
রাঙ্গামাটি প্রতিনিধি:
পশ্চিমা অর্থায়নে পরিচালিত প্রথম আলোকে এই যাবৎ কখনো পার্বত্য রাস্ট্রদ্রোহী বিচ্ছিন্নবাদীদের বিরুদ্ধে একটি সংবাদ প্রকাশ করতে দেখিনি না! যারা রাস্ট্রের স্বাধীন সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে তাদের রক্ষার জন্য, এবং তাদের পথ সুগম করার জন্য বরাবরই প্রথম আলো পত্রিকাকে মিথ্যা, বানোয়াট ও উস্কানীমূলক সংবাদ প্রকাশ করতে দেখা যায়। পার্বত্য চট্টগ্রামে সেনা, পুলিশ, সহ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা নিয়োজিত রয়েছে, তাদের নজরে কোনপ্রকার জঙ্গি কার্যক্রম চোখে পড়ল না। বান্দরবানের লামা আর খাগড়াছড়ির জঙ্গি কার্যক্রম প্রথম আলোর চোখে পড়ল!! অদ্য (বুধবার) ১৪ জুলাই ২০২১ খ্রিঃ “পাহাড়ে নতুন নামে উগ্রপন্থী কার্যক্রম পরিচালনা করেছে আল-কায়েদা মতাদর্শী একটি জঙ্গিগোষ্ঠী।” এই শিরোনামে একটি সংবাদ প্রথম আলো প্রকাশ করেছে। এই সংবাদ সম্পর্কে প্রাথমিকভাবে বলা যায় যে, প্রকাশিত সংবাটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট, এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদীত। কারণ, এর মাধ্যমেই পার্বত্য চট্টগ্রামের সন্ত্রাসবাদকে আড়াল করার একটা ব্যর্থ চেষ্টা করেছে প্রথম আলো। বান্দরবান রোয়াংছড়ির দুর্গম এলাকার নওমুসলিম ওমর ফারুক ত্রিপুরা হত্যাকাণ্ড নিয়ে যখন পার্বত্য সন্ত্রাসী গোষ্ঠী দেশ-বিদেশে সমালোচিত হয়, এবং পর্দার অন্তরালে থাকা পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রকৃত সন্ত্রাসবাদ উন্মোচিত হয়। ঠিক তখনিই প্রথম আলো সে হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি দামাচাপা দেওয়ার অপচেষ্টায় লিপ্ত হয়। সন্ত্রাসীদের হাতে শহীদ হওয়া নওমুসলিম ওমর ফারুক ত্রিপুরা ইসলাম ধর্মে দীক্ষিত হওয়া নিয়ে প্রথম আলোর যতো মাথাব্যথা। অথচ বান্দরবনে একদশ ধরে খ্রিস্টান মিশনারীরা হাজার হাজার সহজসরল মানুষদের জোরপূর্বক বৌদ্ধ ও হিন্দু ধর্ম থেকে খৃস্টধর্মে দীক্ষিত করছে, তার ব্যাপারে তাদের মাথাব্যাথা নেই! জঙ্গিবাদ নিয়ে সারাদেশে যেমন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সর্তক, তেমনিই পার্বত্য চট্টগ্রামেও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী খুবি সর্তক। এযাৎ আমরা পার্বত্য চট্টগ্রামে জঙ্গি হামলা দেখিনি। জঙ্গিরা এখানে আশ্রঢ-প্রসয় পাবে না। যার কারণ, দেশের অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় এখানে অনেক বেশি সক্রিয় রয়েছে, সেনা, পুলিশ ও একাধিক গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা। সুতরাং এখানে জঙ্গি তৎপরতার বিন্দুমাত্র সুযোগ নেই। পার্বত্য চট্টগ্রামে প্রতিনিয়ত হত্যা, অপহরণ, ধর্ষণ, খুন-গুম ও চাঁদাবাজি করে জনজীবন অতিষ্ঠ করে তুলছে পার্বত্য বিচ্ছিন্নতাবাদী সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোই- এই সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোই পার্বত্য চট্টগ্রাম-কে বিচ্ছিন্ন করার জন্য নানান রকম রাস্ট্রদ্রোহীতামূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছে; একের পর এক রাস্ট্রীয় সম্পত্তির উপর হামলা করছে; আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর উপর হামলা করছে; এসব বিষয়ে প্রথম আলো পত্রিকাকে আমরা কোন সংবাদ প্রকাশ করতে এযাৎ দেখিনি; অথচ আজ তাদের দেখলাম পার্বত্য রাস্ট্রদ্রোহী বিচ্ছিন্নবাদী সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর পক্ষে সোচ্চার হতে! প্রথম আলোর সংবাদ সম্পর্কে বলতে চাই- প্রথম আলো যখন বলেছে, “বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি জঙ্গি কার্যক্রম রয়েছে ইত্যাদি।” তাহলে প্রথম আলো পত্রিকা ও তার নাম প্রকাশ না করা বিশেষ প্রতিনিধি’কে অবশ্যই পাহাড়ের জঙ্গি আস্তানা কিংবা জঙ্গি তৎপরতা সম্পর্কে প্রশাসনকে তথ্য দিতে হবে, এবং জঙ্গিদের অতি শীঘ্রই ধরে দিতে হবে৷ যদি প্রথম আলো জঙ্গিদের সম্পর্কে স্পষ্ট তথ্য, এবং জঙ্গিদের ধরে দিতে না পারে, ‘তাহলে প্রথম আলো পত্রিকার সম্পাদক ও বিশেষ প্রতিনিধির বিরুদ্ধে মিথ্যে সংবাদ প্রকাশের অভিযোগে তথ্য প্রযুক্তি আইনে মামলা করা হোক। এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করার নিমিত্তে উস্কানীমূলক সংবাদ প্রকাশের দায়ে অতিবিলম্বে মামলা করা হোক। এর সাথে জড়িত প্রথম আলোর বান্দরবান জেলা প্রতিনিধির বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা নেওয়া হোক। স্থানীয় প্রতিনিধির যোগসাজশ ছাড়া এমন তথ্যহীন, মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যে প্রণোদীত সংবাদ ঢালাওভাবে প্রকাশিত হওয়ার কথা বিশ্বাস যোগ্য নয়। স্থানীয় প্রতিনিধির যোগসাজশে মিথ্যা ও বানোয়াট সংবাদ প্রকাশ করেছে। আরেকটি বিষয় সেটি হলো- অসৎ উদ্দেশ্যেই মনগড়াভাবে সোর্স হিসেবে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে প্রথম আলো ব্যবহার করেছে, মূলত সংবাদটি পাঠকদের গিলানোর জন্য৷ প্রথম আলোর মিথ্যা ও বানোয়াট সংবাদের বিষয়ে পার্বত্যবাসীদের নিরবতা খুবি দুঃখজনক, সচেতন সবাইকে প্রতিবাদ করতে হবে। সুযোগ সন্ধানী আগাছা গুলো এই সংবাদকে পুঁজি করে ইসলাম ধর্ম ও তার অনুসারীদের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নানান অপপ্রচার ও কুৎসা রটিয়ে নেতিবাচক প্রভাব ফেলার অপচেষ্টা করছে। পার্বত্য চট্টগ্রামের সন্ত্রাসবাদ আড়াল করা জন্য, এবং পার্বত্য রাস্ট্রদ্রোহী বিচ্ছিন্নবাদীদের কার্যক্রম সুগম করার জন্য প্রথম আলো পত্রিকাকে রাস্ট্রদ্রোহীতার মুখোমুখি করার দাবি জোরদার হচ্ছে। প্রথম আলো বরাবরই পার্বত্য চট্টগ্রাম নিয়ে জঘন্যতম মিথ্যাচার ও সাম্প্রদায়িক উস্কানীমূলক সংবাদ প্রকাশ করে আসছে। পশ্চিমা বিশ্ব, কতিপয় এনজিও, মিশনারী, কূটনীতিক ও খৃস্টধর্ম প্রচারকরা প্রথম আলোকে অর্থায়ন দিয়ে পরিচালনা করছে। এটি প্রথম আলোর অতীত কর্মকাণ্ডে ও বর্তমানে প্রকাশিত সংবাদে প্রমাণ দিচ্ছে। অদৃশ্য অপশক্তির ইন্ধনে প্রথম আলো প্রবল ইসলাম বিরোধী হয়ে যাচ্ছে! যার কারণে প্রথম আলো মনগড়া, অসত্য, জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করার সহ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করার অংশ হিসেবে উস্কানিমূলক সংবাদ প্রকাশ করে আসছে। সে সাথে পার্বত্য রাস্ট্রদ্রোহী বিচ্ছিন্নবাদীদের পক্ষাবলম্বন করে পার্বত্য চট্টগ্রামকে বিচ্ছিন্ন করার জন্য গভীর ষড়যন্ত্র করে আসছে৷ প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি বিশেষ অনুরোধ, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করার জন্য উস্কানিমূলক “মিথ্যা ও বানোয়াট” সংবাদ প্রকাশ করার দায়ে প্রথম আলো পত্রিকা ও তার স্থানীয় বান্দরবান প্রতিনিধির বিরুদ্ধে যথাযথ আইনী পদক্ষেপ নিন।




