প্রতারণা করে দ্বিতীয় বিয়ে: প্রতারক লাপাত্তা

0
3

#ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি : আগের পক্ষের স্ত্রী-সন্তান রেখে প্রতারণা করে প্রতিবন্ধী নারীকে বিয়ের পর লাপাত্তা হয়ে গেছে বর রফিক মিয়া ও তার পরিবারের সদস্যরা। প্রতারণা করে দ্বিতীয় বিয়ে। প্রতারক লাপাত্তা

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগরের পত্তন ইউনিয়নের আতকাপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

পরে ওই প্রতিবন্ধী বাদী হয়ে রফিক মিয়াসহ ছয়জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। মামলাটি বর্তমানে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের কাছে (পিবিআই) তদন্তাধীন রয়েছে।

ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর শহরের দক্ষিণ পৈরতলা এলাকায় স্ত্রী ও পাঁচ সন্তানসহ মোর্শেদ মিয়ার (ছদ্মনাম) বসবাস। পাঁচ সন্তানের মধ্যে সবার বড় মেয়েটি বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী।

তার এই অসহায়ত্বের সুযোগে স্থানীয় এক নারী একটি ছেলের জন্য বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে মেয়ের পরিবারের কাছে যান। পিতৃ-মাতৃহীন ছেলেটি উদ্বাস্তু অবস্থায় আশ্রয়ের খোঁজে রয়েছে বলে জানান সেই নারী।

এমতাবস্থায় ওই অজ্ঞাত নারী মোর্শেদ মিয়াকে মেয়ের বিয়ের পর সেই ছেলেটিকে ঘরজামাই করে রাখার প্রস্তাব দেন।

মেয়েকে বিয়ের পর ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা কেনার জন্য ঋণ করে নেয়া ৫০ হাজার টাকা জামাই রফিকের হাতে তুলে দেন শ্বশুর মোর্শেদ মিয়া। পরবর্তীতে হাতখরচের বাহানায় রফিক সেখান থেকে কিছু টাকা খরচ করে ফেললে তাকে তিনি আরও ১০ হাজার টাকা দেন।

কিছুদিন যাবার পর মোর্শেদ মিয়া জানতে পারেন, জামাই রফিক আগে বিয়ে করেছে এবং আগের পক্ষে চার সন্তানও রয়েছে তার।

তাকে জিজ্ঞাসা করলে সে সব স্বীকার করে নেয়। বিষয়টি দুপক্ষের পারিবারিক পর্যায়ে মীমাংসার জন্য গড়ালে রফিকের মা ও ভাই মীমাংসার কথা বলে পালিয়ে যান।

এই ঘটনার পর ওই প্রতিবন্ধী নারী বাদী হয়ে গত ৩ ফেব্রুয়ারি স্বামী রফিক মিয়াসহ ছয়জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন।

এ বিষয়ে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত মোর্শেদ মিয়া বলেন, ‘আমি নিজের ছেলে ভেবে রফিককে আশ্রয় দিয়েছিলাম। সে যাওয়ার আগে ভিডিও রেকর্ডে সব স্বীকার করেছে। আমার মেয়েটি এমনিতে বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী।

এই ঘটনার পর সে আরও ভেঙে পড়েছে। এক তো প্রতিবন্ধী, আবার সে প্রতারণার শিকার হয়েছে। আমি এর দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।’

এই বিষয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পিবিআইয়ের উপ-পরিদর্শক (এসআই) হুমায়ুন কবির জানিয়েছেন, ‘এই মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে। ইতোমধ্যে ভিকটিমের পরীক্ষা করা হয়েছে। আসামীদের ছাড় দেয়া হবে না।’