জনসাধারণের উপর লকডাউনের প্রভাব

0
4

লকডাউন আজ জাতীয় সমস্যায় রুপ নিচ্ছে। বাংলাদেশের মত একটি মধ্যম আয়ের দেশে লকডাউনে সবচেয়ে ভোগান্তিতে পড়ছে রিক্সাচালক,ভ্যানচালক দিনমজুর ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির লোকজন। লকডাউন তাদের জীবনে আজ জাতীয় পাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বাংলায় একটা প্রবাদ আছে যে,”না পারি সইতে না পারি কইতে”।

এই প্রবাদটি মধ্যবিত্তদের সাথে মানায়ও বটে! তারা না পায় সরকার তহবিল থেকে ত্রান, না পারে নিজের রোজগারের টাকায় সংসার চালাতে!

পারবেই বা কেন? লকডাউনে তো মধ্যবিত্ত শ্রেণির লোকদের আয়ের পথ বন্ধ করে দেয় সম্পূর্ণ ভাবে।

এদিকে দেখা যাচ্ছে যে,আর্থিক ভাবে যারা সচ্ছল তারা লকডাউনে খবর শুনেই নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কেনা শুরু করেছে কেউ সাতদিনের জন্য কেউ পনের দিন কেউবা পুরো মাসের! মনে হচ্ছে সামনে ইদ চলছে ইদের বাজার!

অনেকে আবার এসব জিনিস ক্রয় করছে আর উৎসাহের সাথে বলছে ও যে সেটা নাকি করোনার বাজার!

অথচ, মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত লোকজন শুধু চেয়ে চেয়ে দেখে এক বুক কষ্ট নিয়ে সমুদ্র সমান হতাশা নিয়ে দিচ্ছে পাড়ি কীভাবে কাটাবে লকডাউনে দিনগুলো!
এদিকে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দামও বেড়েছে আকাশচুম্বী।

আরো একটি প্রভাব পরতে শুরু হচ্ছে ছাত্রছাত্রীদের উপর।

দেখা যাচ্ছে যে, যারা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রী তারা বেশিরভাগই টিউশন করে নিজের চলাচলের সামান্য পথ সুগম করে।

কিন্তু লকডাউনে এসব টিউশন গুলো ও চলে যায়। যার জন্য নিজের চলার পথটা বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম শুরু হয়। বেকারত্ব তখন আরো আঁকড়ে ধরে কাছে ডাকে।

অনেক ছাত্রছাত্রী আবার হতাশা থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য বেঁচে নেয় আত্মহত্যার পথ।

লেখক: রাজু দাশ
প্রধান সমন্বয়ক, সিলেট বিভাগ, ইচ্ছেপূরণ মানবিক ফাউন্ডেশন।