দোয়া কবুলের উত্তম সময় ও স্থান

0
11

মানুষ সৃষ্টির সেরা জীব। এই পৃথিবীতে আল্লাহ মানুষকে পাঠিয়েছে একমাত্র তার ইবাদাত করার জন্য। কিন্তু মানুষ প্রায় কোন না কোন ভুল করে। তবে মানুষ যখন তার ভুল বুঝতে পেরে আল্লাহর করছে ক্ষমা চায় তাহলে আল্লাহ ক্ষমা করে দেন।

আর ক্ষমা চাইতে হলে অবশ্যই আল্লাহর দরবারে বান্দার দোয়া করতে হয়। এখন কথা হলো কখন আল্লাহর দরবারে বান্দার দোয়া করতে হয়।

দোয়া কবুলের কারণ গুলোকে দুটি বড় ভাগে বিভক্ত করা যেতে পারে যথাঃ

সময়
অবস্থা/স্থান

আমি কুরআন হাদিস অনুযায়ী সংক্ষিপ্তভাবে বিষয় গুলো উপস্থাপন করার চেষ্টা করছি।

যে অবস্থায় দোয়া কবুলের সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশিঃ

মজলুম অবস্থায়ঃ
যে ব্যক্তি অন্যায়ভাবে অত্যাচারিত হয়েছে অর্থাৎ যিনি মজলুম ব্যক্তি, তার দোয়া কবুল হয়।

আজান ও ইকামতের মধ্যবর্তী সময়ঃ
আজান ও ইকামতের মধ্যবর্তী সময়ে দোয়া কবুল হয়। এ সময় দোয়া কবুলের বিষয়টি হাদিসের অনেক জায়গায় বর্ণিত করা হয়েছে।

অসুস্থ ব্যক্তিঃ
একজন ব্যক্তি যিনি কোন দুর্যোগে পরে গুরুতর জখম বা আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছেন তার দোয়া কবুল হয়।

মুসাফিরঃ
মুসাফির ব্যক্তির দোয়া কবুল হয়। সফর অবস্থায় সে যে দোয়াই করে আল্লাহ তায়ালা তার সে দোয়াই কবুল করে নেন। তবে এক্ষেত্রে তাকে অবশ্যই তার বাসস্থান হতে নির্দিষ্ট দূরত্ব অতিক্রম করতে হবে। যেমন: হানাফি মাজহাবের ক্ষেত্রে তার দূরত্ব ৪৮ মাইল।

রোজাদারঃ
রোজাদার ব্যক্তির দোয়া কবুল হয়। রোজাদার ব্যক্তির দোয়াও আল্লাহ-তায়ালা ফেরত দেন না।

কুরআন তিলাওয়াতঃ
কুরআন পাঠরত ব্যক্তি বা যিনি খানিকক্ষণ আগে কুরআন পাঠ করেছেন তার দোয়াও কবুল হয়।

হজ্ব বা জিহাদঃ
হজ্ব বা উমরা বা জিহাদ সম্পাদন করছেন এমন ব্যক্তির দোয়া কবুল হয়। দোয়া কবুলের কার্যকরী সুযোগ হচ্ছে হজ্বের সফর। হজ্বের সফরে দোয়া কবুলে হওয়ার বিশেষ কিছু স্থান রয়েছে। যে স্থান গুলোতে দোয়া করলে সেই দোয়া কবুল হয়।

অনুপস্থিতিতে দোয়াঃ
যখন কেউ কোন অনুপস্থিত ব্যক্তির জন্য দোয়া করে তার দোয়া কবুল হয়। কারণ যখন কেউ কোন অনুপস্থিত ব্যক্তির কারো জন্য দোয়া করেন তখন ফেরেস্তাগণ উপস্থিত ব্যক্তির হয়ে আমীন বলে দেন।

জিকিরকারীঃ
জিকির রত ব্যক্তির দোয়া দোয়া কবুল হয়।

ন্যাপরায়ণ শাসকঃ
কোন ন্যায়পরায়ণ শাসক যদি আল্লাহর কাছে দোয়া করে তখন তা কবুল হয়।

পিতা-মাতার দোয়াঃ
যখন কোন পিতা-মাতা তার সন্তানের জন্য দোয়া করে তার দোয়া আল্লাহ তায়ালা কবুল করে নেন।

উপরে উল্লেখকৃত এই অবস্থাগুলোতে যদি থাকেন তবে আপনার দোয়া কবুলের সম্ভাবনা অনেক বেশী। আপনি যদি এসব সম্ভাবনা পেয়ে থাকেন তবে তা হাতাছাড়া করবেন না আশা করি।

যে সময় গুলোতে দোয়া কবুলের সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি,

