
লেখক–আরাফাত রহমান ,জেলা প্রতিনিধি, রাজবাড়ীঃ-মাতা অর্থ মা আর পিতা অর্থ বাবা৷ পিতা – মাতা অর্থ মা বাবা৷ পিতা মাতা আমাদের জন্মদাতা৷ তাদের জন্যই আমরা পৃথিবীর মুখ দেখতে পেরেছি৷ শুধু তাই নয়, তাদের যৌথ প্রচেষ্টাতেই আমরা সুন্দরভাবে সুন্দর পরিবেশে বেড়ে উঠি৷ আমরা আমাদের মুখের কথা মা বাবার কাছ থেকেই শিখেছি৷আমাদের বেড়ে ওঠার পেছনে শুধু মা বাবার কৃতিত্বই নেই, রয়্রছ্র গুরুজনের দেওয়া শিক্ষা৷ সাধারন অর্থে গুরুজন বলতে বোঝানো হয় শিক্ষক, মামা, কাকা, ও প্রতিবেশিদের মধ্যে বয়সে বড় ও অভিজ্ঞ লোকদের৷ বিভিন্ন বিপদের সময় তারা আমাদের বিভিন্ন পরামর্শ দিয়ে সাহায্য করে থাকেন৷ তাঁদের পরামর্শে অনেকসময় ভাগ্য ঘুরে যেতে পারে৷ তারা যেমন সবসময় ভালো পরামর্শ দিয়ে আমাদের সাহায্য করে থাকেন, তেমনি আমাদেরও পিতা মাতা ও গুরুজনের প্রতি কিছু দায়িত্ব ও কর্তব্য আছে৷ আমাদের সেগুলো যথাযথভাবে পালন করা উচিৎ৷
পিতা মাতা হলো তারাই যারা আমাদের লালনকর্তা আর পালনকর্তা৷ তারা সবসময় আমাদের মঙ্গল কামনা করেন৷ তারা আমাদের সাফল্যের জন্য যা কিছু করা দরকার সবকিছু করেন৷ তারা সারাদিন হাড়ভাঙা পরিশ্রম করে আমাদের লালন পালন করেন ৷ তারা সারাদিন পরিশ্রম করলেও তাদের কোনো দুঃখ নেই৷ তারা আমাদের কোনো কষ্ট বুঝতে দেন না৷ তারা আমাদের মনের স্বাদ পুরনের জন্য প্রয়োজনের অতিরিক্ত পরিশ্রম করেন ৷ পিতা মাতার অবদান পরিমাপ করা বা এর মুল্য নির্ধারন করা কোনো সন্তানের পক্ষে পুরপুরি সম্ভব নয়৷ সন্তান্দের জন্য পিতা মাতাই একমাত্র নিরাপদ স্থান
এ পৃথিবীর বুকে পিতা মাতার সম্মান ও মর্যাদা নি:সন্দেহে শীর্ষস্থানীয়৷ পিতা মাতা হলো সন্তানের অভিভাবক ৷ সুতরাং সন্তানের প্রধান কাজ হলো পিতা মাতার প্রতি তাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য যথাযথভাবে পালন করা ও তাদের মান রক্ষা করা৷ শিশু জন্মের পর বাল্য, শৈশব বা কৈশর পর্যন্ত পিতামাতার তত্ত্বাবধানে থাকে এবং সম্পুর্ন অনুগত থাকে৷ তারপর যৌবনে ও সংসার জীবনে কোনো কোনো ক্ষেত্রে পিতা মাতার সাথে তার সন্তানের মনোভিন্নতা দেখা দিতে পারে৷ তখন হয়তো সন্তান তার পিতামাতার সাথে খারাপ আচরন করে বা তার দায়িত্ব কর্তব্যগুলো এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করব তাদের বৃদ্ধাশ্রমে পাঠিয়ে দেয়৷ সন্তানের এমন খারাপ আচরন না করে তাদের উপর যে দায়িত্ব বা কর্তব্য ন্যাস্ত করা হয়েছে সেগুল পালন করা উচিৎ৷ তাদের দায়িত্ব ও কর্তব্যের প্রথমে যেটি আসে সেটি হলো পিতা মাতার সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখা ও তাদের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করা৷ সন্তানের পথ চলা বাবা মায়ের সন্তষ্টি অনুযায়ী হওয়া উচিৎ৷ সবসময় পিতা মাতার বাধ্য থাকা এবং তাদের আদেশ নিষেধ পালন করা প্রত্যেক সন্তানের দায়িত্ব৷ মা বাবা নবজাতক শিশুর মতোই অসহায় হয়ে পড়ে যখন তার বার্ধক্য চলে আসে৷ এক্ষেত্রে পিতা মাতাকে বোঝা না ভেবে তাদের অভিভাবকত্ব গ্রহন করা প্রত্যেক সন্তানের দায়িত্ব৷ ইসলাম ধর্মে বলা হয়েছে, বৃদ্ধ অবস্থায় তার পিতা মাতাকে পেল কিন্তু সেবা করলো না তার মতো হতভাগ্য আর কেও নেই৷ মনিষিরা মনে করেন মানুষের তিনটি কর্তব্য আছে “ Duty towards god, Duty towards parents and Duty towards mankind “ ফলে পেশাগত সফলতা টিকিয়ে রাখতে এবং তথাকথিত অভিজাত সমাজে নিজের মুল্যবোধ বজ্য রাখতে সন্তানের কাছে তার বৃদ্ধ বাবা মার স্থান হয় বৃদ্ধাশ্রম৷ এই অপসংস্কৃতির হাওয়া আমাদের দেশেও বইছে৷ আমাদের শিক্ষিত সমাজের উচিৎ এটা রোধ করা৷ কারন এটা হতে থাকলে আস্তে আস্তে মানুষের মনুষত্ববোধ লোপ পাবে৷ মনুষত্ববোধ লোপ পেলে একে অপরের সাথে ঝগড়া বিবাদ লেগেই থাকবে৷ দেশের শিক্ষিত জনগন যদি নানা ধরনের পদক্ষেপ গ্রহন করার মাধ্যমে সবাইকে সচেতন করেন তাহলেই সবাই সচেতন হয়ে যাবে৷ আর বৃদ্ধাশ্রমের সংখ্যাও কমে যাবে৷ পিতা মাতার প্রতি সন্তানের দায়িত্ব ও কর্তব্যগুলো হলো :
১. পিতামাতার সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখা : প্রত্যেক সন্তানের প্রধান কর্তব্য হলো তার পিতা মাতার সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখা৷ সন্তানের উচিৎ তার পিতা মাতার সাথে সবসময় সদাচরন করা এবং কোমল কণ্ঠে ও মর্জিত ভাষায় কথা বলা৷ কোনো অবস্থাতেই পিতা মাতার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করা যাবে না৷ সন্তান জন্ম নেওয়ার পর থেকে পিতা মাতা তার চরন পোষন ও লালন পালনের ব্যাবস্থা করেন৷ মাতৃদুগ্ধ সন্তানের খাবার চাহিদা পূরন করে৷ সুতরাং সন্তানের সঙ্গে পিতামাতার রক্তের এবং নাড়ির সম্পর্ক৷ বিপদগামি হয়ে এবং অবাধ্য হয়ে এই সম্পর্ককে তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করা উচিৎ নয়৷
২.পিতা মাতার প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করা : পিতা মাতার প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করা সন্তানের একতু অন্যতম কর্তব্য৷ পিতা মাতার প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করা বলতে বোঝায় সব পরিস্থিতিতে পিতা মাতার প্রতি অনুগত থাকতে হবে এবং কখোনো বিরক্ত হওয়া যাবে না ৷ সন্তানের কাছে তারা কিছুই চায় না, শুধু চায় বিনয়ী আচরন৷ পিতা মাতা সন্তানের সর্বোত্তম বন্ধু ৷ তাদেরকে শান্তিতে এবং চিন্তামুক্ত রাখা সন্তানের কর্তব্য৷
