নারী শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা

0
1

জেলা প্রতিনিধি, রাজবাড়ি প্রাচীন কাল থেকেই আমাদের দেশে একটি প্রবাদ প্রচলিত আছে-“সংসার সুখের হয় রমণীর গুণে।” তাই নারীকে অনেক গুনের অধিকারী হতে হয় এবং সেসব গুনের বিকাশ ঘটতে পারে উপযুক্ত শিক্ষার মাধ্যমে।

নারী শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা
নারী শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা

শিক্ষায় মানুষকে নিয়ে যায় সুন্দর জীবনের দিকে। তাই পুরূষের যেমন শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা আছে, তেমনি নারী শিক্ষার গুরুত্ব ও কোনো অংশে কম নয়। আমাদের দেশে শিক্ষার ক্ষেত্রে নর- নারীকে কখনোই সমানভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। পুরুষ শাসিত সমাজ ব্যবস্থার কারণে পুরুষের জন্য যতটুকু সু্যোগ-সুবিধা রয়েছে নারীর জন্য ততটুকু ছিল না। ফলে নারীরা পুরুষের পাশাপাশি সমানভাবে শিক্ষিত হয়ে উঠতে পারেনি।

পরিমাণে আমাদের সমাজ ততটা অগ্রসর হওয়ার কথা ছিল ততটা অগ্রসর হতে পারিনি। অন্যদিকে, বিশ্বের উন্নত দেশগুলো নারীকে শিক্ষার প্রয়োজনীয় সুযোগ দিয়ে সমৃদ্ধ জীবনের প্রবাদ ভোগ করছে।

 

পুরুষের ন্যায় নারীও মানুষ। তার ও রয়েছে মৌলিক অধিকার। পুরুষ নারীর শাসক বা প্রভূ নয়। নারী-পুরুষেরা পরস্পর বন্ধু ও মমত্ববোধ। মহানবী (সাঃ) নারীকে পুরুষের পরিচ্ছদ ও পুরুষকে নারীর পরিচ্ছদ বলে অভিহিত করেছেন।

তিনি পুরুষের জন্য সতী- সাব্ধী, মমতাময়ী, নারীকে আল্লাহর শ্রেষ্ঠ নেয়ামত বা আশির্বাদ ও সম্পদ বলে আখ্যায়িত করেছেন। ইসলামের মতে নারীর মর্যাদা, সম্মান ও অধিকার তার নায্য পাওনা। তা থেকে তাকে বঞ্চিত করা যাবেনা। ইসলাম সর্বপ্রথম নারীকে সম্মান, মর্যাদা ও মুক্তির সোপনে উন্নীত করেছে।

 

নারী শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে আজ আর ভিন্নমতের কোনো অবকাশ নেই। বাংলাদেশের জনসংখ্যার অর্ধেক নারী। আমাদের জাতীয় জীবনে পুরুষের চেয়ে নারীর ভূমিকা কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। কিন্তু শিক্ষার অভাবে তারা সে ভূমিকা পালন করতে পারছে না। তাই জাতির বৃহত্তর স্বার্থে নারী জাতিকে অবশ্যই উপযুক্ত শিক্ষায় শিক্ষিত করে তুলতে হবে।

কারন মায়ের কোলে যে শিশু প্রতিপালিত হয় সেই তো দেশ তথা জাতীর ভবিষ্যত। মা যদি উপযুক্ত শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে উঠতে না পারে তবে সন্তানের জীবন গঠনে তিনি সঠিক ভূমিকা রাখতে পারেন না। তাই সন্তানের জীবন গঠনের জন্য মায়ের শিক্ষা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

 

আজকের বিশ্বে সভ্যতার মে আলোকোজ্জ্বল বিকাশ তার পেছনে নারীর অবদান পুরুষের চেয়ে কম নয়। নারী তার স্নেহ- মায়া-মমতা ও নিরন্তর শ্রম দিয়ে বিশ্ব- সভ্যতার চাকাকে সচল রেখেছে। নারীর যোগ্য সাহচর্য ছাড়া কোন কবি, সাহিত্যিক বা দিগ্বিজয়ীর পক্ষেই আপন কীর্তিগাথা রচনা করা সম্ভব হয়নি। কবির ভাষায়- “কোন কালে একা হয়নিত জয়ী পুরুষের তরবারি, প্রেরনা দিয়েছে , শক্তি দিয়েছে, বিজয়ী নারী।”

 

নারীর অবদানকে অস্বীকার করে কোন জাতিই কাঙ্ক্ষীত অগ্রগতি অর্জন করতে পারে না। আজকের শিশু আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। শিশুর পরিচর্যা ও শিক্ষা যদি যোগ্য মাতার হাতে যথার্থ না হয় তাহলে তার ভবিষ্যৎ জীবনের সাফল্য কামনা করা যায় না। শিশুর চরিত্র গঠন ও শিক্ষার ভিত্তি স্থাপিত হয় পরিবারে এবং এখানে প্রকৃত শিক্ষক হলেন শিশুর মা।

আজকের দিনে নারীর সেবা ও প্ররনাই শুধু সমাজ প্রগতির উৎস নয়; সবক্ষেত্রে এখন নারী অবদান রেখে চলেছে। নারী আজ ডাক্তার, বৈমানিক, শিক্ষক, রাজনীতি বা সচেতন সমাজকর্মী হিসেবে সমাজ বিনির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন।

 

অনুন্নত বিশ্বের একটি অন্যতম দেশ হিসেবে আমাদের দেশেও নারী শিক্ষার ক্ষেত্রে যথেষ্ট অন্তরায় রয়েছে। তার মধ্যে প্রধান তম অন্তরায় হচ্ছে কুসংস্কার। তাছাড়া নারীদের বেলায় রয়েছে সামাজিক নিরাপত্তার অভাব। এ সমস্ত প্রতিবন্ধকতার অবসান না হলে দেশের সার্বিক উন্নয়ন সম্ভব নয়।

 

সমাজ প্রগতিতে অসামান্য অবদান রেখে অনেক নারী ইতিহাসের পাতায় অমরত্ব লাভ করেছেন। এদের মধ্যে জোয়ান অব আর্ক, মাদাম কুরি, ফ্লোরেন্স নাইটিঙ্গেল, পার্ল-এস বাক, আনা, লীলাবতী, সরোজিনী নাইডু, মাদার তেরেসা, বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন, নবাব ফয়জুন্নেসা, শামসুন্নাহার মাহমুদ, চাঁদ সুলতানা, সুলতানা রাজিয়া, নূরজাহান, সুফিয়া কামাল প্রমুখের নাম উল্লেখযোগ্য।

 

নারী অবলা কিংবা সেবাদাসী নয়। তারাও জাতি গঠনে সমান অংশীদার। তাই বেগম রোকেয়া নারীদের সমাজের “অর্ধ অঙ্গ” বলে উল্লেখ করেছেন।