অনিশ্চয়তায় সময় কাটছে ডিপিএড প্রশিক্ষণার্থীদের

0
1807

সময়ের পাতা : প্রচণ্ড মানসিক চাপ ও চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন দেশের ৬৭ টি পিটিআই এ ২০২০-২০২১ শিক্ষাবর্ষে ডিপিএড প্রশিক্ষণরত ১৯ হাজার নয়শত তেতাল্লিশ জন প্রশিক্ষণার্থী। অনিশ্চয়তায় সময় কাটছে ডিপিএড প্রশিক্ষণার্থীদের

জানা যায়, প্রশিক্ষণের অংশ হিসাবে চতুর্থ টার্মে জানুয়ারি থেকে জুন মাস পর্যন্ত তাদের নিজ বিদ্যালয়ে অবস্থান করে ডিপিএড প্রশিক্ষণের বিভিন্ন কার্য্যক্রম পরিচালনা করতে হয়, কিন্তু কর্তৃপক্ষের হঠাৎ করে স্বশরীরে চুড়ান্ত পরীক্ষা গ্রহণের প্রস্তুতি তাদের দুশ্চিন্তাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। গত বছরের ১৮ মার্চ থেকে করোনা মহামারির সংক্রমণ থেকে শিক্ষার্থীদের সুরক্ষার প্রয়োজনে বন্ধ আছে দেশের শ্রেণি শিক্ষা কার্য্যক্রম। কিন্তু এ দীর্ঘ সময়েও চলমান ছিল ডিপিএড প্রশিক্ষণার্থীদের অনলাইন শিক্ষা কার্য্যক্রম।

এ সময়ের মধ্যে প্রশিক্ষণার্থীদের করতে হয়েছে পাঠ্যপুস্তক পর্যালোচনা, ইনকোর্স প্রশিক্ষণের অংশ হিসাবে করতে হয়েছে প্রশ্নপত্র প্রণয়ন, এ্যাসাইনমেন্ট তৈরি, লগবই ও প্রতিবেদন তৈরি। এছাড়াও বিভিন্ন সামাজিক কার্য্যক্রমও তাদের সম্পাদন করতে হয়েছে।

শিক্ষা বর্ষের শুরু হতে পাঠ্যপুস্তক পাওয়ার কথা থাকলেও গত বছরের শেষ দিকে সেপ্টেম্বর মাসে প্রথম তাদের হাতে পাঠ্যপুস্তক তুলে দেওয়া হয়। প্রশিক্ষণের কাজে সারা বছর ব্যস্ত রাখা হলেও প্রশিক্ষণার্থীরা গত ডিসেম্বরে চুড়ান্ত মূল্যায়নের জন্য প্রস্তুতি নেয়। কিন্তু সে সময়ে পরীক্ষা না নিয়ে করোনার এ দ্বিতীয় ঢেউয়ের মধ্যে কর্তৃপক্ষের চুড়ান্ত পরীক্ষা নেয়ার প্রস্তুতি প্রশিক্ষণার্থীদের শঙ্কিত করে তুলেছে স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিয়ে।

একাধিক প্রশিক্ষণার্থী বাংলাদেশ শিক্ষা’র সাথে আলাপকালে জানান, দেশের অনেক স্থানে তাদের পরিবারের সদস্যসহ নিজেরা করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। বর্তমানে বিদ্যালয়ের শ্রেণি পাঠদান বন্ধ থাকলেও বিদ্যালয় খোলার প্রস্তুতিমূলক কার্য্যক্রমে এসব শিক্ষককে প্রতিদিন উপস্থিত থেকে নিজ বিদ্যালয়কে গোছাতে হচ্ছে, সহযোগিতা করতে হচ্ছে প্রাতিষ্ঠানিক বিভিন্ন কার্য্যক্রমে।অনেক প্রশিক্ষণার্থী জানান দেশের অনেক এলাকায় ইন্টারনেট ব্যবস্থা দূর্বল থাকার কারণেও অনলাইন ক্লাসে অনেকে মনোসংযোগ করতে পারেননি। চলমান অবস্থা এবং প্রশিক্ষণার্থীদের সার্বিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা বিবেচনায় এনে ফেস টু ফেস পরীক্ষার পরিবর্তে ইনকোর্স মূল্যায়নের ভিত্তিতে চুড়ান্ত ফল প্রদানের দাবী জানিয়েছেন এসকল শিক্ষক।

এ দাবীতে বিভিন্ন পিটিআইতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে সমাবেশ ও স্মারকলিপিও দেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য করোনা মহামারির কারণে দেশের সকল পাবলিক পরীক্ষা বাতিল করে শিক্ষার্থীদের অটোপাশ দেওয়া হয়েছে। এ অবস্থায় ডিপিএড প্রশিক্ষণার্থীদের সার্বিক বিষয় বিবেচনা করে এসকল শিক্ষকদের দাবীর সাথে সহমত পোষণ করেছেন অনেক শিক্ষক সংগঠনও।