ঝিনাইগাতীতে জাতীয় পতাকা সাদৃশ্য ধান ক্ষেতে আলোড়ন

0
4

শেরপুর প্রতিনিধিঃ সবুজ ধানক্ষেতে বেগুনি ধানের আবাদে ছড়িয়েছে মুগ্ধতাশেরপুরের ঝিনাইগাতী সীমান্তে এবার পতাকা সদৃশ ধান ক্ষেতে আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। উপজেলার ধানশাইল এলাকায় নূরে আলম সিদ্দিকীর এক খন্ড আবাদি জমিতে সবুজ ধানের মাঝে বেগুনি রঙের ধানের আবাদে ওই আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় ধানশাইল উচ্চ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নূরে আলমের ওই ব্যতিক্রমী ধান ক্

ষেত দেখতে প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকার কৌতুহলী মানুষ ভিড় জমাচ্ছেন। কেউ কেউ থমকে দাঁড়িয়ে জানার চেষ্টা করছেন, এটি কি ধান ? ধানের এমন অবস্থাই বা কি করে হলো? অনেকেই তুলছেন সেলফি।

কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, দেশে প্রথম বেগুনি রঙের ধানের আবাদ শুরু হয় গাইবান্ধায়। সৌন্দর্য ও পুষ্টিগুণে ভরপুর ‘পার্পল লিফ রাইস’ নামে ওই ধান। ওই ধান গাছের পাতা ও কাণ্ডের রং বেগুনি। এর চালের রংও বেগুনি। তাই কৃষকদের কাছে এখন পর্যন্ত ওই ধানের পরিচিতি বেগুনি রঙের ধান বা রঙিন ধান। শিক্ষক নূরে আলম সিদ্দিকী ইউটিউবে বেগুনি রঙের ‘পার্পল লিফ রাইস’ নামের ওই ধান দেখে তা চাষাবাদে তার মাঝেও আগ্রহ জাগে।

ফলে ওই ধানের বীজ সংগ্রহের অনেক চেষ্টার পর পাশ্ববর্তী শালচূড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল হান্নানের মাধ্যমে স্থানীয় আদিবাসী এক কৃষকের কাছ থেকে বীজ সংগ্রহ করেন তিনি। এখন পরীক্ষামূলকভাবে ২ খণ্ড জমিতে ধান রোপণ করেন।
১৫ এপ্রিল সরেজমিনে দেখা যায়, প্রায় এক একর জমিতে ‘বাংলা মতি’ ও কাটারিবুগ’ নামের ২ জাতের ধানের আবাদ।

চারপাশে সবুজ ধানখেতের চর্তুভুজ ও মাঝখানে বৃত্ত আকৃতির বেগুনি রঙের ধানের আবাদ। চারদিকে বিস্তৃত সবুজ ধানক্ষেতের মধ্যে বেগুনি রঙের ওই ধান গাছ চারদিকে মুগ্ধতা ছড়িয়েছে, সৃষ্টি করেছে জাতীয় পতাকা সদৃশ এক বিরল দৃশ্যের। নতুন ওই ধান দেখতে প্রতিদিন মানুষ ভিড় করছে।

এ বিষয়ে শিক্ষক নূরে আলম সিদ্দিকী জানান, এমনিতেই ‘পার্পল লিফ রাইস’ একটি ব্যতিক্রমী ধান। ইউটিউবে তা দেখে তিনি চাষাবাদে উদ্যোগী হন। অনেক কষ্টে বীজ সংগ্রহ করে চাষ করতে গিয়ে সবুজ ধান ক্ষেতের মাঝে গোলাকার আকৃতিতে সবুজ ধান রোপন করে জাতীয় পতাকার আকৃতি গড়ে তুলার চেষ্টা করি। আর তাতেই ওই মনোমুগ্ধকর দৃশ্যের সৃষ্টি হয়েছে।

অনেক কৃষক ওই ধান চাষ করতে তার কাছে বীজও চেয়েছেন। তার মতে, জাতীয় চেতনাবোধ থেকেই মূলত ওই সাধ জেগেছিলো। অপর এক প্রশ্নে জবাবে তিনি বলেন, ধানের ফলন কী রকম হবে, তা দেখার পর ভবিষ্যতে আবাদ বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

আর স্থানীয় দাঁড়িয়ারপাড়ার কৃষক তারেক হোসাইন বলেন, ‘আমি প্রথমে দেখে ভেবে ছিলাম, ধানক্ষেত নষ্ট হয়েছে। পরে জিজ্ঞেস করার পর জানতে পারলাম, এটি বেগুনি রঙের ধান। স্যার (নূরে আলম) এমনভাবে রোপণ করেছেন, দেখতে যেন বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা। আগামীতে আমিও চাষ করবো, ইনশাল্লাহ।’

এ ব্যাপারে ঝিনাইগাতী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির বলেন, এর আগে কখনও এ উপজেলায় এ ধানের চাষ দেখিনি। এবার সীমিত পরিসরে হলেও বেগুনি রঙা ওই ধান চাষ এলাকায় মুগ্ধতা ছড়িয়েছে। ফলন ভালো হলে উৎপাদিত ধানগুলো বীজ আকারে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ওই ধানের পুষ্টিমান বেশি হওয়ায় আগামীতে আবাদও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

তার মতে, ওই ধানের চালের ভাত খেতেও সুস্বাদু। এছাড়া ওই ধান ডায়েবেটিস রোগীদের জন্য বেশ উপকারী।