ডিপিএড বুক রিভিউ প্রাথমিক গণিত ২য় শ্রেণি

2
126

ডিপিএড বুক রিভিউ প্রাথমিক গণিত ২য় শ্রেণি

ডিপিএড বুক রিভিউ| প্রাথমিক গণিত বুক রিভিউ | ডিপিএড পুস্তক পর্যালোচনা

সুচিপত্র

ক্রঃনং বিষয়বস্তু পৃষ্ঠা
০১ সূচনা আলোচনা
০২ বিষয়বস্তু আলোচনা
০৩ বিষয় সূচির পরিচিতি
০৪ অধ্যায় ভিত্তিক পর্যালোচনা
০৫ বিষয়বস্তুর বিশ্লেষণ/মতামত
০৬ উপসংহার

 

গ্রন্থের নামঃ  প্রাথমিক গণিত দ্বিতীয় শ্রেণি।

রচনা ও সম্পাদনাঃ
আ, ফ, ম, খোদাদাদ খান
সালেহ মতিন
হমিদা বানু বেগম
ড. মোঃ মোহসীন উদ্দিন

শিল্প সম্পাদনাঃ
হাশেম খান

প্রকাশকঃ
জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড ৬৯-৭০, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকাÑ১০০০।

ডিজাইনঃ
জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড, বাংলাদেশ।

মুদ্রণ সংখ্যাঃ
প্রথম মুদ্রণ: আগস্ট, ২০১২
পনিমর্জিত সংঙ্করণ: আগস্ট, ২০১৪
পুন মুদ্রণ: আগস্ট, ২০১৯

মুদ্রণেঃ
সীমান্ত প্রেস এন্ড পাবলিকেশন, মোগলনগর, মাতুয়াইল, ডেমরা, ঢাকাÑ ১৩৬২।

মূল্যঃ
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রনালয়ের অধীনে চতুর্থ প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় গণ প্রাজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কতৃক বিনমূল্যে বিতরণের জন্য।

প্রাপ্তিস্থানঃ জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড

পৃষ্ঠাঃ ১০০

Book Review English for today Class five

বিষয় সূচির পরিচিতি/ অধ্যায় সমুহঃ

অধ্যায় বিষয় বস্তু পৃষ্ঠা
সংখ্যা
যোগ: ২ অঙ্কের সংখ্যা ১৭
বিয়োগ: ২ অঙ্কের সংখ্যা ২৪
যোগ বিয়োগ সম্পর্ক ৩৪
গুন ৩৭
ভাগ ৬৪
বাংলাদেশি মুদ্রা ও নোট ৭৪
ভগ্নাংশ ৭৬
পরিমাপ ৭৯
১০ জ্যামিতিক আকৃতি ৮৮
১১ নিজে করি ৯৩
পরিশিষ্ট ১: সংখ্যা পড়া ৯৬
পরিশিষ্ট ১: গুণের কার্ড ৯৭

 

অধ্যায় ভিত্তিক পর্যালোচনাঃ

নিম্নে বইটির মোড়ক সহ অধ্যায় ভিত্তিক পর্যালোচনা করা হলো

মোড়কঃ একটু মোটা কাগজে বইটির কভার পেজ করা হয়েছে। উভয় পৃষ্ঠায় রঙ্গিন পেজ ব্যবহার করা হয়েছে। প্রথম পৃষ্ঠায় নীল আকাশের নিচে সবুজ চারণ তৃণ ভূমি। তৃণ ভূমিতে দুইটি আম গাছ। একটি গাছে পাকা আম অপর গাছে কাঁচা আম দেখানো হয়েছে। নিচে দুটি সাদা একক ও দমক স্থান রেখে জানতে চাওয়া হয়েছে সেখানে কয়টি কাঁচা ও পাকা আম রয়েছে। দুই জন শিক্ষার্থী তারা আমের সংখ্যা কতটি হয়ে তা চিন্তা করছে। পৃষ্টার উপরে বইয়ের নাম এবং নিচে বোর্ডের নাম লগুমহ ব্যবহার করা হয়েছে। শেষের পৃষ্টায় উপরে শিক্ষাবর্ষ তার নিচে নীতি বাক্য সহ একটি লগু ব্যবহার করা হয়েছে। মাঝখানে বই বিতরনের মামনীয় প্রধানমন্ত্রী শেষ হাসিনা সহ কয়েকজন শিক্ষার্থীর ছবি ব্যবহার করা হয়েছে। ছবির নিচে একটি নীতি বাক্য স্বাস্থ্যই সকল সুখের মূল এবং তার নিচে বোর্ডের লগু ব্যবহার করা হয়েছে। বইয়ের এক পাশে একটি স্কেল দেওয়া হয়েছে এবং সবশেষ নিচে বোর্ডের নাম ব্যবহার করা হয়েছে।

