আরাফাত রহমান রাজবাড়ী: সোনার মানুষ, সোনার দেশ, এরই নাম বাংলাদেশ। প্রায় ১৮ কোটি জনসংখ্যা নিয়ে গঠিত এই দেশের জনসংখ্যার প্রায় তিন ভাগের একভাগই নারী এবং একভাগ পুরুষ৷ তবুও বিভিন্নভাবে, বিভিন্নক্ষেত্রে অবহেলিত নারী৷ অবহেলার শুরুটা হয় জন্মের পর থেকেই৷ সন্তান জন্মের পর যেকনো পরিবারেই নেমে আসে আনন্দের ঢল৷ আনন্দটা দ্বিগুন বেড়ে যায় যদি সন্তানটা ছেলে হয়৷ মেয়ে হলে যেন সবার কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়ে যায়৷ বিছানায় সবাই মেয়ে চায়, অথচ মেয়ে জন্ম নিলে কেও খুশি হয় না৷ অবহেলার শুরুটা মুলত এখান থেকেই৷ এইভাবেই আস্তে আস্তে বড় হওয়া৷ ৬ বছর বয়সে ছেলেদের যখন স্কুলে ভর্তি করা হয় পড়াশোনা করার জন্য, তখন মেয়েকে স্কুলে ভর্তি করা নিয়ে পরিবারের সকলের ভিন্ন ভিন্ন মত৷ যেই বয়সে ছেলেদের হাতে বই, খাতা, কলম ধরিয়ে দেওয়া হয়, মেয়েদেরকে সেই বয়সে হাতে হাড়ি পাতিল ধরানো হয়, শেখান হয় ঘরের কাজ৷ এমনিভাবে পড়াশোনার প্রতি অবহেলায় প্রাথমিক শিক্ষা শেষ হওয়ার পর যখন ছেলেকে কিভাবে ভালো স্কুলে ভর্তি করবে এই চিন্তায় ব্যাস্ত থাকে, তখনমেয়েদের নিয়ে ভাবা হয় কিভাবে তাকে ভালো পাত্রের সাথে বিয়ে দেওয়া যায়৷ ১৬ বছর বয়সে ছেলেদের বাল্যকালের উপাধি দেওয়া হয়, আর মেয়ের বাড়িতে জমে যায় পাত্রপক্ষের ভীড়৷ প্রবল ইচ্ছা থাকা সত্বেও পড়াশোনার সুযোগ পায় না অনেক মেয়ে৷ পরিবারের ইচ্ছা জোড় করে দেওয়া হয় বিয়ে৷ এখানেই থমকে যায় তাদের জীবন৷ সব স্বপ্নের যে এখানেই ইতি৷ ১৮ বছর বয়সে ছেলেরা যখন কিশোর, মেয়েরা তখন নিজের সংসার আর বাচ্চা সামলাতে ব্যাস্ত৷ এভাবেই ভেঙে যায় অনেক নারীর স্বপ্ন৷ অবহেলার কারনে তারা বঞ্চিত হয় শিক্ষার মতো গুরুত্বপুর্ একটি মৌলিক চাহিদা থেকে৷ তাদের একটাই অপরাধ, তারা মেয়ে৷ আমাদের অসুস্থ সমাজে মেয়ের কথার কোনো গুরুত্বই দেওয়া হয় না৷ বদলানো দরকার আমাদের মানসিকতা, মেয়ের বিয়ে দেওয়ার আগে আমাদের একবার হলেও তার মতামত টা জানা উচিত৷ কারন জীবনতা তার৷ আর মানুষ হিসাবে নিজের স্বপ্ন পুরনের একটা সূযোগ পাওয়া সবার অধিকার৷ আমাদের উচিত ছেলেদের মত মেয়েদেরও সমানভাবে মুল্যায়ন করা৷ তাদের স্বপ্ন পুরনের অন্তত একটা সুযোগ দেওয়া৷ তাই সবার আগে বদলাতে হবে আমাদের মানসিকতা৷ তাহলেই বদলাবে আমাদের সমাজ।


