ঈদগাহমাঠে ঈদের নামাজ আদায়ের দাবি ধর্মপ্রাণ মানুষের, মসজিদে নির্দেশ ধর্ম মন্ত্রণালয়ের

0
1

রাজীব প্রধান, গাজীপুর :-

স্বাস্থ্যবিধি মেনে গত বছরের মতো এবারও মসজিদে পবিত্র ঈদুল ফিতরের নামাজের জামাত অনুষ্ঠিত হবে বলে ঘোষণা হয়েছে । সোমবার (২৬ এপ্রিল) দুপুরে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

নির্দেশনায় বলা হয়, করোনা সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ার কারণে আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতরের নামাজের জামাত ঈদগাহ বা খোলা জায়গার পরিবর্তে নিকটস্থ মসজিদে আদায় করতে হবে। যারা মসজিদে নামাজ আদায় করতে আসবেন, তাদের প্রত্যেককে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। মাস্ক পরিধান করতে হবে। নামাজ আদায় করার সময় শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখতে হবে।

ঈদের নামাজের জামাতের সময় মসজিদে কার্পেট বিছানো যাবে না। নামাজের পূর্বে সম্পূর্ণ মসজিদ জীবাণুনাশক দ্বারা পরিষ্কার করতে হবে। মুসল্লিরা প্রত্যেকে নিজ নিজ দায়িত্বে জায়নামাজ নিয়ে আসতে পারবেন।
এত শর্তসাপেক্ষের মাধ্যমে যদি ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হতে পারে, তাহলে কেন পোশাকশিল্পকারখানা, গণপরিবহন, শপিং মল বা অন্যান্য ক্ষেত্রগুলোতে মানা হবে না
স্বাস্থ্যবিধি। প্রশ্ন থেকে যায় কিছু বিবেকবান হৃদয়ে।

চরম দুরবস্থা মধ্যে যদি, দেশের সবকিছুই এভাবে চলতে পারে, তাহলে কেন ঈদের জামাত মাঠে পড়া যাবেনা ? এ নিয়ে প্রশ্ন জনমনে ।
সাধারন জনগনকে সচেতনতার বাণী শোনাতে গেলেই এসব প্রশ্ন ছুড়ে দেন জানতে বা সচেতন করতে আসা লোকের মুখের উপর। তাহলে কি, করুনা শুধু ঈদের জামাতেই বেশি ছড়ায় !! নাকি কল-কারখানা, গণপরিবহন আর শপিংমলে
ছড়ায় না ? কেউ কেউ বলছেন ঈদের নামাজের জামাত যদি ঈদের মাঠে না পড়তে পারি তাহলে পরিপূর্ণ ঈদের আত্মতৃপ্তির প্রকাশ পাওয়া যায়না। আমরা মুসলমানদের সবচেয়ে আনন্দঘন ধর্মীয় উৎসব হলো বছরে দুইটি ঈদ। আর সেই ঈদের নামাজ যদি মসজিদে আদায় করতে হয় তাহলে তো আর সেটা ঈদের আনন্দ হলোনা। করুণা ভাইরাস সংক্রমণের সময়ে লকডাউন ও বিভিন্ন স্বাস্থ্যবিধি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করেই চলেছে সব কিছুই। তবে কেন ঈদের ১ ঘন্টা নামাজ মাঠে আদায় করা যাবেনা?

এদিকে,

সারা বিশ্বে যেমন করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ বৃদ্ধি পেয়েছে, তেমনি বাংলাদেশেও তার প্রভাব পড়েছে।

সার্বিক দিক বিবেচনা করে সরকার গত ১৪ এপ্রিল থেকে সারা দেশে সর্বাত্মক লকডাউনের ঘোষণা দিয়েছিলো কিন্তু তা বাস্তবায়ন হচ্ছে না বরাবরের মতই। ঢাকা সহ সারা দেশের বিভিন্ন জেলার বিভিন্ন শপিংমল,দোকানপাট,গার্মেন্টস শিল্পকারখানা। যেখানে মানা হচ্ছে না কোন স্বাস্থ্যবিধি। অথচ ঈদকে সামনে রেখে জমে উঠেছে নানা নিয়ন্ত্রনহী, স্বাস্থ্য বিধি না মেনে চলা হাজারো মানুষের বহুরুপী হাট।

শপিং মলগুলোতে জনতার উপচে পড়া ভিড় থাকে, অনেকের মুখে নেই মাস্ক।

অন্যদিকে জেলা ভিত্তিক মহাসড়কে বিভিন্ন গণপরিবহনে স্বাস্থ্য বিধি না মেনে চলাচল ও যাত্রী উঠানামা করছে,। সব কিছুই যদি চলতে পারে তাহলে ঈদের নামাজের জামাতটাও খোলা মাঠে বা ঈদগাহে পরার অনুমতি দেয়া হোক বলে দাবি ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের।