
সোহেল আহমেদ ভূঁইয়া, নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রতিনিধিঃ পাসপোর্ট অফিস আগারগাঁও কে না চিনে। শুরুতে একটাই অফিস ছিলো পাসপোর্টের জন্য। বর্তমানে অনেকগুলো হয়েছে। যুগের সাথে তাল মিলিয়ে দেশ আজ ডিজিটালে পদার্পণ করেছে। পাসপোর্টের কাজও এখন অনলাইনমুখি। সব কাজ অনলাইনে করা হয়।
কিন্তু তারপরও আগারগাঁও পাসপোর্ট অফিসে সাধারণ মানুষ যেনো অসহায় হয়ে পড়েছে। সকাল ৯টা ১৫ মিনিটে পাসপোর্ট ডেলিভারি শুরু হয় এবং শেষ হয় বেলা ৩টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত।
ব্যবস্থাপনা সবই ঠিক আছে কিন্তু তদারকির অভাবে সাধারণ মানুষ অনেক কষ্ট পায় ডেলিভারি আনতে যেয়ে।
দেখা যাচ্ছে লাইন ধরে ডেলিভারির জন্য একটি টোকেন সংগ্রহ করে, যখন কাংখিত রুমে যায় তখন দেখা যায় খুবই ধীর গতিতে পাসপোর্ট পাচ্ছে মানুষজন।
ডেলিভারির জন্য মোট কাউন্টার ৮টি। ১নং থেকে ৪নং সাধারণ মানুষদের জন্য।৫নং কাউন্টার হলো অফিসিয়াল পাসপোর্টধারীদের জন্য। ৬নং কাউন্টার হলো মুক্তিযোদ্ধা, প্রতিবন্ধী, অসুস্থ ও বয়োজ্যেষ্ঠদের জন্য। ৭নং ও ৮নং টা কখন ব্যবহার হয় কেউ বলতে পারে না। প্রতিদিন কমপক্ষে ১০০০ থেকে ১২০০ পাসপোর্ট ডেলিভারি দেওয়া হয়।
অনেক মানুষ এসে ক্ষোভ প্রকাশ করে জানালো, একটা ছোট রুমে তারা কিভাবে এই সেবা দিচ্ছে? পুরোটা রুমে ২টা ৫টনের এসি লাগানো হয়েছে। উপরে ফ্যান চললেও তার গতি খুবই ধীর।
একজন ধানমন্ডি থেকে পাসপোর্ট নিতে এসে জানালো, তার সুপার এক্সপ্রেস পাসপোর্ট নেওয়া, যার ব্যাংক জমা ১০৩৫০টাকা, অথচ সেই জরুরি পাসপোর্ট এর জন্য আলাদা কোন লাইন নেই। তাহলে সুপার এক্সপ্রেস পাসপোর্টের আলাদা সুবিধা কোথায়।
অনেকের অভিযোগের যেনো শেষই হয় না, এমন একজন জানালো রাস্তা দিয়ে অফিসে আসার সময় অবাধে মহিলা, পুরুষ বলছে তাড়াতাড়ি লািন ছাড়া পাসপোর্ট নিতে চাইলে বলেন করে দেই। এমন কি সেই সকল পাসপোর্ট এর ডেলিভারি হয় কাউন্টার নং ৮ দিয়ে। তাহলে প্রশাসন কি করছে।
যে কিনা সকাল ১০টায় টোকেন নিতে আসে তার টোকেন নং হয় ৩০০ এর বেশি কিন্তু যখন সে ডেলিভারি রুমে যায় তখন মাইকে ডাকা হয় ৮০-১০০ নং এর সিরিয়াল।
অনেকের মনে প্রশ্ন, আমরা যে এতো এতো টাকা দিয়ে পাসপোর্ট করি, আর যদি এখনো দালালের হাতে জিম্মি হই তাহলে এটা লজ্জাজনক। একজন মহিলা যে কিনা তার ছোট বাচ্চা নিয়ে পাসপোর্ট নিতে এসেছেন, সে জানালো এত উন্নয়ন হলো অথচ তারা আমাদের জন্য ওয়াশরুমটা ভালো করে রাখতে পারলো না। ওয়াশরুমে তো যাওয়ার মতো অবস্থা নাই।
নারায়ণগঞ্জ থেকে আগত একজন জানালো, দেশে এতো বেকার ছেলে মেয়ে আছে, তাদেরকে চাকরী দিয়ে তো এসব সমস্যার কিছুটা সমাধান করা যেতে পারে।
কয়েকজন আনসারের সাথে আলাপকালে জানা গেলো, তারা বলছে যে, সকল কাজ সঠিকভাবেই হচ্ছে, তবে এর মাঝেও যে অনিয়ম হচ্ছে না তা নয়। আমরা অনেক সময় স্যারদের কথা শুনতে যেয়ে অনিয়মে জরিয়ে পড়ি।
পরিশেষে সকলের একটাই দাবী, অন্তত ডেলিভারির জন্য এতো ছোট রুম না রেখে বড় একটা রুমে প্রতিস্থাপন করার অনুরোধ করেছেন। এমন কি কাউন্টার দ্বিগুন করার জন্যও অনুরোধ করেছেন।