রাতের শেষ প্রহরঃ
রাতের শেষ প্রহরের সময়। অর্থাৎ মাগরিব থেকে ফজরের পূর্ব পর্যন্ত রাত কে তিনটি অংশে বিভক্ত করুন। এবং রাত্রির শেষ অংশটিতেই দোয়া কবুলের সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি থাকে।

নামাযের সময়ঃ
নামাযের সময়, বিশেষ করে যখন কোন ব্যক্তি সিজদা অবস্থায় থাকে। কেননা সে সময় বান্দা তার প্রভুর প্রতি সবচেয়ে নিকটতম হয়। যার ফলে বান্দা আল্লাহর কাছে যে দোয়াই করে তা কবুল হয়। তাছাড়া রাসূলুল্লাহ (সা.) সিজদার সময় আল্লাহর কাছে বেশি বেশি দোয়া করতে বলেছেন।

নামায শেষেঃ
নামাযের শেষ বৈঠকের সময়। তাশাহুদ পাঠ করার পর থেকে নামায শেষ করার পূর্ব পর্যন্ত দোয়া কবুল হয়।

জিকিররের পরঃ
জিকির করার পর দোয়া কবুল হয়। যা আপনি নামাযের পরে করে থাকেন।

জুমুআর দিনঃ
জুমার দিন খুতবা দেওয়া থেকে আরম্ভ করে সালাত শেষ করা পর্যন্ত এবং বিকেল বেলায় আসর এর পর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত দোয়া কবুল হয়ে থাকে। আবার কেউ কেউ বলে থাকেন মাগরিবের আজানের ঠিক আগের সময়টিতেও দোয়া কবুল হয়। শুক্রবারে একটি নির্দিষ্ট সময় দোয়া কবুল হয়।

ওযু করে ঘুমালেঃ
ওযু করে ঘুমানোর পর রাতে জেগে উঠে যদি সে দোয়া করে তখন তার দোয়া কবুল হয়।

জমজমের পানি পান করার সময়ঃ
জমজম পানি পান করার সময় দোয়া কবুল হয়। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, কোন ব্যক্তি জমজম পানি পান করার সময় যে দোয়াই করবে, তার সেই দোয়াই কবুল হবে।

রমজান মাসেঃ
রমজান মাসে দোয়া করলে দোয়া কবুল হয়। পুরো রমজান মাসকেই বলা হয় দোয়া কবুলের মাস। বিশেষ করে ইফতারের আগ মুহূর্তে দোয়া কবুলের সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি।

কদরের রাতেঃ
লাইলাতুল কদরের রাত, এ রাত্রিকে হাজার রাত্রির চেয়েও উত্তম রাত্রি বলা হয়ে থাকে।আর এ রাতে যদি কেউ কোন দোয়া করে তবে তার সে দোয়া কবুল হয়।

অসুস্থ অবস্থায়ঃ
অসুস্থ ব্যক্তির দোয়া কবুল হয়। রাসূল (সাঃ) দেখার সময় অসুস্থ ব্যক্তির কাছে নিজের জন্য দোয়া চাইতে বলেছেন। কারণ কোন অসুস্থ ব্যক্তির দোয়া ফেরেশতাদের দোয়ার সমতুল্য।

বৃষ্টির সময়ঃ
বৃষ্টি পড়ার সময়, বিশেষ করে যখন মুষলধারে হয় ঠিক সে সময় দোয়া করলে সে দোয়া আল্লাহ তায়ালা কবুল করে নেন। কারণ বৃষ্টি হল আল্লাহর নিয়ামত।

পরিশেষে:-

উপরে বর্ণিত সময় গুলোর কথা সুন্নতের মধ্যে উল্লেখিত এবং দোয়া কবুল হওয়ার পরিস্থিতি গুলোও নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সুন্নতের মধ্যে উল্লিখিত রয়েছে। যা অনুসরণ করে দোয়া করলে আপনার দোয়া ও কবুল হবে ইনশাআল্লাহ। তবে এর বাহিরেও অনেক সময় রয়েছে যা উল্লেখ করা হয়নি যেমন তাহাজ্জুদ নামাজের সময়।

তাই আমাদের এ নিয়ম গুলো মেনে উক্ত সময় গুলোয় ও অবস্থায় দোয়া করার অনুশীলন রাখাতে হবে। উদাহরণস্বরূপ, আমরা শুক্রবারকে ধরতে পারি, অর্থাৎ আপনি যদি শুক্রবারে সারা দিন মনে মনে দোয়া করতে থাকেন , ইনশাআল্লাহ আপনার দোয়া করার সময় সেই নির্দিষ্ট ঘন্টাটির সাথে মিলে যেতে পারে এবং আপনার দোয়াটিও কবুল হতে পারে।

আল্লাহ তায়ালা আমাদের সকলের দোয়াকে কবুল করুক।
আমিন।