প্রথমেই প্রফেসর নারায়ন চন্দ্র সাহা, চেয়ারম্যান জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড, বাংলাদেশ প্রমঙ্গ-কথার মাধ্যমে বইটি বৈশিষ্ট্য তুলে ধরেছেন এবং লেখকদের ধন্যবাদ জাপন করেছেন।
চরিত্র ও প্রতীকের ব্যখ্যাঃ সম্পূর্ণ বই টিেিত দুইজন শিক্ষার্থী রেজা ও মিনার কথোপোকথন দেখানো হয়েছে এবং তিনটি প্রতীক ব্যবহার করা হয়েছে।

মূল প্রশ্ন: এই প্রশ্নের মাধ্যমে অধ্যায়ের ভালভাব প্রকাশ করা হয়েছে।
কাজ: কোনো একটি সমস্যা সমাধানে শিক্ষকের সহযোগিতায় শিক্ষার্থীরা আলোচনা ও যৌক্তিক চিন্তা করবে।
অনুশীলন: শিক্ষার্থীরা সমাধান করবে, শিখন অগ্রগতি যাচাই করা যাবে।
১. সংখ্যাঃ
১.১ স্থানীয় মানঃ এখানে কাঁচা আম পাকা গণহা করে একক এবং দশক স্থানীয় মানের ধারণা দেওয়া হয়েছে। উাপসরণ হিসাবে দশের গুচ্ছ ব্যবহার করা হয়েছে।
১.২ সংখ্যা তুলনাঃ সংখ্যার তুলনা দেখনো হয়েছে। ছোট এবং বড় সম্পর্কে ধারণা দেওয়া হয়েছে।

১.৩ সংখ্যা (৫১-১০০)ঃ (৫১-১০০) পর্যন্ত সংখ্যার ধারণা দেওয়া হয়েছে। অর্ধবস্তব ছবি ও দশের গুচ্ছ উপকরণ ব্যবহার করে (৫১-১০০) পর্যন্ত অঙ্কে লেখা ও কথায় লেখার নিয়ম দেখানো হয়েছে।
১.৪ জোড় ও বিজোড় সংখ্যাঃ (১-১০০) পর্যন্ত জোড় সংখ্যা গোল চিহ্ন দিয়ে এবং বিজোড় সংখ্যা গোল চিহ্ন ছাড়া দেখানো হয়েছে। যা অনুশীলনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা তাদের শিখন ফল অর্জনে সহায়ক হবে।
১.৫ নানবিধ উপায়ে সংখ্যা গণনাঃ নানা উপায়ে সংখ্যা গণনার ধারণা দেওয়া হয়েছে। একই জাতীয় সংখ্যা কে একই চিহ্ন দ্বারা আবদ্ধ করে দেখানো হয়েছে।
১.৬ ক্রমবাচক সংখ্যাঃ অর্ধবস্তব উপকরণ ব্যবহার করে (১-১০) পর্যন্ত ক্রমবাকে সংখ্যার ধারণা দেওয়া হয়েছে।
১.৭ নিজে করিঃ এখানে মূল্যায়নের জন্য কিছু অনুশীলন দেওয়া হয়েছে। যা মূল্যায়নে শিক্ষার্থীদের অগ্রগতি জানা সম্ভব হবে।
২. যোগঃ ২ অঙ্কের সংখ্যাঃ অর্ধবাস্তব উপকরণ ব্যবহার এবং দশের গুচ্ছ ব্যবহার করে ২ অঙ্কের সংখ্যার যোগের ধারণা দেওয়া হয়েছে।

২.২ যোগঃ এখানে একক একক যোগ করে এককের ঘরে এবং দশকে দশক যোগ দেখানো হয়েছে। কিভাবে হাতে রেখে যোগ করতে হয় সে বিষয়ে ধারণা দেওয়া হয়েছে।
২.৩ নিজে করিঃ মূল্যায়নের জন্য এখানে কিছু অনুশীলনী দেওয়া হয়েছে।
৩. বিয়োগঃ ২ অঙ্কের সংখ্যাঃ
৩.১ বিয়োগঃ দশের গুচ্ছ করে সেখান থেকে যা বিয়োগ করতে হবে তা গুচ্ছ থেকে কেটে নেয়া হয়েছে যেন শিক্ষার্থীরা সহজেই বুঝতে পারে। মূল্যায়নের জন্য কিছু অনুশীলন দেওয়া হয়েছে।
৩.২ বিয়োগঃ এখানে হাতে রেখে বিয়োগ দেখানো হয়েছে। উপরের একক সংখ্যা ছোট হলে দশক হতে এক দশক এনে এককের সাথে যোগ করে বিয়োগ দেখানো হয়েছে।
৩.৩ নিজে করিঃ পূর্ব পাঠ হবে কতটা শিখন ফল অর্জিত হয়েছে সেটা মূল্যায়নের জন্য বিয়োগের কিছু সমস্যা দেয়া হয়েছে।
৪. যোগ ও বিয়োগের সর্ম্পকঃ অর্ধবাস্তব ছবি ব্যবহার করে যোগ ও বিয়োগের সর্ম্পক দেখানো হয়েছে। খালি ঘর ব্যবহার করে ও এদের মনপর্দ দেখানো হয়েছে। শেষে মূল্যায়নের কিছু অনুশীলন দেয়া হয়েছে।

