করোনা প্রণোদনা তালিকায় নেই আইসোলেশন ইউনিটের প্রধান সমন্বয়কের নাম

0
3

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি : গতবছর থেকে শুরু হওয়া করোনা ভাইরাসের প্রথম ঢেউয়ের ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর হাসপাতালে কোভিড ফ্রন্টফাইটার হিসেবে আইসোলেশন ইউনিটের প্রধান সমন্বয়কারীর দায়িত্ব সামলেছেন ডা. একরামুল রেজা টিপু।

ডা. একরামুল রেজা টিপু

রাতদিন শ্রম দিয়েছেন আইসোলেশন, চিকিৎসক রোস্টার, শিফটিংসহ যাবতীয় সব কিছু ব্যবস্থাপনায়। কিন্তু সম্প্রতি প্রকাশিত চিকিৎসকদের প্রণোদনার তালিকায় আশ্চর্যজনকভাবে এই চিকিসক কর্মকর্তার নাম না থাকার অভিযোগ উঠেছে বেশ জোরেশোরে। অভিযোগ আছে হাসপাতালের প্রভাবশালী গুটিকয়েক চিকিৎসক একরামুল রেজা টিপুর নাম ইচ্ছাকৃতভাবে বাদ দিয়েছেন তালিকা থেকে বাদ দিয়েছেন।

উল্লেখ্য, একরামুল রেজা টিপু প্রায় বছর তিনেক আগে (২০১৮ সালের ২৮ নভেম্বর) ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা হিসেবে যোগদান করেন। করোনার ক্রান্তিকালীন সময়ে সম্মুখসারির যোদ্ধা হিসেবে আইসোলেশন ইউনিটে দায়িত্ব পালন করেছেন বেশ কৃতিত্ব এবং দক্ষতার সাথে।

গত বছরের ১৩ অক্টোবর আকস্মিকভাবে তাকে চাঁদপুর মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বদলি করা হয়। তিনি বর্তমানে সেখানেই আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। প্রসঙ্গগত উল্লেখ্য যে, গত বছরের ৫ মে ব্রাহ্মণবাড়িয়া পুরো জেলাকে লকডাউনের আওতাধীন ঘোষণা করা হয়। প্রথমদিকে জেলা শহরের মেড্ডা এলাকায় অবস্থিত বক্ষব্যাধি হাসপাতালকে জেলার করোনায় আক্রান্ত রোগীদের আইসোলেশন ইউনিট হিসেবে ব্যবহার করা হয়।

জেলায় করোনায় আক্রান্ত সকল রোগীদের সেখানেই চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। করোনার ওই ইউনিটে প্রধান সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করেছেন সেসময় ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা একরামুল রেজা টিপু।

হাসপাতাল সূত্রের খবর, গত ২৫ মার্চ স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকে করোনার দুর্যোগকালীন সময়ে দায়িত্ব পালন করা ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসক ও স্বাস্থ্য কর্মীদের প্রণোদনার তালিকা ও তাদের প্রণোদনার বরাদ্দ পাঠানো হয়। তালিকায় হাসপাতালের ৫১জন চিকিৎসক ও ৬১জন স্বাস্থ্য কর্মীর জন্য ৫০ লাখ ৮৪ হাজার ৮৪০টাকা বরাদ্দ করা হয়। নাম প্রকাশ না করার শর্তে হাসপাতালের কয়েকজন চিকিৎসক জানিয়েছেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি রাজনৈতিক স্ট্যাটাসকে ঘিরে চিকিৎসক একরামুল রেজাকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে অন্যত্র বদলি করা হয়।

তিনি করোনার সময়ে একনিষ্ঠভাবে কাজ করেছেন অথচ প্রণোদনা তালিকায় তার নাম নেই। বছরের পর বছর যারা হাসপাতালে যান না এবং হাসপাতাল থেকে ২০-৩০ গজ দূরত্বে দিনরাত ব্যক্তিগত চেম্বার করেন, মহামারীর সময় যারা কূপমণ্ডূক হয়ে ঘরকুনো হয়ে ছিলেন প্রণোদনা তালিকায় তাদের নাম ঠিকই আছে।

তাঁরা বলেন, হাসপাতালের এক জেষ্ঠ্য চিকিৎসক ও ৩৯তম বিসিএসের কয়েকজন মিলে তালিকা থেকে একরামুল রেজার নাম ইচ্ছে করে তালিকা থেকে বাদ দিয়েছেন। চিকিৎসক একরামুল রেজা টিপু বলেন, করোনার সময়ে যতটুকু পেরেছি সামনে থেকেই কাজ করেছি।

সবাই এটা জানে। এখানে প্রণোদনার টাকাটি মূল বিষয় নয় বরং এটি রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বীকৃতির সাথে ভীষণভাবে সম্পৃক্ত । তাই প্রণোদনার তালিকায় আমার নাম থাকা উচিত ছিল। কিন্তু চিকিৎসক রানা নুরুস শামস তালিকা থেকে আমার নাম বাদ দিয়েছেন।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কাছে আমার অনুরোধ, আমাকে টাকার মূল্যে বিচার না করে কাজের স্বীকৃতি দেয়া হোক।