বরকল আঃলীগের বহুল বিতর্কিত আহবায়ক কমিটির মেয়াদ শেষ হলো আজ

0
1

মোঃ মিরাজ হাসান,বরকল উপজেলা প্রতিনিধি।পার্বত্য রাঙ্গামাটি জেলার বরকল উপজেলা একটি প্রাচীনতম উপজেলা।দুর্গম এই উপজেলাটির আওয়ামী পরিবারে অনুপ্রবেশকারী ও ক্ষমতার লড়াইয়ে বিগত কয়েক বছর ধরে অনেকটা বাজে অবস্থা বিরাজ করছে।

বরকল আঃলীগের বহুল বিতর্কিত আহবায়ক কমিটির মেয়াদ শেষ হলো আজ
বরকল আঃলীগের বহুল বিতর্কিত আহবায়ক কমিটির মেয়াদ শেষ হলো আজ

যার মধ্যে সর্বশেষ কাজটি হলো উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন স্থগিত করে বহুল বিতর্কিত একটি আহবায়ক কমিটি প্রদান করা। উক্ত কমিটি বিগত ৯ই মার্চ২০২১ ঘোষণা করার পর থেকেই প্রচন্ড ক্ষোভ প্রকাশ করেন অত্র উপজেলার প্রবীন ও ত্যাগী আওয়ামী নেতা কর্মীরা।কারন উক্ত কমিটিতে বিএনপি,জেএসএসসহ বিভীন্ন সংগঠন হতে আগত অনেক নব্যদের স্থান দেয়া হয়েছে।নিম্নে তাদের কিছু সংখ্যক ব্যাক্তির পরিচয় সম্পর্কে সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো।

যুগ্ন আহবায়ক দুলাল তালুকদার, বিগত বিএনপি সরকারের আমলে তিনি আওয়ামী লীগ ছেড়ে বিএনপিতে যোগদান করেন। পরবর্তিতে তিনি আবার আওয়ামী লীগে যোগদান করে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি হয়েছিলেন।বিগত ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সম্মেলনে তিনি বিপুল ভোটে পরাজিত হন।বর্তমানে নারী ও শিশু নির্যাতন মামলাসহ একাধিক মামলার আসামী তিনি।

 

সদস্য সচিব সাইফুল ইসলাম মনির, ২০১০ এর আগে রাজনৈতিক কোন পরিচয়ে নেই তার।স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারন সম্পাদক থেকে সরাসরি আওয়ামী লীগের সদস্য সচিব হয়েছেন।উল্লেখ্য তিনি বিগত আওয়ামী সম্মেলনে কোনপ্রকার প্রার্থী ছিলেন না।

 

সদস্য রুহুল আমিন,তিনি বিগত সময়ে আইমাছড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন।এবারের ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সম্মেলনে তিনি তার বিপুল পরাজয় ঠেকাতে নিজের নাম প্রত্যাহার করে নেন।তার নামে দলীয় বরাদ্ধ আত্নগোপনসহ একাধীক অভিযোগ রয়েছে।

 

শাহীন খান,২০১০ সালে সরাসরি আওয়ামী লীগে যোগ দেন। বিগত সময়ে তিনি ভুষনছড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক পদে নির্বাচন করে বিপুল ভোটে হেরে যান।তার নামেও একাধীক অভিযোগ রয়েছে বলে জানা যায়।

 

পবিত্র চাকমার ২০১০ এর আগের রাজনৈতিক পরিচয়টা সঠিকভাবে জানা যায় নাই।হাসান, বর্তমানে একাধীক মামলার আসামী সাবেক এই ছাত্র নেতা।কিছুদিন আগে চাঁদাবাজি ও চুড়ির মামলায় জেলও খেটেছেন তিনি।আহবায়ক কমিটিতে দায়িত্বে আসার পর তার নামে অন্যের জমিতে আগুন,জৈনেক ব্যাক্তির মোবাইল থেকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রণোদনার টাকা চুরিসহ একাধিক অভিযোগ উঠেছে।

ডা নজুরুল ইসলামের নিকটাত্মীয় হওয়াতে সেই ক্ষমতা কাজে লাগিয়ে হযরত আলী নামক জৈনেক ব্যাক্তির তথ্য প্রযুক্তি আইনে দায়েরকৃত এফআইআর ভুক্ত মামলার আসামী হওয়া সত্বেও প্রকাশ্যে অবাধ চালাচল করছেন।তার ভাগীনা সাবেক যুবদলের সদস্য এবং বর্তমানে উপজেলা ছাত্রলীগের সহসভাপতি ফরিদকে দিয়েও করাচ্ছেন বিভীন্ন নেশাজাতীয় দ্রব্যাদির ব্যাবসা।

 

বিগত সময়ে উক্ত কমিটি জেলা কতৃক তাদের ওপড় অর্পিত কোন দায়িত্বই সঠিকভাবে পালন করতে পারে নাই।বরং উল্টো তাদের মদদেই বরকল উপজেলাতে একাধিক মামলা হয়েছে।অনুমোদিত কমিটির কাগজে স্পষ্ট উল্লেখ আছে যে তিন মাসের মধ্যে আওয়ামী লীগের সম্মেলন সম্পন্ন করতে হবে।কিন্তু সম্মেলনতো দুরে থাক সেই পরিবেশটাও সৃষ্টি করতে পারে নাই।বিগত ইদ উল ফিতরের অসহায় ও দুস্তদের জন্য বরাদ্দকৃত চাল ও নগদ টাকা মারার অভিযোগ উঠেছে ডা নজরুল ইসলামসহ উক্ত কমিটির বেশ কয়েকজনের নামে।এছাড়া উক্ত কমিটি ক্ষমতায় আসার পর মৎসজীবী লীগসহ আরো বিভীন্ন কমিটি গঠনে বিএনপি ও অনুপ্রবেশকারীদের অবাদ পদ পদবী দিয়েছেন।তাদের ফেস্টুন ব্যানারের ছবি ও সামাজিক মাধ্যমে নজর দিলে দেখা যায় নব্যদের জয়জয়কারে হারিয়ে গেছে ত্যাগী ও প্রবীণরা।

 

 

তবে সদস্য সচিব সাইফুল ইসলাম মনির এককভাবে নিজ উদ্যোগে কিছু অসুস্থ প্রবীন ব্যাক্তির খোজ খবর নিয়েছেন।একজন ব্যাক্তি চোখের ছানির অপারেশন করতে আর্থিক সহায়তা প্রদান করেছেন।এছাড়া জেলা পরিষদের সদস্য এবং উক্ত আহবায়ক কমিটির যুগ্ম আহবায়ক সবির কুমার চাকমা প্রায়শই জনগনের পাশে দাঁড়িয়েছেন। এছাড়া খবর নিয়ে আরো জানা যায়,নাছিড়উদ্দিন মাহারাজ, চিংহেন রাখাইনকে অনেকটা চাপ প্রয়োগ করে দমিয়ে রাখতে চেয়েছেন উক্ত কমিটির নেতৃত্বাধীন ব্যাক্তিরা।

আর কোন ব্যাক্তির কোন উল্লেখযোগ্য সফলতা নেই বললেই চলে।সব মিলিয়ে বলা যায় বিগত তিনমাস জুড়েই ব্যার্থতার পরিচয় দিয়েছেন উক্ত কমিটি।আর সিন্ডিকেট রাজনীতির কবলে হারিয়ে যাচ্ছে বরকল উপজেলা তথা আওয়ামী পরিবারের সুদিন।