সীতাকুণ্ডের ২০ হাজার জেলের কঠিন সময়।

0
3

দেবাশিষ গোলদার, চট্রগ্রাম:

সরকার ঘোষিত লকডাউনের ফলে নদীতে মাছ ধরা বন্ধ থাকায় মানবেতর জীবনযাপন করছে সীতাকুণ্ডের প্রায় ২০ হাজার জেলে। করোনায় কর্মহীন হয়ে পড়ায় তাদের চোখে মুখে এখন শুধুই হতাশা। পরিবার-পরিজন নিয়ে তাদের দিন কাটছে অর্ধাহারে-অনাহারে।
জানা যায়, সীতাকুণ্ডের সৈয়দপুর, মুরাদপুর, বাড়বকুণ্ড, কুমিরা, ভাটিয়ারী, সোনাইছড়ি ও ফৌজদারহাট ইউনিয়নের উপকূলীয় এলাকার জেলে পল্লীতে বসবাস করে প্রায় ২০ হাজার জেলে। করোনার ঝুঁকি এড়াতে সাগরে না যাওয়ায় তাদের সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। সব মিলিয়ে গত কয়েক দিনে তাদের জীবন হয়ে উঠেছে দুর্বিষহ। বাড়বকুণ্ড জেলে পল্লীর প্রদীপ জলদাস জানান, করোনাভাইরাস প্রতিরোধের চেয়ে তিনবেলা খাবার খেয়ে জীবন বাঁচানোটাই এখন দায় হয়ে পড়েছে আমাদের। কাজ বন্ধ থাকায় বর্তমানে ছেলেমেয়ে নিয়ে অনাহারে দিন কাটাচ্ছি, কেউ শোনে না আমাদের কথা। নদীতে মাছ ধরতে গিয়েছিলাম। কোস্টগার্ড বাধা দেওয়ায় চলে এসেছি। সরকারের নিষেধে মাছ ধরতে পারি না। গ্রামে কোনো কাজও নাই। তিনি বলেন, নদীতে থাকার কারণে আমরা কোনো রাজনীতি করার সুযোগ পাই না। যে কারণে নেতাদের কোনো সহযোগিতাও আমরা পাই না।
আলাপকালে গঙ্গাপদ, হিরালাল, সুবল, প্রেমধন, হারাধন ও ভাগ্যধন জলদাশসহ বেশ কয়েকজন জেলে জানান, অন্য পেশার মানুষ ১২ মাস আয় করতে পারে। কিন্তু বছরে কয়েকদফা মাছ শিকার নিষেধাজ্ঞা থাকে জেলেদের। মাঝে মধ্যে পেটের দায়ে কেউ মাছ ধরতে নামলে ভ্রাম্যমাণ আদালত আটক করে জেল-জরিমানা ও জাল-নৌকা জব্দ করে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন অনেক জেলে। এ কারণে এখন করোনার এই সময়ে কেউ ঝুঁকি নিয়ে মাছ ধরতে নামছে না।
চট্টগ্রাম মৎস্যজীবী অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক লিটন দাস বলেন, করোনার সংক্রমণ রোধে জনসমাগম ও চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করার পর থেকে কোনো জেলে নদ-নদী, খাল-বিল এমনকি সাগরে মাছ ধরতে যাচ্ছেন না। এতে কর্মহীন হয়ে পড়েছে সীতাকুণ্ডের হাজারো জেলে পরিবার। তাদের সহায়তা দরকার।
সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিল্টন রায় বলেন, সরকারি ও বেসরকারিভাবে আসা ত্রাণ সহযোগিতা স্ব-স্ব ইউনিয়নের জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে বিতরণ করা হচ্ছে। যারা এখনো ত্রাণ সহযোগিতা পাননি তাদের সহসা ত্রাণের আওতায় আনা হবে।