সম্পূর্ণ উল্টো পথে।

এক্ষেত্রে অনেকটা বাঙ্গালীদের স্বার্থ বিসর্জন দিয়ে তাদের সাথে রাজনীতি করতে হয়। এর ব্যত্যয় হলে অথবা কোন বাঙ্গালী নেতা তাদের অধিকারের পক্ষে কথা বললে, বাঙ্গালীদের কোন কর্মসূচীতে সরাসরি অংশগ্রহণ করলে তাকে চিহ্নিত করে এক ঘরে করে রাখার নজির অহরহ।