৩. পিতা মাতার প্রত্যাশা পুরন : সন্তানের বেড়ে ওঠা, তার যথাযথ লালন পালন, তাকে মানুষের মত মানুষ করে গড়ে তোলা, এসব নিয়েই পিতা মাতার জগৎ ৷ পিতা মাতা সন্তানের জন্য অনেক কষ্ট স্বীকার করেন ৷ আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে, এটাই সকল পিতা মাতার প্রত্যাশা ৷ সন্তানের সুপ্রতিষ্ঠিত হয়ে ওঠার পেছনে বাবা মার নিরলস সাধনা বিরাট ভূমিকা পালন করে৷ তাদের ছেলে মেয়েরা সুসন্তান হিসেবে সমাজে মাথা তুলে দাঁড়ায়, সকল প্রকার অন্যায় ও মিথ্যাকে প্রতিহত করার ক্ষমতা অর্জন করুক এটাই তাদের প্রত্যাশা৷ এসব প্রত্যাশা পুরনের মাধ্যমে তাদের প্রতি কর্তব্য পালন করা যায়৷ এছাড়াও পিতা মাতার আর অনেক প্রত্যাশা আছে সেগুলো পুরন করা৷ বাল্যকাল থেকেই সন্তানের উচিৎ তার পিতা মাতার প্রত্যাশা পুরন করা৷ যেমন অনেক পিতা মাতার ইচ্ছা থাকে যে তার সন্তান ডাক্তার বা প্রৌকশলী হবে বা বিশিষ্ট সমাজ সেবক হবে৷ তাই সন্তেনের উচিৎ ছোটবেলা থেকেই বাবা মার প্রত্যাশা অনুযায়ী কাজ করা৷ বাবা মার কথা মত কাজ করাও তাদের প্রত্যাশা পুরনেরই অংশ৷ বাবা মার প্রত্যাশা পুরনও এক ধরনের দায়িত্ব৷
৪.পিতা মাতার আদর্শ ও সম্মান বজায় রাখা : প্রত্যেক সন্তানের উচিৎ তাদের পিতা মাতার আদর্শ ন্যায় নীতি অনুসরণ করে চলা৷ সমাজে পিতা মাতার সম্মান কমে যাক এমন কাজ কিরা সন্তানের উচিৎ নয়৷ পিতা মাতার ভালোবাসা এতটাই গভীর যে, সন্তান বিপদগামী হলেও দূরে সরিয়ে রাখতে পারে না ৷ তাই সবসময় তাদের আদেশ নিষেধ মেনে চলতে হবে৷ তবে পিতা মাতা যদি ধর্ম বিরোধী কাজ যেমন, শিরক, কুফরী, অসৎপথে অর্থ উপার্জনের কাজে লিপ্ত থাকেন, সেক্ষেত্রে তাদের নির্দেশ মানা যাবে না৷ সমাজে আত্নীয় স্বজন, বন্ধু বান্ধব ও সহকর্মী তাদের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রেখে পিতামাতার সম্মান বৃদ্ধি করা যায়৷ যেমন: সমাজের সকলের সাথে ভালো ব্যাবহার করা, বৃদ্ধ লোক দেখলে সালাম দেওয়া ইত্যাদি৷
৫. মৃত্যুর পর তাদের জন্য করনীয় ; মৃত্যুর পর পিতা মাতার মাগফিরাত কামনা করে সন্তানদের দোয়া করতে হবে৷ মৃত্যুর পুর্বে পিতা মাতার কোনো ঋন বা দেনা থাকলে তা পরিশোধ করা সন্তানেরই দায়িত্ব৷ পুর্বে কারো কাছে ওয়াদাবদ্ধ থাকলে তা পুরন করাও সন্তানেরই দায়িত্ব।





