ওসির সৃজনশীলতায় পাল্টে গেছে রাণীনগর থানার চিত্র

0
1

রাণীনগর (নওগাঁ) প্রতিনিধি: ওসির সৃজনশীলতায় পাল্টে গেছে নওগাঁর রাণীনগর থানার চিত্র। পুলিশের আচরণ যেমন পাল্টেছে, তেমন থানার চিত্রও বদলেছে। এখন আগের তুলনায় থানায় সেবার মানও বেড়েছে। থানা মানেই টাকা। টাকা ছাড়া থানায় কোনো কাজ হয় না। এমন ধারণা জনসাধারণের। তবে জনসাধারণের সেই ধারণা পাল্টে দিয়েছেন রাণীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: শাহিন আকন্দ। এছাড়াও রাণীনগর থানা দালাল মুক্ত করেছেন তিনি।
এ থানায় সেবা নিতে আসা লোকজন টাকা ছাড়াই এখন সাধারণ ডায়েরি (জিডি), অভিযোগ ও মামলা লেখা অন্তর্ভুক্ত করতে পারছেন। থানা চত্বরে ময়লা পরিষ্কার করা সহ চত্বরে সবজি বাগান করায় সৌন্দর্য বৃদ্ধি পেয়েছে। এই স্থাপনার সৌন্দর্য বৃদ্ধি ও দৃষ্টিনন্দন করতে এবং সহজেই মানুষকে সেবা দিতে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন রাণীনগর থানার ওসি। থানার মুল ফটক দিয়ে ঢুকতেই চোঁখে পড়বে জাতীর জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ছবি, আইজিপি বেনজির আহম্মেদের ছবি এবং রাণীনগর থানার মানবিক সকল কাজের স্থীর চিত্র।
ওসি মো: শাহিন আকন্দ যোগদান করেন ২৫-১২-২০২০ ইং তারিখে। যোগদানের পর থেকেই নিজের সৃজনশীল কর্মদক্ষতায় চেষ্টা করে যাচ্ছেন মাদক, সন্ত্রাস, ইভটিজিং, জঙ্গীবাদ, বাল্যবিয়ে প্রতিরোধমুক্ত একটি থানা গড়তে। শুরু থেকেই উপজেলাব্যাপী মাদক বিরোধী অভিযান পরিচালনা করে মাদক নির্মুলের চেষ্ঠা করছেন। এছাড়াও এলাকার পরিবেশ শান্ত রেখেছেন প্রতিটি সময়। নিজের দায়িত্ব কর্তব্যের মধ্যে থেকেও সময় বের করে অসহায়, ছিন্নমুল মানুষের মাঝে ছুটে চলেছেন প্রতিনিয়ত। করোনা কালীন সময়ে রমজানের শুরু থেকে নিজের ব্যক্তিগত ও থানার অন্যান্য পুলিশ সদস্যদের সহযোগিতায় খাবার নিয়ে ছুটে গেছেন অসহায় ছিন্নমূল মানুষের মাঝে। ওসি এ থানায় যোগদানের প্রায় ছয় মাসের মধ্যেই তার সৃজনশীল ও যুগোপযোগী পরিকল্পনার ফলে রাণীনগর থানা ও পুলিশ হয়ে উঠেছে এ উপজেলার মানুষের আস্থার ঠিকানা। তিনি এ থানায় যোগদানের পর থেকেই মানবিক ও জনবান্ধব পুলিশ হিসেবে প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে সচেতনতা সৃষ্টি করেন।

থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: শাহিন আকন্দ বলেন, নওগাঁ পুলিশ সুপারের নির্দেশে যোগদানের পর থেকেই মাদক বিরোধী অভিযান পরিচালনা করে আসামীদের দ্রুত সময়ের মধ্যে গ্রেফতার, নিয়মিত অভিযানে ইভটিজিং, বাল্যবিয়ে, মারপিট থেকে শুরু করে প্রায় সকল ধরনের অপরাধ প্রবণতা অনেক কমেছে।
তিনি আরো বলেন, কোনো চাওয়া-পাওয়ার জন্য নয়, পেশাগত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি ভালো লাগার জায়গা থেকে কাজগুলো করেছি। মানবিক ও জনবান্ধব পুলিশ হিসেবে জনগণের পাশে দাঁড়াতে সর্বদা কাজ করে যাচ্ছি। মানবিক দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি যে কোনো অপরাধ দমন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা ও সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়নে সর্বদা তিনি সজাগ আছেন। সকল অপরাধ মুক্ত সমাজ গড়তে সাংবাদিক, সুশিল সমাজসহ সকলের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।