৫. গুণঃ
৫.১ গুণের ধারনাঃ অর্ধবাস্তব উপকরণ ব্যবহার করা গুণের প্রাথমিক ধারণা প্রদান করা হয়েছে। যোগের মাধ্যমে ও গুণের ধারণা দেখানো হয়েছে।
৫.২,৫.৩,৫.৪,৫.৫,৫.৬ ২ থেকে ১০ এর গুণঃ অর্ধবাস্তব ছবি ছকের মধ্যে ডট ব্যবহার করে গুন করা দেখানো হয়েছে। গুণের কার্ড দিয়ে ৪টি খেলার মাধ্যমে গুণের ধারনা দেয়া হয়েছে। মূল্যায়নের জন্য কিছু সমস্যা দেওয়া হয়েছে। ০ এর গুণের ধারনা দেওয়া হয়েছে।
৫.৭,৫.৮ গুণের নামতা দেখিঃ এখানে (১-১০) পর্যন্ত গুণের নামতা দেওয়া হয়েছে। গুণের তুলনা দেখনা দেখানো হয়েছে।
৫.৯ নিজে করিঃ গুণের নামতার সাহায্যে খালি জায়গা পূরণ করা দেখানো হয়েছে এবং মূল্যায়নের কিছু অনুশীলন রাখা হয়েছে।
৬. ভাগঃ
৬.১ প্রত্যেকে কয়টি করে পাবে?
অর্ধবাস্তব উপকরণ ব্যবহার করে ভাগের ধারনা এবং উক্ত প্রশ্নের উত্তর খুজার চেষ্টা করা হয়েছে।

৬.২ কত জনকে দেয়া যাবে?
অর্ধবাস্তব উপকরণ দিয়ে জনের হিসাব দেখানো হয়েছে। মূল্যায়নের জন্য কিছু অনুশীলন দেয়া হয়েছে।

৬.৩ ভাগের হিসাবঃ এখানে খাড়াভাবে ভাগ করার কৌশল দেখানো হয়েছে। এছাড়া এখানে সমস্যা তৈরির কৌশল দেখানো হয়েছে।

মন্তব্য
বইটিতে বানান ভ’লের তেমন কোন তারতম্যতা চোখে পড়েনি যা উক্ত বইটির পরিমার্জিত সংস্কারণের একটি সফলতা বলা যায়। তবে অধ্যায় গুলো আরো স্বল্প পরিসরে তুলে ধরা গেলে শিক্ষার্থীরা অধ্যায় গুলো অধ্যায়নের ক্ষেত্রে মনোযোগ হারাবেনা।

উপসংহারঃ
পরিশেষে উপরের আলোচানা হতে এটা স্পষ্ট প্রতিয়মান হয় যে, প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দি¦তীয় শ্রেণির গণিত শিক্ষার্থীদের ক্ষতভাগ শিখন ফল অর্জনের জন্য বইটি খুবই গুরুত্ব পূর্ণ তাৎপর্য বহন করে। লেখন গণ বইটিতে পাতায় পাতায় শিখন ফল অর্জনের জন্য অক্লান্ত পরিশ্রম করে বইটি রচনা ও সম্পাদনা করেছেন। প্রতিটি অধ্যায়ে শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক চিন্তার বিকাশে ঘটিয়েছেন। বইটি সম্পূর্ণ ভাবে আয়ত্ব করলে প্রত্যেকটি শিখনফল অর্জিত হবে বলে আমি বিশ্বাস করি। প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের সময়োপো যোগী পরিবেশ ও শিখনের ধরনের প্রতি বিশেষ দৃষ্টি রেখেই বইটি রচনা করা হয়েছে। আমরা শিক্ষকগণ যদি শিখন মেখানো কার্যাবলী ঠিকমত পরিচালিত করি তাহলে শিক্ষার্থীদের শত ভাগ শিখন ফল অর্জন করানো সম্ভব হবে বলে আমি মনে করি।