ভুল ওষুধ সেবন : অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে অন্তঃসত্ত্বার মৃত্যু

0
1

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি : ” আজকের শিশু পৃথিবীর আলোয় এসেছে আমরা তার তরে একটি সাজানো বাগান চাই। ” শিশুদের জন্য সাজানো বাগান কে না চায়! কিন্তু অনাকাঙ্ক্ষিত কোনো ঘটনায় সেই শিশু যদি পৃথিবীতেই না আসতে পারে তবে তার সুন্দর স্নিগ্ধ হাসি থেকে তো পৃথিবী বঞ্চিত হবেই।ভুল ওষুধ সেবন অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে অন্তঃসত্ত্বার মৃত্যু

এমনই এক ঘটনা ঘটেছে গতকাল ৯ মার্চ রোববার রাতে। গর্ভপাতের ওষুধ সেবনের পর অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েছেন এক গৃহবধূ।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলায় গর্ভপাতের ঔষধ খেয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন সোহেদা বেগম (৩৫) নামের অন্তঃসত্ত্বা এক নারী।

মঙ্গলবার রাত ১০ টার দিকে তিনি ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন। সোহেদা জেলার সরাইল উপজেলার কালিকচ্ছ ইউনিয়নের ধরন্তি গ্রামের আনোয়ার মিয়ার স্ত্রী এবং ৬ সন্তানের জননী। পরিবারের সদস্যদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, সোহেদা দুই মাসের গর্ভবতী ছিলেন।

কিন্তু হতদরিদ্র পরিবারের এই গৃহবধূ তার গর্ভবতী হবার বিষয়টি ঠিক বুঝে উঠতে পারেননি। হঠাৎ অস্বস্তিবোধ করায় পার্শ্ববর্তী এক গ্রাম্য নারী চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন তিনি। পরবর্তীতে সেই নারীর দেয়া গর্ভনিরোধক ওষুধ ( জিসকা ফার্মাসিউটিক্যালস’র এম এম কিট) সেবন করে কিছুক্ষণের মধ্যেই অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি।

এক পর্যায়ে তার পেটে অসহ্য ব্যথা এবং সেইসাথে প্রচুর রক্তক্ষরণও শুরু হয়। পরে মুমূর্ষু অবস্থায় মঙ্গলবার (৯ মার্চ) রাত ৯টায় দিকে তাকে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে আসা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক সোহেদাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

সোহেদার স্বামী আনোয়ার হোসেন অভিযোগ করে বলেন, সোমবার পাশের বাড়ির এক মহিলার কাছে থেকে গর্ভনিরোধক ট্যাবলেট এনে খায় তার স্ত্রী সোহেদা। রাত থেকেই তার প্রচুর রক্তক্ষরণ শুরু হয়৷

মঙ্গলবার বিকেলে রক্তাক্ত অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে সোহেদা মারা গেছেন বলেন ডাক্তার নিশ্চিত করেছেন। হাসপাতালের জরুরী বিভাগের চিকিৎসক ফাইজুর রহমান ফয়েজের ভাষ্যমতে, ” অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণেই মহিলাটি মারা গেছে।

এসব গর্ভপাতের ওষুধ গ্রাম্য ফার্মেসি সহ অধিকাংশ জায়গায় সহজলভ্য হওয়ায় জন্য এখন আর গাইনী ডাক্তারের কাছে যাওয়া প্রয়োজন মনে করেন না অনেকে। আর তাই অনাকাঙ্ক্ষিত গর্ভপাত করতে গিয়ে অকালে নিভে যায় অনেক প্রসূতি মায়ের জীবন প্রদীপ ।”

সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি নাজমুল আলম আজ সকালে জানান, ” ওষুধ খেয়ে কেউ মারা গেছেন এমন কোন খবর আমরা এখনো পাই নি। খোঁজ নিয়ে বিস্তারিত জানানো যাবে। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া হবে।